২০ বছর আগে প্রথমবার শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছিল সেনাবাহিনী

২০ বছর আগে প্রথমবার শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছিল সেনাবাহিনী
সংবাদআন্তর্জাতিক

২০ বছর আগে প্রথমবার শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছিল সেনাবাহিনী

১২ জুলাই, ২০২৬

[প্রকাশ: কালের কণ্ঠ, ১০ জুন, ২০২৬]

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের সফল আয়োজনের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খান।

 

 

সেই সফল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লোক-দেসালিয়েন।

 
 
 
 

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দেশের জনগণের সামনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

 

 

রেনাটা লোক-দেসালিয়েন বলেন, অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে আয়োজকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদিত প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট অতিথিরা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অর্জন ও অবদান সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারণা লাভ করেন।

 
 
 
 

২০০৭ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খান সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস ডিরেক্টরেটের পরিচালক (চেয়ারম্যান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 
 
 
 
 

উল্লেখ্য, যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ নেওয়া শুরু।

 
 

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছে ১৯৯৩ সাল থেকে।

 

 

বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। ওই বছর নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট দুই লাখ ছয় হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী তিন হাজার ৬৪৫ জন। সেনাবাহিনী থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন। বর্তমানে জাতিসংঘের ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চার হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।

 

 

শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।

ট্যাগ:BCSসংবাদআন্তর্জাতিক