কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

৪৩তম বিসিএসের গেজেট হতে পারে পূজার ছুটি শেষে

পূজার ছুটি শেষে ৪৩তম বিসিএসের চাকরিপ্রার্থীরা সুখবর পেতে পারেন। তাঁদের গেজেট জারি করা হতে পারে চলতি সপ্তাহেই পূজার ছুটি শেষে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা আজ রোববার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ৪৩তম বিসিএসের সব কাজ শেষ, পূজার পর গেজেট হতে পারে।

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে মোবাশ্বের মোনেমকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: মানসুর হোসেন আজ বুধবার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মোবাশ্বের মোনেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রসাশন বিভাগের অধ্যাপক।

পিএসসি চেয়ারম্যানসহ পদত্যাগ করলেন ১২ সদস্য

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন পদত্যাগ করলেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি পিএসসির সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পিএসসি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কমিশনের ১২ জন সদস্য আজ পিএসসি সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হচ্ছে। সোহরাব হোসাইন ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিএসসির চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ ছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পিএসসি চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনের পদত্যাগের দাবি ওঠে। কয়েক দিন ধরে পিএসসি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। পদত্যাগ করা সদস্যরা হলেন—সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ফয়েজ আহম্মদ, সাবেক অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক জাহিদুর রশিদ, অধ্যাপক মুবিনা খন্দকার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আলী আজম, সাবেক সচিব খলিলুর রহমান, মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মাকছুদুর রহমান, সাবেক সচিব নাজমানারা খাতুন, এন সিদ্দিকা খানম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে। তবে ২ জন সদস্য এখনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাঁরা হলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সাবেক সচিব ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম। পিএসসি সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিএসসি চেয়ারম্যানসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা এসব পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকি দুজন এখনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাঁরা আগামীকালের (বুধবার) মধ্যে জমা দেবেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসির বিগত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিকের মেয়াদ শেষে সোহরাব হোসাইন পিএসসির চেয়ারম্যান হন।

৪৬তম বিসিএসসহ তিন নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে তিনটি নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। পিএসসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৪৬তম বিসিএস, রেলওয়ের পরীক্ষা ও স্টাফ নার্স পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছে। এসব পরীক্ষার বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে কোন কোন ধাপ অনুসরণ করে এসব নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়, তা জানতে চাওয়া হয়। পিএসসির কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। আমরা সেই উত্তরগুলো দেওয়ার কাজ করেছি, সেগুলো পাঠানো হয়েছে। উত্তর পেলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিছু দিকনির্দেশনা দিতে পারে। ‘বিসিএস প্রিলি–লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস’ শিরোনামে দেশের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। এ সংবাদে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ক্যাডার ও নন–ক্যাডারসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করা হয়েছে। টিভি চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে একটি চক্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত পিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কয়েকটি অভিযোগে পিএসসির পাঁচ কর্মকর্তা এখন কারাগারে আছেন।

আহসান এইচ মনসুর হচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী গভর্নর হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের পরিবর্তন করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহসান এইচ মনসুর বর্তমানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক। আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের আর্থিক খাতের একজন বিশ্লেষক হিসেবে সুপরিচিত।

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের চার বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া চার বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শপথ নেওয়া চারজন হলেন– বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা। এর আগে, সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চারজনকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সরকারের সামনে সাত চ্যালেঞ্জ

গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে প্রধানত হচ্ছে- শিক্ষা খাত ঢেলে সাজানো, স্বাস্থ্য খাতে নৈরাজ্য বন্ধ, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফেরানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, থানা পুলিশের কাজ শুরু করা, অর্থনীতি ব্যবসাবাণিজ্য চাঙা রাখা, ইসি, দুদক, পিএসসি, মানবাধিকার কমিশনে শৃঙ্খলা আনা। দেশকে এগিয়ে নিতে সতর্ক এবং সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে সংস্কারের সমীকরণ হয়ে উঠতে পারে জটিল। তাই সরকারের জন্য সামনের দিনগুলো সহজ হবে না বলে পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এ সরকার এমন সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছে যখন ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রশাসন এবং অন্যান্য সেক্টরেও চলছে অস্থিরতা। আছে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। এর সঙ্গে আছে রাষ্ট্র সংস্কারের বিপুল প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সরকার পতনের পর দেশের প্রায় সব থানা থেকে সরে যান পুলিশ সদস্যরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় থানায় হয় হামলা। মূলত আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে হতাহতের ঘটনা, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়ে বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবার থানায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট এখন প্রকট। বিভিন্ন স্থানে ঘটছে ডাকাতি, লুটপাট, ভাঙচুর।

