নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে সাত চ্যালেঞ্জ

নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে সাত চ্যালেঞ্জ
কলামবাংলাদেশ

নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে সাত চ্যালেঞ্জ

২৩ আগস্ট, ২০২৬

ড. মাহফুজ পারভেজ [প্রকাশ : যুগান্তর, ২৩ আগস্ট ২০২৬]

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশকের ইতিহাসে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিচায়ক, যা প্রধান দলগুলোর মধ্যকার গণতন্ত্র চর্চা ও সংস্কৃতির একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

 

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক রাষ্ট্রনায়ক তথা রাষ্ট্রপতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা বজায়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কিন্তু বাংলাদেশের সদ্য অতীত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা পালনের বিষয়টি ফ্যাসিবাদী দলীয় বৃত্তে নতজানু ছিল। এ অবস্থায়, বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা পালনে মানুষের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূর্ণ করবেন বলে সবাই আশাবাদী। তবে, তার সামনে রয়েছে অনেক বিঘ্ন এবং বন্ধুর পথ। অন্তত সাতটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে হবে তাকে।

 

প্রথম চ্যালেঞ্জ : রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য

বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটির ভূমিকা অনেকটাই ‘আলংকারিক’। রাষ্ট্রপতি কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করেন, যা সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসাবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিই হয়ে উঠতে পারেন ক্ষমতার মূল উৎস। বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। এ দ্বৈত চরিত্র-আনুষ্ঠানিক ও সংকটকালীন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রথম পরীক্ষা। তাকে একইসঙ্গে হতে হবে সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে সমন্বিত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। দলীয় সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক সহযোগিতা করতে হবে, কিন্তু দলীয় সরকারের রাজনৈতিক সম্প্রসারণে পরিণত হওয়া যাবে না।

 

 

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ : জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রের ক্ষত সারানো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের মধ্যেও একটি গভীর প্রশ্ন ও তর্ক-বিতর্ক। রাষ্ট্র কি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করবে? প্রতিষ্ঠান কি দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকবে? আইন কি সবার জন্য সমান হবে? বিরোধী মত কি রাষ্ট্রদ্রোহ হিসাবে বিবেচিত হবে, নাকি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসাবে স্বীকৃত হবে?

 

নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে এসব প্রশ্নের সরাসরি নির্বাহী সমাধান নেই। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রের ‘সাংবিধানিক বিবেক’ হিসাবে ভূমিকা পালন করতে পারেন। তার ভাষণ, জাতীয় দিবসের বক্তব্য, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অবস্থান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তিনি একটি বার্তা দিতে পারেন-রাষ্ট্র কোনো দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়, রাষ্ট্র জনগণের, যা বহুত্ববাদী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পুষ্ট ও ঋদ্ধ করবে।

 

তৃতীয় চ্যালেঞ্জ : ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার সদ্ব্যবহার

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার রাষ্ট্রপতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা। যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এ ক্ষমতা অত্যন্ত সংবেদনশীল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণ-আন্দোলনের পর বিচার, মানবাধিকার, দণ্ডিত ব্যক্তির অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমার প্রশ্ন সামনে এলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে এক্ষেত্রে চরম অবক্ষয় ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। তাই নতুন রাষ্ট্রপতিকে আইন, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার রাজনৈতিক ও নৈতিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। অতীতের মতো ক্ষমা যেন রাজনৈতিক পুরস্কার না হয়, আবার প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিশোধ যেন বিচারব্যবস্থার বিকল্প না হয়-এ সূক্ষ্ম সীমারেখা রক্ষা করা হবে তার জন্য বড় পরীক্ষা।

 

 

চতুর্থ চ্যালেঞ্জ : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক

বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ কার‌্যাবলি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর করেছে। অতএব নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সম্প্রসারিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হওয়াও বঙ্গভবনের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্পর্ক হতে হবে সাংবিধানিক সহযোগিতার। সম্পর্কটি মোটেও রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ নয়। রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে প্রশ্ন তুলতে পারেন, ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, সতর্ক করতে পারেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে পারেন। সংবিধানের ৪৮(৫) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির বিষয়ে অবহিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এ সাংবিধানিক সম্পর্কের পরিণত চর্চা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ও সক্রিয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে।

 

 

