যে কারণে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বাংলাদেশে বিতর্কিত

যে কারণে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বাংলাদেশে বিতর্কিত
কলামবাংলাদেশ

যে কারণে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বাংলাদেশে বিতর্কিত

৯ আগস্ট, ২০২৬

ড. মাহফুজ পারভেজ [প্রকাশ: যুগান্তর, ০৯ আগস্ট ২০২৬]

প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় International day of the world's indigenous peoples বা বিশ্ব আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালে দিবসটি চালু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত, প্রান্তিক ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। লাতিন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা কিংবা নিউজিল্যান্ডে এ দিবস সাধারণত ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি এবং অধিকার রক্ষার প্রশ্নে পালিত হয়।

 
 
 

কিন্তু বাংলাদেশে এ দিবসটি বিতর্ক, বিভাজন এবং তীব্র মতবিরোধের জন্ম দেয়। ‘আদিবাসী’, ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘নৃ-সম্প্রদায়’ কিংবা ‘সেটেলার’ শব্দগুলো কেবল ভাষাগত পরিভাষা না হয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের উপাদানে পরিণত হয়। বিশেষত, পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংঘাতের পটভূমিতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-জাতিগত বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এসব শব্দ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি কেবল একটি নৃতাত্ত্বিক পরিভাষা নয়। ইতিহাস, পরিচয়, সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভূরাজনীতির সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি জটিল রাজনৈতিক বিতর্ক। বিতর্কের মূল ইস্যু হলো-আন্তর্জাতিক পরিসরে ‘Indigenous peoples’ ধারণার যে ঐতিহাসিক ও আইনগত ভিত্তি রয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাষ্ট্রগঠনের বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

 

ঐতিহাসিকভাবে লক্ষ করা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলের প্রশাসনিক দলিল, বিশেষ করে Chittagong hill tracts regulation, 1900, পাকিস্তান আমলের সরকারি নথিপত্র কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের আইন ও প্রশাসনিক দলিলগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ (Indigenous) হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়নি। একইভাবে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতেও ‘আদিবাসী’ শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার, আঞ্চলিক পরিষদ, ভূমি কমিশন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেলেও 'Indigenous peoples’ই ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।

 

 

বাংলাদেশের সংবিধানও এ ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’, ‘নৃগোষ্ঠী’ ও ‘সম্প্রদায়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক আইনগত ভাষ্য এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ব্যবহারের দিক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

 

 

প্রশ্ন হলো, তাহলে ‘আদিবাসী’ শব্দটি কীভাবে দৃশ্যপটে এসে গেল? কেন আকস্মিকভাবে ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে কোনো কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে জোরালো আলোচনায় টেনে আনা হচ্ছে? অনেক গবেষকের মতে, ১৯৮০-এর দশক থেকে বিশেষ করে জাতিসংঘের Indigenous peoples-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হওয়ার পর বাংলাদেশেও পাহাড়িদের ‘আদিবাসী’ পরিচয়ে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো শুরু হয়। কারণ, এ পরিচয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরাম এবং বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কে নিজেদের অবস্থান আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ নিতে চায় সংশ্লিষ্টরা।

 

 

সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য একটি পরিভাষাকে বাংলাদেশের ভিন্নতর ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতায় সরাসরি প্রয়োগ করলে ধারণাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশের অধিকাংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক আগমন বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল-বিশেষত আরাকান, ত্রিপুরা ও বর্তমান মিয়ানমারের পার্বত্য এলাকা থেকে হয়েছে বলে ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। ফলে ‘প্রথম অধিবাসী’ অর্থে আন্তর্জাতিক আদিবাসী ধারণা এখানে সরাসরি প্রযোজ্য কিনা, তা প্রশ্ন ও বিতর্কসাপেক্ষ।

 
 
বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসলে একটি শব্দ নয়। বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক প্রশ্ন নিহিত রয়েছে। তা হলো-কোন ভিত্তিতে একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় নির্ধারিত হবে? পরিচয় কি কেবল আত্মপরিচয়ের বিষয়, নাকি তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে ঐতিহাসিক বসতি, রাষ্ট্রের আইনগত স্বীকৃতি, রাজনৈতিক গতিধারা, নৃতাত্ত্বিক বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড? এ প্রশ্নের উত্তর আবেগ বা রাজনৈতিক স্লোগানে পাওয়া যাবে না। সঠিক উত্তরটি বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুঁজতে হবে।
 
 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন তার ইমাজিন্ড কমিউনিটিস গ্রন্থে দেখিয়েছেন, জাতি ও জাতীয় পরিচয় মূলত একটি রাজনৈতিকভাবে নির্মিত কল্পিত সম্প্রদায়। অন্যদিকে এরিক নেমেগ (দ্য ইনভেশনশন অব ট্রাডিশন) যুক্তি দিয়েছেন, বহু পরিচয়ই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার পাশাপাশি আধুনিক রাজনৈতিক প্রয়োজনের কারণে নতুনভাবে নির্মিত ও পুনর্নির্মিত হয়। অর্থাৎ পরিচয় কখনোই পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। ইতিহাস, রাষ্ট্র এবং রাজনীতির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় ব্যক্তি বা জাতির পরিচয় রূপান্তরিত হয়। ফলে ‘আদিবাসী’ পরিচয় সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠবে-এটি কি মূলত একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা, নাকি একটি রাজনৈতিক ও আইনগত পরিচয়?

 

 

প্রথমত, ঐতিহাসিক বসতির প্রশ্ন। আন্তর্জাতিকভাবে ‘Indigenous’ ধারণার উৎপত্তি মূলত ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের ইতিহাস থেকে। কানাডার ফার্স্ট নেশনস, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবরিজিন, নিউজিল্যান্ডের মাওরি কিংবা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী বলা হয়েছে; কারণ, তারা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পূর্ববর্তী অধিবাসী এবং পরবর্তীকালে রাজনৈতিকভাবে অধীনস্থ হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে ‘Indigenous’ ধারণাটি একটি নির্দিষ্ট ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

 

 

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ভিন্ন। এখানে হাজার বছরের অভিবাসন, রাজ্য সম্প্রসারণ, সাম্রাজ্য পরিবর্তন এবং জনগোষ্ঠীর চলাচল ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রেও ইতিহাস একরৈখিক নয়। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমি, ম্রো, খিয়াংসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আগমন ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে হয়েছে বলে বহু ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তাদের স্বগোষ্ঠী এখনো পার্শ্ববর্তী ভারত ও মিয়ানমারে রয়েছে, যারা সেখানে ‘আদিবাসী’ বলে নিজেদের দাবি করে না। বাংলাদেশে এ দাবি রাজনৈতিক। কারণ, পাহাড়ে ‘কারা প্রথম অধিবাসী’-এ প্রশ্নের একটি সরল উত্তর দেওয়া কঠিন। ইতিহাস এখানে ধারাবাহিক বসতির তথ্য দেয় না। বরং বহুস্তরীয় অভিবাসন ও আন্তঃসম্পর্কের ইতিহাস বয়ান করে।

 

দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্ন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচয়বিষয়ক সর্বোচ্চ আইনগত দলিল হলো তার সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’, ‘নৃগোষ্ঠী’ ও ‘সম্প্রদায়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। একইভাবে ব্রিটিশ আমলের Chittagong hill tracts regulation, 1900, পাকিস্তান আমলের প্রশাসনিক নথি কিংবা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতেও ‘আদিবাসী’ শব্দের উল্লেখ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ও মানুষের আইনগত অবস্থান ও আইনি ভাষ্যের ঐতিহাসিক ও দালিলিক ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও পরিচিতির অস্তিত্বহীনতা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়।

 

 

