মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ : কাঙ্ক্ষিত নাকি অবিবেচনাপ্রসূত

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ : কাঙ্ক্ষিত নাকি অবিবেচনাপ্রসূত
কলামআন্তর্জাতিক

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ : কাঙ্ক্ষিত নাকি অবিবেচনাপ্রসূত

২৪ আগস্ট, ২০২৬

লে. কর্নেল মোদাসসের হোসেন খান (অব.) বীর প্রতীক [প্রকাশ : যুগান্তর, ২৪ আগস্ট ২০২৬]

পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে গত ৭ আগস্ট সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মুসলিম দুনিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এর মূলনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট তিন সদস্যের যে কোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণকে সবার বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসাবে গণ্য করা হবে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো একে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত যৌথ আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে।

 

বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি শুধু তিনটি বন্ধুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় কি না-তা নয়। মূল প্রশ্ন হলো : এতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা যতটা বাড়বে, তার বিনিময়ে সামরিক দায়বদ্ধতা, কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করা কি যুক্তিসংগত হবে? চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব? এই চুক্তির পেছনে কয়েকটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য রয়েছে?

 

প্রথমত, এটি একটি অধিকতর আঞ্চলিক ও স্বনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি, তুরস্কের বৃহৎ সামরিক বাহিনী ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের অভিজ্ঞ সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত, এটি সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; তবু ইরান, ইসরাইল কিংবা ভবিষ্যতের অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর কৌশলগত প্রভাব অনিবার্য।

 

তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স ও নৌপ্রযুক্তিতে তুরস্ক, ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উন্নয়নে পাকিস্তান এবং অর্থায়ন ও বৃহৎ ক্রয়ক্ষমতায় সৌদি আরবের সক্ষমতা যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

 

তবে চুক্তিটি এখনো ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রতিষ্ঠান নয়। এর সমন্বিত কমান্ড, স্থায়ী বহুজাতিক বাহিনী এবং বিস্তারিত যৌথ যুদ্ধপরিকল্পনা এখনো পরিপক্ব হয়নি; প্রকাশ্যে ঘোষিত নির্দিষ্ট সামরিক দায়বদ্ধতাও সীমিত।

 

 

তাই এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে কয়েকটি প্রশ্নের ওপর : ১. সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান কি সত্যিই যুদ্ধে যাবে? ২. ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে সৌদি আরব কি পাকিস্তানের পক্ষে অংশ নেবে? ৩. পাকিস্তানের স্বার্থে তুরস্ক কি কোনো বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি নেবে? ৪. ‘সশস্ত্র আক্রমণ’ শব্দটির ব্যাখ্যা কি তিন দেশ একইভাবে করবে?

 

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র জোটটির সামগ্রিক প্রতিরোধক্ষমতার ভাবমূর্তি অবশ্যই বৃদ্ধি করে। কিন্তু এটিকে সৌদি আরব বা তুরস্কের ওপর আনুষ্ঠানিক পাকিস্তানি পারমাণবিক ছাতা হিসাবে দেখা এখনই সমীচীন নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

 

চুক্তিটি কি দুর্বল বা ভেঙে যেতে পারে?

এর সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতা হলো-তিন দেশের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ এক নয়। পাকিস্তানের ঐতিহ্যগত প্রধান প্রতিপক্ষ ভারত। সৌদি আরবের নিরাপত্তা চিন্তা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। অন্যদিকে তুরস্ককে একইসঙ্গে ন্যাটো, রাশিয়া, সিরিয়া, ইরান, ইসরাইল, ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হয়। সাধারণত একই ধরনের হুমকি অনুভবকারী রাষ্ট্রগুলোর জোট অধিকতর টেকসই হয়। মক্কা চুক্তিতে সেই অভিন্নতা সবসময় থাকবে-এ নিশ্চয়তা নেই।

 

 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ভারত সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে চুক্তিটিকে সবচেয়ে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে। নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা বিষয়টি ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। পাকিস্তান এ চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ায় ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে; ফলে রিয়াদ সম্ভবত চুক্তিটিকে সরাসরি ভারতবিরোধী রূপ দিতে চাইবে না।

 

 

ইসরাইলও বিষয়টিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখবে। তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্কের অবনতি, পাকিস্তানের ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের গুরুত্ব জোটটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক একটি প্রকাশ্য ইসরাইলবিরোধী সামরিক জোট সৃষ্টির পথে বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে থাকবে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত মিশ্র হবে। তিন দেশই ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। তবে জোটটি যদি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হয়ে ওঠে, পারমাণবিক বিস্তারে সহায়তা করে, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যায় অথবা চীন-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক বলয়ে পরিণত হয়, তাহলে মার্কিন বিরোধিতা বাড়বে।

 

 

জোটের সম্প্রসারণ

মক্কা চুক্তির সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এর মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে ইচ্ছুক অন্যান্য দেশের জন্য চুক্তিটি উন্মুক্ত। তবে নতুন সদস্যকে শুধু রাজনৈতিক সংহতি নয়, বাস্তব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা দায়ও গ্রহণ করতে হবে।

 

বাংলাদেশের কি যোগ দেওয়া উচিত? যোগদানের পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থলসীমান্ত ভারতের সঙ্গে এবং অপর গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত মিয়ানমারের সঙ্গে। বৃহৎ প্রতিবেশীদের সামরিক শক্তির সমতা শুধু জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