পঞ্চম চ্যালেঞ্জ : সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। ফলে তার সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আধুনিক গণতন্ত্রে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ সাংবিধানিক নেতৃত্বের অর্থ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নয়; বরং সংবিধানের অধীনে বেসামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করা। নতুন রাষ্ট্রপতিকে সামরিক বাহিনীর মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও সাংবিধানিক ভূমিকা রক্ষার পাশাপাশি সামরিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখার বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় নীতিও সমর্থন করতে হবে। সাংবিধানিক দিকনির্দেশনা ও তার গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা তাকে এ ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করতে পারে।

 

 

ষষ্ঠ চ্যালেঞ্জ : ভূরাজনীতি ও কূটনীতি

নতুন রাষ্ট্রপতির সময়ে বাংলাদেশের যে বৈদেশিক সম্পর্ক ও নীতি, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন দেখিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিবেশী সম্পর্ক কেবল আবেগ বা অতীতের আনুগত্যের বিষয় নয় : জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানি, সীমান্ত, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ভূরাজনীতির সমন্বিত প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি সরাসরি পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা না করলেও তিনি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতীক এবং জাতীয় স্বার্থের রক্ষক। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক-সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও রাষ্ট্রীয় সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি প্রতীকী মাত্রা বহন করবে।

 

 

সপ্তম চ্যালেঞ্জ : জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়া

বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড়, জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান হয়েছে, পুরোনো শক্তির অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নও নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি যদি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন, তাহলে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে; কিন্তু তিনি যদি বলতে পারেন-‘আমি সরকারের নই, আমি রাষ্ট্রের; আমি কোনো দলের নই, আমি সংবিধানের; আমি কোনো গোষ্ঠীর নই, আমি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি’, তাহলে তার পদটি সত্যিকার অর্থেই জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হতে পারে। এবং সবাই তার কাছে সমঝোতা, মীমাংসা ও আস্থার আশ্রয় পেতে পারেন।

 

 

ক্ষমতার আসন নয়, আস্থার আসন

নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম ও ত্যাগের। বিএনপির সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি দলকে ঐকবদ্ধ রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা, জেল-জুলুম সত্ত্বেও তিনি দল ও আদর্শিক আনুগত্য ছাড়েননি। এ অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দৃঢ় ও বিচক্ষণ করে তুলতে পারে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে পরিবর্তমান ও রূপান্তরকামী বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একজন রাষ্ট্রপতি, যিনি ক্ষমতার নির্বাহী কেন্দ্রে না থেকেও রাষ্ট্রের নৈতিক ও সমন্বিত কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেন। যিনি জানবেন কখন নীরব থাকতে হয়, কখন প্রশ্ন করতে হয় এবং কখন সংবিধানের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হয়। যিনি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না, কিন্তু সরকারকেও রাষ্ট্রের সঙ্গে একাকার হতে দেবেন না। যিনি বিরোধী দলকে শত্রু মনে করবেন না, আবার রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকেও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার নামে বৈধতা দেবেন না। যিনি জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করবেন, কিন্তু জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কোনো একক দলের সম্পত্তি হতে দেবেন না। সামগ্রিকভাবে যিনি হবেন প্রকৃত অর্থেই একজন সাংবিধানিক রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক নৈতিকতা ও সমন্বয়ের চালিকাশক্তি।

 

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আসন সম্মান, মর্যাদা ও রাষ্ট্রের আস্থার আসন। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি জনআস্থা অর্জন করতে পারেন, তবে তার রাষ্ট্রপতিত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগত পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। তাহলে তিনি তার সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে একটি যৌক্তিক পরিণতি ও ইতিবাচক উত্তরণের পথে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারবেন। সমগ্র জাতি প্রত্যাশা করছে, নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংকুলতাকে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে অতিক্রম করে বিজয়ী হবেন এবং যথার্থ অর্থে ‘সাংবিধানিক রাষ্ট্রনায়ক’ হয়ে উঠবেন। কারণ, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে রক্ত ও জীবনদানের অভিজ্ঞতালব্ধ জনগণ সাংবিধানিক-বহুত্ববাদী-অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের বিজয় ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না।

 

 

প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)

 
ট্যাগ:BCSকলামবাংলাদেশ