দক্ষিণ এশিয়ায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব

দক্ষিণ এশিয়ায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব
কলামআন্তর্জাতিক

দক্ষিণ এশিয়ায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব

১৮ আগস্ট, ২০২৬

আলফাজ আনাম [প্রকাশ : আমার দেশ, ১৮ আগস্ট ২০২৬]

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব নানা মাত্রায় বিশ্বের ওপর পড়ছে। এই যুদ্ধকে ঘিরে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামরিক ও ভূকৌশলগত সম্পর্কও বদলে দিতে পারে। ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নিজেই এই চুক্তি প্রসঙ্গে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫-এর উদাহরণ টেনেছেন।

 

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং ‘এই অঞ্চল ও তার বাইরে’ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে সাহায্য করবে। পাকিস্তানের এই বক্তব্যের মধ্যে এক ধরনের ইঙ্গিত আছে। এই চুক্তিটি সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যে আগের নিরাপত্তা জোটের ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদ ও ইসলামাবাদ একটি দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে অনুরূপ একটি ধারা ছিলÑযেখানে বলা হয়েছিল, যেকোনো একপক্ষের ওপর আক্রমণ উভয় পক্ষের ওপর আক্রমণ বলে বিবেচিত হবে। এখন তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই চুক্তিটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা অক্ষে পরিণত হয়েছে।

 

তিনটি দেশই ভিন্ন ভিন্ন শক্তির অধিকারী। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থসম্পদ, জ্বালানি আধিপত্য এবং আরব ও ইসলামি বিশ্বে কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার অবস্থান। পাকিস্তানের রয়েছে এই অঞ্চলের বড় ও যুদ্ধঅভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী। দেশটি মুসলিম বিশ্বের একমাত্র স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। তুরস্কের আছে ন্যাটোর অভিজ্ঞতা, নৌ ও বিমান শক্তি প্রয়োগের বড় সক্ষমতা এবং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধজাহাজ ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম তৈরির মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প।

 

 

তিন দেশের পরিপূরক দিকগুলো সমন্বিত সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা-শিল্পে বিনিয়োগ এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তুর্কি ও পাকিস্তানি অস্ত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোতে সৌদি অর্থায়ন আসতে পারে। অন্যদিকে, আঙ্কারার প্রতিরক্ষা-প্রযুক্তি শিল্প এবং ইসলামাবাদের যুদ্ধঅভিজ্ঞতা রিয়াদের নিরাপত্তাকে আরো বৃদ্ধি করতে পারে।

 

 

এমন একসময়ে এই চুক্তি হলো, যখন ইরান যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইরান, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেনের হুতি ও অন্য মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, উপসাগরীয় তেল শোধনাগার, বন্দর, বিমানবন্দর এবং সামুদ্রিক পথগুলোতে কত সহজে আক্রমণ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র যে এখন আর আরব কিংবা অন্য দেশের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে সক্ষম নয়, তা প্রমাণিত। ফলে তিনটি সরকারই আমেরিকার ওপর কম নির্ভরশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

 

 

সৌদি অর্থসম্পদ, পাকিস্তানি সৈন্য এবং তুর্কি সামরিক সরঞ্জামকে একত্র করার মধ্য দিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাবলয় গড়ে উঠতে পারে। এই চুক্তির পর দেখার বিষয় হবে, তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেয়।

 

 

এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর তাৎক্ষণিক একটি প্রশ্ন উঠেছিল—এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে? কিন্তু তিন দেশ স্পষ্ট করেছে, এটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো জোট নয়। আবার ইরানও এই জোট নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফাঁদে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর কয়েকটি হামলা হলেও ইরান যুক্তি দিয়েছে, হামলাগুলো হয়েছে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ করে। এসব হামলার পরও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল সৌদি আরব। এ থেকে প্রমাণ হয়, কূটনৈতিকভাবে যত অভিযোগই করা হোক না কেন, সৌদি আরব ও ইরান একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলো ভালোভাবেই জানে, এই যুদ্ধ শুরু করা, তা চালিয়ে যাওয়া কিংবা বন্ধ করা ইরানের ওপর নির্ভর করে না। সম্ভবত কোনো দেশই যুদ্ধ এত দীর্ঘ হবে, তা আশা করেনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা দেখে আরব দেশগুলো স্তম্ভিত।

 

 