তৃতীয়ত, নৃতাত্ত্বিক গবেষণার প্রশ্ন। নৃতত্ত্ব আমাদের শেখায় যে জাতিগত পরিচয় (Ethnicity) কোনো স্থির জৈবিক বাস্তবতা নয়। এটি ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয়, সামাজিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমন্বয়ে গঠিত। নৃতত্ত্ববিদ ফ্রেডরিক বার্থ দেখিয়েছেন, জাতিগত পরিচয়ের মূল বিষয় ‘সীমারেখা’ (Ethnic boundary), রক্তগত বিশুদ্ধতা নয়। অর্থাৎ একটি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য থাকলেই তাকে আন্তর্জাতিক আইনের অর্থে ‘Indigenous’ বলা যাবে-এমন নয়।

 

 

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর প্রশ্ন। জাতিসংঘের UN declaration on the rights of indigenous peoples (UNDRIP, 2007) ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো বাধ্যতামূলক সংজ্ঞা দেয়নি। বরং ‘Self-identification’ বা আত্মপরিচয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এক নয়। ফলে ‘Self-identification’ পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ড নয়।

 

 

তারপরও বাংলাদেশে একটি পক্ষ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আলোকে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের পক্ষে যুক্তি দেয়; কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ তথা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসকে লাতিন আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। ফলে আন্তর্জাতিক পরিভাষাকে স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং তারই ভিত্তিতে পরিচয় নির্ধারণ করতে হবে।

 

 

‘আদিবাসী’বিষয়ক বিতর্কের সঙ্গে আরেকটি মাত্রা যুক্ত হয়েছে-ভূরাজনীতি। বর্তমান বিশ্বে পরিচয়ের রাজনীতি কেবল সাংস্কৃতিক নয়; এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা রাজনীতিরও অংশ। Geopolitics of the ethnic boundary তত্ত্বে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী জাতিগত অঞ্চলগুলো একুশ শতকে ধীরে ধীরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ফলে পরিচয় প্রশ্ন কখনো কখনো আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার, মানবাধিকার কূটনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার অংশে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে ইতিহাস ও আইনগত বাস্তবতাকে এড়িয়ে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রয়োগ তেমনি একটি ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে এখানে আলাদা সুবিধা পাওয়া কিংবা পাশের দেশের সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া সুযোগ নেওয়ার মতলবও আছে কোনো কোনো গোষ্ঠীর; যার প্রমাণ নানা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়।

 

তাছাড়া, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-সাংস্কৃতিক অধিকার ও রাজনৈতিক অভিধার পার্থক্য বজায় রাখা। কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভূমিসংক্রান্ত অধিকার, শিক্ষা বা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে স্বীকৃতি দেওয়া এক বিষয়; আর আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-আইনগত অর্থে ‘Indigenous’ পরিচয়কে গ্রহণ করা আরেক বিষয়। এ দুই প্রশ্নকে একাকার করলে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

অতএব, ‘আদিবাসী’ বিতর্কের সমাধান বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে রাজনৈতিক বিজয়ে মাধ্যমে নয়; বরং প্রমাণভিত্তিক জ্ঞানচর্চায় নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, পরিচয়ের রাজনীতি যদি ইতিহাস ও গবেষণার পরিবর্তে আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। যেমনভাবে, পাহাড়ে ‘আদিবাসী বনাম সেটেলার’ দ্বন্দ্বের মাধ্যমে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিশ্চয় বাংলাদেশের মতো এক ও অভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রে একদল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ আর একদল বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ‘সেটেলার’ বা বসতি স্থাপনকারী বলা হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় নির্মাণ বিঘ্নিত হবে বাধ্য। অথচ ‘আদিবাসী বনাম সেটেলার’ বিতর্ক বা দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির বদলে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় নির্মাণই গণতান্ত্রিক-রূপান্তরকামী বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার মৌলিক লক্ষ্য।

 

প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)

ট্যাগ:BCSকলামবাংলাদেশ