 

 

মক্কা চুক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশকে দিতে পারে :

অধিকতর প্রতিরোধ ক্ষমতা; উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি; অস্ত্র সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণ; গোয়েন্দা ও সাইবার সহযোগিতা; বঙ্গোপসাগরে উন্নত নৌ-নিরাপত্তা; বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাব।

 

 

বাংলাদেশও শুধু নিরাপত্তা গ্রহণকারী রাষ্ট্র হবে না। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসাবে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সশস্ত্র বাহিনী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিজ্ঞতা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক পূর্ণ সদস্যপদের বিপক্ষে সমান গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি আছে।

 

 

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো-বাংলাদেশ অন্য দেশের যুদ্ধের দায় নিজের ওপর নিতে পারে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, সৌদি-ইরান যুদ্ধ অথবা তুরস্কের কোনো বৃহৎ সামরিক সংকট বাংলাদেশের সরাসরি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও ঢাকা সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার চাপের মুখে পড়তে পারে।

 

 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও আরও জটিল হতে পারে। বর্তমান সম্পর্ক যেমনই হোক, ভূগোল পরিবর্তন করা যায় না। সীমান্ত, নদীর পানি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। পাকিস্তান-অন্তর্ভুক্ত সামরিক জোটে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদকে নয়াদিল্লি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসাবে দেখবে।

 

 

আরেকটি উদ্বেগ হলো বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ সার্বভৌমত্ব, সমতা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয়। প্রতিরক্ষামূলক জোট এসব নীতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংঘর্ষিক নয়; কিন্তু কোনো চুক্তিই বাংলাদেশের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয় যে, কখন তার সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধে যাবে।

 

 

চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান জোটের সদস্য হওয়ায় বেইজিং হয়তো সরাসরি বিরোধিতা করবে না, কিন্তু নতুন ব্যবস্থাটি যেন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষতি না করে-তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

অর্থনৈতিক স্বার্থও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেমিট্যান্স উৎসে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিমা দেশ, চীন, ভারত এবং অন্যান্য বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে যদি রপ্তানি, বিনিয়োগ বা রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সামগ্রিক জাতীয় শক্তি বরং দুর্বল হতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের জন্য মধ্যপন্থা

এ মুহূর্তে পূর্ণ সদস্যপদ কিংবা সম্পূর্ণ দূরত্ব-কোনোটিই শ্রেষ্ঠ পথ নয়। সবচেয়ে বাস্তবসম্মত নীতি হতে পারে ধাপে ধাপে সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশ শুরুতে পর্যবেক্ষক, সহযোগী অথবা সংলাপ-অংশীদারের মর্যাদা চাইতে পারে এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে পারে : যৌথ সামরিক মহড়া ও কর্মকর্তা বিনিময়; গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা; সাইবার প্রতিরক্ষা; নৌ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা; যৌথ অস্ত্র উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর; মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা।

 

 

পূর্ণ সদস্যপদের আগে ঢাকাকে কয়েকটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর জানতে হবে : ‘আক্রমণ’ বলতে আইনগতভাবে কী বোঝানো হবে? সামরিক হস্তক্ষেপ কি স্বয়ংক্রিয়? প্রতিটি দেশ কি নিজস্ব প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারবে? কাশ্মীর বা অন্যান্য বিরোধপূর্ণ অঞ্চল কি চুক্তির আওতায় পড়বে? বিদেশে মোতায়েনকৃত বাহিনীর ওপর আক্রমণ কি প্রযোজ্য হবে? ন্যাটোর প্রতি তুর্কির দায়বদ্ধতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরোধ কি অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? সদস্যপদ ত্যাগের পদ্ধতি কী?

 

 

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন : বাংলাদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা কি সত্যিই বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াবে? এর সন্তোষজনক নিশ্চয়তা ছাড়া পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ মানে হতে পারে-সমপরিমাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই বড় ধরনের দায়বদ্ধতা গ্রহণ করা।

 

উপসংহার

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে নিছক আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসাবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা মিলিয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য জোটটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নৌ-নিরাপত্তা, অস্ত্র সংগ্রহের বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

 

 

কিন্তু বর্তমান পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা দায়সহ পূর্ণ সদস্যপদে তাড়াহুড়া করা সমীচীন হবে না। বাংলাদেশের উচিত মক্কা চুক্তির কাছাকাছি যাওয়া, ব্যাপক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং এর প্রতিষ্ঠান ও সামরিক নীতিমালা কীভাবে বিকশিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করা।

 

 

ভবিষ্যতে যদি জোটটি কার্যকর যৌথ কমান্ড গড়ে তোলে, সামরিক হস্তক্ষেপের স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করে এবং সদস্যদের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে-তখন বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভূমধ্যসাগর ও আরব উপদ্বীপ থেকে পাকিস্তান হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় স্তম্ভে পরিণত হতে পারে।

 

 

তবে মৌলিক শর্তটি অপরিবর্তিত থাকতে হবে-এ জোটকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে, কিন্তু বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কখন, কোথায় এবং কেন যুদ্ধে যাবে-সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কোনোভাবেই খর্ব করা চলবে না।

 

লে. কর্নেল মোদাসসের হোসেন খান (অব.), বীর প্রতীক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক

ট্যাগ:BCSকলামআন্তর্জাতিক