
বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান প্রথম এফওসি আজ
আমেনা হীরা [সূত্র : কালবেলা, ০৮ জুলাই ২০২৬]
বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য জানিয়েছে। এফওসিতে মানবসম্পদ রপ্তানি, ভিসা, শিক্ষা, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্সসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন নতুন দেশে বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো। এ প্রেক্ষাপটে তাজিকিস্তানের সঙ্গে প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে তাজিকিস্তানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তার এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে দেশটি।
এ লক্ষ্যে আজ বুধবার সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন কালান্দার। এরপর বেলা ১১টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মানবসম্পদ, রপ্তানি-দক্ষতা বিনিময়, কূটনীতিকদের জন্য ভিসামুক্ত চলাচলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। গতকাল বিকেলে ঢাকায় পৌঁছানোর পরে সন্ধ্যায় ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার একটি উচ্চপর্যায়ের বিজনেস ইন্টারেকশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
সিআইএস এবং বিসিসিআইর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে ১১টি দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে কালবেলাকে জানায় সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র। বিশ্লেষকদের মতে, তাজিকিস্তান একটি পার্বত্য দেশ, যার অর্থনীতি খনিজসম্পদ, কৃষি ও বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, সিরামিকসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য তাজিকিস্তান একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে। অন্যদিকে, তাজিকিস্তানের খনিজসম্পদ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এ সফরের ফলাফল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
যা থাকছে আলোচনায় তাজিকিস্তানের সঙ্গে প্রথম এফওসিতে: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আজ দুপুরে দুই দেশের মধ্যে প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ৯টি সম্ভাব্য চুক্তি ও এমওইউ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অন্তত ২টি এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে বলে কালবেলাকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র। কনসালটেশন শুরুর আগে এফওসি-সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
এরপর দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এমওইউ স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, কূটনীতিকদের জন্য ভিসা সুবিধা প্রদান, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তাজিকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি), শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এমওইউ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক এ বিষয়ে কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারের প্রবাসী কল্যাণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ এফওসিতে মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সফল হলে তাজিকিস্তানে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে, যা দেশের রেমিট্যান্স আয় আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯২ সালে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে এগিয়েছে। ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর পর ধারাবাহিকভাবেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়েছে। এফওসি শেষে আজ বুধবার রাতেই তাজিক প্রতিনিধিদল নিজ দেশে ফিরে যাবে।



