হরমুজে অচলাবস্থায় দ্রুত ফুরাচ্ছে বিশ্বের তেল মজুদ

হরমুজে অচলাবস্থায় দ্রুত ফুরাচ্ছে বিশ্বের তেল মজুদ
সংবাদআন্তর্জাতিক

হরমুজে অচলাবস্থায় দ্রুত ফুরাচ্ছে বিশ্বের তেল মজুদ

১৪ আগস্ট, ২০২৬

[সূত্র : বণিক বার্তা; ১৪ আগস্ট ২০২৬]

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা ও মজুদ তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

 

 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। প্রণালিটি খুলে দেয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

 

 

সৌদি আরব, ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এ জলপথ দিয়ে প্রায় ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। এখন চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। হামলার ঝুঁকি, সমুদ্রে মাইন থাকার আশঙ্কা এবং নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনায় জাহাজগুলো প্রণালি এড়িয়ে চলেছে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রণালিটি মাইনমুক্ত করেছে। তবে ইরানের বক্তব্য ভিন্ন।’ তেহরান বলছে, নিজেদের শর্ত পূরণ না হলে তারা প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেবে না। ফলে কাগজে-কলমে নিয়ন্ত্রণের দাবি থাকলেও বাস্তবে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত হয়নি।

 

 

আইইএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন বৈশ্বিক তেল মজুদ কমে ৭৯০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। সংস্থাটি বলেছে, বছরের শেষ দিকে বাজারে আবার উদ্বৃত্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ঝুঁকি রয়ে গেছে। আগে গড়ে ওঠা মজুদের সুরক্ষাবলয় দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে।

 
 

সংস্থাটি চলতি বছরের বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পূর্বাভাসও কমিয়েছে। এখন তাদের ধারণা, ২০২৬ সালে দৈনিক বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৪৩ লাখ ব্যারেল কমে ১০ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে নামতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় সরবরাহ কমার ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে উঠবে না। চলতি প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি হতে পারে বলেও আইইএ জানিয়েছে, যা এক মাস আগের পূর্বাভাসের দ্বিগুণের বেশি।

 

 

সংকটের মধ্যেও গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ডব্লিউটিআইও একই হারে কমে প্রায় ৮১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের তেল আমদানি কমে আসা, বিভিন্ন দেশের মজুদ ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত বিকল্প রফতানি—এসব কারণে তাৎক্ষণিক মূল্যচাপ কিছুটা কমেছে।

 

 

তবে এ স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। জেফেরিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহিত কুমারের মতে, জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর ও ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে কিছু জাহাজ চলাচল করায় প্রকৃত প্রবাহ সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। তবু মজুদ তেল অনির্দিষ্টকাল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। হরমুজ নিয়ে অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বছরের শেষভাগে তেলবাজারে নতুন করে বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।

ট্যাগ:BCSসংবাদআন্তর্জাতিক