রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে, এখনো মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই

রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে, এখনো মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই
সংবাদআন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে, এখনো মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই

২৫ আগস্ট, ২০২৬

ইইউ ও ১৫ দেশের বিবৃতি [প্রকাশ: বণিক বার্তা অনলাইন, ২৫ আগস্ট ২০২৬]

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে রাখাইনে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে এবং মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ত্রাণ ও বাণিজ্যে বাধা মানবিক পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে

 

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পূর্তিতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ১৫টি দেশ। সেখানে বলা হয়েছে, এখনো মিয়ানমারে এ জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন আজ অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে। ইইউ ছাড়াও বিবৃতিতে আরো রয়েছে কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, কসোভো, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

 
 
 
 

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে রাখাইনে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে এবং মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ত্রাণ ও বাণিজ্যে বাধা মানবিক পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে।

 

এতে আরো বলা হয়, এই অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে আরো রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

 

 

প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবেলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়াও জরুরি— যাতে তারা রাখাইনে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠন করতে পারেন।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। ততদিন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা হবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে।

 

 

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাই যথেষ্ট নয়, সহায়তা দেয়ার পদ্ধতিও উন্নত করতে হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশি ও শরণার্থী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, সংকট দশম বছরে প্রবেশ করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেন বিশ্ব ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের কণ্ঠ আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈশ্বিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের এক অংশকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলাপ দেখা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এমন তথ্য একটি দিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে মিয়ানমারের নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান একাধিক অধিকার গোষ্ঠী।

 

 

মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রতিবেশী বাংলাদেশের পাশাপাশি বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে অনেকে পৌঁছে গেছেন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়। 

 

ট্যাগ:BCSসংবাদআন্তর্জাতিক