মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে ঐকমত্যের পরীক্ষায় ব্রিকস, বৈঠকে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে ঐকমত্যের পরীক্ষায় ব্রিকস, বৈঠকে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত
সংবাদআন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে ঐকমত্যের পরীক্ষায় ব্রিকস, বৈঠকে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত

১২ জুলাই, ২০২৬

[সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৩ মে ২০২৬]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে ঘিরে এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে ব্রিকস জোট।

 

 

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া জোটটির বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছে সংঘাতে বিপরীত অবস্থানে থাকা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।

 

 

ব্রিকস জোট শুরুতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে এতে যোগ দেয় মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোটটির রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলগত সমন্বয় আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

 

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, ইরান চাইছে ব্রিকস জোট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাক। এ লক্ষ্যে তেহরান ২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ারম্যান ভারতকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

তবে জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমান সংঘাতে ইরানের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও রাজনৈতিক কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

 

দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

 


ব্রিকসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আগামী ১৪ ও ১৫ মে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবারই দিল্লি পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত থাকছেন না। কারণ, একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর চলবে। ফলে চীনের প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।

 

 

ভারতের জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ


বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকটি ভারতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। একদিকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও দিল্লির কৌশলগত সম্পর্ক গভীর।

 

 

এ অবস্থায় ভারত কীভাবে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং কোনও যৌথ বিবৃতি আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ব্রিকস এই সংকটেও অভিন্ন অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তবে বৈশ্বিক বিকল্প শক্তি হিসেবে জোটটির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে পারে। 

 

সূত্র: আল-জাজিরা

ট্যাগ:BCSসংবাদআন্তর্জাতিক