গভর্নরের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি গভর্নররা, দৈনিক ডাক দেখবেন নূরুন নাহার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের পদত্যাগের পর ডেপুটি গভর্নরদের এখন থেকে গভর্নরের নিত্যদিনের কার্যকলাপ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাঠানো এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব আফসানা বিলকিস স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গভর্নর এতদিন যেসব দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন ডেপুটি গভর্নররা তার অনুপস্থিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে বর্তমান ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার গভর্নরের দৈনিক ডাক বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিদিনকার চিঠিপত্র তার মাধ্যমেই অন্যান্য বিভাগে পাঠানো হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়। এর আগে শুক্রবার (০৯ আগস্ট) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান আব্দুর রউফ তালুকদার। জানা যায়, গেল সোমবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাননি গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। গভর্নরের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বা প্রধান উপদেষ্টার সম্মতিক্রমে গভর্নর নিয়োগ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেই হিসেবে গভর্নরকে পদত্যাগও করতে হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আব্দুর রউফ তালুকদার তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এদিকে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বুধবার (০৭ আগস্ট) একদল কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টা ও আর্থিক গোয়েন্দা দফতরের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে মিছিল করেন। তখন একজন ডেপুটি গভর্নরকে সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করেন এবং আরও চারজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে ‘পদত্যাগে রাজি’ করান। যেসব শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে সাদা কাগজে সইয়ের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বা যাদের পদত্যাগে রাজি করানো হয়েছে বলে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা সবাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা।

গজারিয়ায় ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুল হক ও তাঁর লোকজন। এ সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে মনিরুল হক ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের দুই সদস্যসহ আহত হয়েছেন কয়েকজন। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার হোসেন্দি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাদ্দাম হোসেন ও মো. শামীম। আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। অভিযুক্ত মনিরুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে হোসেন্দি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছিল। ওই কেন্দ্রে মনিরুল হক ও তাঁর লোকজন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মনিরুলের লোকজন নিয়ে ওই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। তাঁরা আনারস প্রতীকে সিল মারেন। এতে প্রায় ঘণ্টাখানেক ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। আবারও কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করেন তাঁরা। এ সময় ওই কেন্দ্রের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান এলে তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করেন মনিরুলের লোকজন। পুলিশের সঙ্গে মনিরুল ও তাঁর লোকজনের কয়েক দফা গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা আড়াইটার দিকে কিছু লোক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আমরা সেগুলো উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আধা ঘণ্টার মতো ভোট বন্ধ ছিল। পরে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।’ সংঘর্ষ ও গোলাগুলি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি কেন্দ্রের বাইরে হয়েছে। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’ এ বিষয়ে জানতে মনিরুল হক মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, কোনো হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গজারিয়া থানার ওসি রাজীব খানসহ কয়েকজন পুলিশ কাপ-পিরিচের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুর আহমদ খান জিন্নার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়েছেন। তাঁরা আমাদের সমর্থক ও লোকজনকে আনারস প্রতীকে ভোট দিতে দিচ্ছিলেন না। এতে ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে। আমাদের লোকজন আহত হয়েছে।’

ভৈরবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে তিন বংশের সংঘর্ষে ৬০ জন আহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়ে একটি গ্রামের তিন বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধ ও গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আগানগর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। কেউ কেউ বল্লমবিদ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসা নিতে আসা ৪০ জনের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগানগর গ্রামে অবস্থিত জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিছুদিন পর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন হবে। ওই গ্রামের সরুল্লা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ব্যাপারী বাড়ি ও আফিল উদ্দিন বাড়ির লোকজনের পুরোনো বিরোধ আছে। সরুল্লা বাড়ির লোকজনের নেতৃত্ব দেন আগানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন। ব্যাপারী বাড়ির নেতৃত্বে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আক্কাস আলী এবং আফিল উদ্দিন বাড়ির নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। স্থানীয় মানুষেরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় আনন্দবাজার এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন দা, বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আগের দিনের ঘটনার সূত্র ধরে গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। গ্রামের অন্যান্য বংশের লোকজন দুই পক্ষে ভাগ হয়ে যান। এমন অবস্থায় আজ সকাল ১০টার দিকে উভয় পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়। আজ প্রথমে সরুল্লা বাড়ির লোকজন আফিল উদ্দিন ও ব্যাপারী বাড়ির লোকজনের বাড়িতে হামলা চালান। ছয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পুলিশ বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরুল্লা বাড়ির নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিনের ছেলে হিরা মিয়া বলেন, ‘প্রথম দিনের ঘটনা ঘটেছে প্রতিপক্ষদের অতিরিক্ত উসকানির কারণে। আজ সকালে আবার আমাদের পক্ষের লোকজনকে মারধর করেছে তারা। শেষে আমাদের লোকজনও প্রতিরোধে নামে।’