
শ্রম কূটনীতির সাফল্যে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
ড. মো. শামছুল আলম [সূত্র : জাতীয় অর্থনীতি, ১২ আগস্ট ২০২৬]
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকেই কর্মী যাওয়া শুরু হতে চলেছে। দীর্ঘদিন পর পুনরায় বিশাল এ শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জনই বটে। এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রম কূটনীতি যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে তারও একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষত, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এজন্য এটিকে সরকারের অর্থনীতি ও কূটনীতির একটি সমন্বিত সাফল্য বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার মতো এত বড় একটি শ্রমবাজার বন্ধ অবস্থা থেকে রাতারাতি উন্মুক্ত হয়নি। এই অচলাবস্থা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গত কয়েক মাসে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা পরিচালনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা, সরকারি প্রতিনিধিদলের বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হয়েছে। গত ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর এই প্রক্রিয়াকে নতুন গতি দেয়। সফর জুড়ে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি। বিশেষ করে, শ্রমবাজার পুনরায় চালু, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। অবশ্য সফরজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দেয় সফর কতটা ফলপ্রসূ ছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর মাত্র এক মাসের মাথায় বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
প্রশ্ন আসতে পারে, অন্য যে কোনো দেশের থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের অনেক দেশ কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখলেও সরকার তাতে খুব একটা বেশি তৎপরতা দেখায় না। কিন্তু মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে এত বেশি তৎপরতা কেন? বলা বাহুল্য, মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, সেবা এবং পাম অয়েল শিল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বার্ষিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক দিয়ে সৌদি আরবের পরেই ছিল মালয়েশিয়ার অবস্থান। শুধু সেই বছরেই মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের দেশ ছিল এটি। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রভাব এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। ফলে হাজারও কর্মপ্রত্যাশীর বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন থেমে যায়, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির একটি বড় সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হয়। গত দুই বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রবাসী কর্মীদের অবদান হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিশাল অবদান রয়েছে। এখন সরকারের শ্রম কূটনীতির সফলতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি গভীর। প্রতিবছর লক্ষাধিক তরুণ কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। দেশের ভেতরে শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়লেও বিদেশে দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি পাঠানো এখনও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে হাজার হাজার কর্মী বৈধ উপায়ে সেখানে কাজের সুযোগ পাবেন। গত দুই বছরে কয়েক লাখ জনশক্তি অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শুধু তাদের ব্যক্তিগত আয়ই বাড়বে না, বরং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করবে, আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বলতে গেলে, দেশের বহু পরিবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে এগিয়ে যেতে পেরেছে এই প্রবাসী আয়ের কারণে। গ্রামের অর্থনীতি সচল রাখতে, স্থানীয় বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি করতে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কয়েক দশকে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে এই সাফল্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও জড়িয়ে আছে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেটিকে সুশাসনের ভিত্তিতে পরিচালনা করা। একসময় অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, সীমিতসংখ্যক এজেন্সির প্রভাব এবং প্রতারণার কারণে বহু শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পাননি, আবার অনেকেই ন্যায্য মজুরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। যদি সেই পুরোনো বাস্তবতা ফিরে আসে, তাহলে আজকের কূটনৈতিক সাফল্যের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এ কারণেই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, অযৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্রত্যেক শ্রমিককে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও আইনি সচেতনতার শিক্ষা দিতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের অধিকার রক্ষায় দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রম কূটনীতির প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে, যখন একজন সাধারণ শ্রমিকও মনে করবেন যে রাষ্ট্র তার পাশে রয়েছে।
অবশ্য তারেক রহমানের সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার শ্রম কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন শ্রম গ্রহণকারী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, শ্রমচুক্তি সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান বাজারগুলোকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের শ্রম কূটনীতি ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের শ্রম কূটনীতির বিকাশ শুরু হয় বিএনপি সরকারের হাত ধরেই। বিশেষ করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং শ্রমনির্ভর অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বিদেশে বাংলাদেশি জনশক্তি পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করে এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই ধারাবাহিকতার উত্তরাধিকার আজও বাংলাদেশের শ্রম কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালেও বাংলাদেশের সামনে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া শ্রমবাজার সেই সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত মাত্র। এর পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জার্মানি, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং শ্রম কূটনীতিকে অর্থনৈতিক কূটনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে হবে।
এক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে আশাব্যঞ্জক। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, আরবি ও মান্দারিনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানোর জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। কারণ বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং মৌলিক প্রয়োজন। কেবল ভাষাগত অদক্ষতার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য যোগ্য তরুণ-তরুণী আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন তাদের ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।
বস্তুত, শ্রম কূটনীতির প্রকৃত সাফল্য কেবল নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সেই বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব নির্মূল করতে হবে, অভিবাসন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা অর্জন ও ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এসব বিষয় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ যদি দক্ষতা উন্নয়ন, সুশাসন, জবাবদিহি এবং কার্যকর শ্রম কূটনীতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের এক নতুন যুগের সূচনা হবে। অচিরেই এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