মার্কিন নিরাপত্তাব্যবস্থা কোনো কাজে না আসায় এবং ইসরাইলের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের কারণে সৌদি আরব যে মক্কা চুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্বিপক্ষীয় মার্কিন-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির জন্য সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। এ থেকে প্রমাণ হয়, ইসরাইল স্পষ্টভাবে এ অঞ্চলে মার্কিন নীতি নিয়ন্ত্রণ করে। আর সৌদি আরব নীতিগতভাবে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি নয়।

 

 

আসলে ইরান-যুদ্ধ সৌদি আরবের জন্য ছিল সতর্কবার্তা। ইরান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর নিকট ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও হতে পারে। আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে আঞ্চলিক সীমানা বিস্তার করা ইসরাইলি পরিকল্পনার অংশ, যা সৌদি আরবের অজানা নয়। ইরানের পর ইসরাইলের লক্ষ্য তুরস্ক। এই অঞ্চলে ইসরাইলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আঙ্কারা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মক্কা চুক্তি নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল উভয় দেশের কাছে একটি জোরালো বার্তা দেয়।

 

 

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারত কতটা উদ্বিগ্ন, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা নানা ধরনের আলোচনা করছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তিনটি মুসলিম দেশের এই চুক্তি নিশ্চিতভাবেই নয়াদিল্লির জন্য কোনো সুখবর নয়। যদিও চুক্তিটিতে সরাসরি ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবে এটি পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে। ভারতের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে দুই দেশ চারটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এই চুক্তি তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। তুরস্ককে ভারত অনেকটাই শত্রুভাবাপন্ন দেশ মনে করে। বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদকে সব সময় সমর্থন জানিয়ে আসছে তুরস্ক।

 

 

এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রভাব পরীক্ষা করে দেখছি। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

 

 

ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একঘরে করার চেষ্টা করেছিল। সেই ভারত এখন মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলিতে পাকিস্তানের সরব উপস্থিতি অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখে পাকিস্তান এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে পাকিস্তান এখন এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং সামরিক প্রযুক্তিতে আরো সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়া তুরস্ক এরই মধ্যে একটি শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

 

 

মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক একদিন আগে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং দুদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। নেতানিয়াহুর এই টেলিফোন আলাপের সঙ্গে মক্কা চুক্তির সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক নয়।

 

 

ভারতের অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতের টানাপোড়েনে ভারতের বিরুদ্ধে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি প্রতিরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধে চীন ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সহযোগিতার রূপ ভারত দেখেছে। চার দিনের এই সংঘাতে পাকিস্তান সরাসরি চীন ও তুরস্কের সহায়তা পেয়েছিল। ভারতের রাফালে যুদ্ধবিমানসহ একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তান। ভারতের বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন, ভারতীয় অবস্থান লক্ষ করে এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে এ সময় ব্যাপকভাবে তুর্কি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। দ্য ডিপ্লোম্যাটে একজন ভারতীয় বিশ্লেষক দাবি করেন, যুদ্ধের সময় তুর্কি সামরিক কর্মকর্তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তার জন্য উপস্থিত ছিলেন।

 

বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে। ইরানে মার্কিন হামলা এখন দীর্ঘমেয়াদি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার অবসানের লক্ষণ নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে। ইসলামাবাদ এসব ঘটনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান সংহত করেছে। এর মধ্যে তিন দেশের নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নিশ্চিতভাবেই ভারতের জন্য অনিশ্চয়তা ও সতর্কতার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

 

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব শুধু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপরও আগামী দিনে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতের অনুগত হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হয়েছে। চেষ্টা করছে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পুরোনো ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা-বলয় থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।

 

 

একটি বিষয় স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়া শুধু নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অবস্থান এখন অনেক দুর্বল। পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের হুমকি তো আছেই। ইসরাইলের সঙ্গে অতিঘনিষ্ঠতার কারণে পুরোনো মিত্র ইরান পুরোপুরিভাবে নয়াদিল্লির ওপর আস্থা হারিয়েছে। মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ভারতপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন হারিয়েছে। ভারতের অনুদার আগ্রাসী নীতির কারণে দেশটি এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন সময় এসেছে ভারতের দিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশের উচিত হবে, পশ্চিম এশিয়াকেন্দ্রিক নতুন মেরূকরণে নানাভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করা।

ট্যাগ:BCSকলামআন্তর্জাতিক