কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরটিএ সই

শিগগিরই যেসব বিপদ ও ভোগান্তিতে ফেলতে পারে বাংলাদেশকে [প্রকাশ : আবু তাহের খান, ৯ অক্টোবর ২০২৫]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরটিএ সই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর বর্ধিত হারে যে শুল্ক আরোপ করেন, তা শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিন্যাসকেই নয়, পুরো বিশ্বের ভূরাজনৈতিক সম্পর্ককেও বহুলাংশে নাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে চীন বা রাশিয়ার (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিবেচনায় নিয়ে বলা) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রায় কখনই ভালো ছিল না। তবে ২০২৫-পূর্ববর্তী সময়ে সেটি ছিল অনেকটাই পরাশক্তিসুলভ অবস্থান থেকে অহং ও মর্যাদার লড়াই। কিন্তু ২০২৫-এ এসে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উল্লিখিতদের ওপর একতরফাভাবে বর্ধিত শুল্ক আরোপের ফলে সেটি এখন রূপ নিয়েছে নতুন এক বাণিজ্যযুদ্ধে।

 

 

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত শীতল। তবে মোদিযুগে এসে তা অনেকাংশে উষ্ণ হয়ে উঠলেও সাম্প্রতিক শুল্কঝড়ে তা আবার মিইয়ে গেছে। ১৯৭১-এ যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করলেও পরবর্তী সময়ে কৌশলগত কারণে তারাই এ দেশকে ‘‌বন্ধু’ বানাতে উদ্যোগী হয়। তবে অধিকাংশ সময়ে সে বন্ধুত্বের রূপ দাঁড়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের প্রতি অনুগতদের দেখতে চাওয়া। আর তাদের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণস্বরূপ বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ অ্যাগ্রিমেন্ট (আরটিএ) সই করতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে বিলিয়ে দিয়ে যেসব ছাড় ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে, তাতে সহসাই বাংলাদেশকে বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বিপদ ও ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

 

 


আর কারণ যে রয়েছে, আনুষঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ, ঘটনা, দৃষ্টান্ত, যুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রটোকলের বিধিবিধানের প্রতি চোখ বোলালে তা খুব সহজেই উপলব্ধি করা সম্ভব। আর চিন্তার স্বচ্ছতা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে বিষয়টির গভীরে তাকালে ন্যূনতম দেশাত্মবোধসম্পন্ন ব্যক্তিমাত্রেরই এক্ষেত্রে চোখে পানি চলে আসার কথা এই ভেবে যে নিছক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে মানুষ দেশের স্বার্থকে এভাবে জলাঞ্জলি দিতে পারে! যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামান্য একটু শুল্কছাড়ের বিনিময়ে, যা মূলত ভোগ করবে তৈরি পোশাক খাত, আরটিএর আওতায় তাদেরকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে, সেগুলোকে এক এক করে তীক্ষ্ণতা, মনোযোগ ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করলে সহজেই স্পষ্ট হয়ে আসবে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এ দেশের কী কী অপূরণীয় ও অনিরাময়যোগ্য সর্বনাশ তারা করেছেন।

 

 


এবার বিষয়গুলো নিয়ে এক এক করে আলোচনায় আসা যাক।

 

 

 

এক. চুক্তির আওতায় গম, তুলা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), উড়োজাহাজ ইত্যাদিসহ এমন সব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেগুলো উচ্চমান বজায় রেখে এর চেয়ে কম দামে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ গমের কথাই ধরা যাক। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতি টনে ২৫ ডলার বেশি দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির পরিকল্পনা করছে, যার জন্য বাংলাদেশকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার (২ হাজার ১০০ কোটি টাকা) অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে, যা ২৮ হাজার পোশাক শ্রমিকের ছয় মাসের বেতনের সমান। আর এ বর্ধিত মূল্যে গম আমদানির ফলে বাংলাদেশের বাজারে আটা, ময়দা ও গমনির্ভর অন্যান্য পণ্যের মূল্য যে অনিবার্যভাবেই বহুলাংশে বেড়ে যাবে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই।

 

 

দুই. উল্লিখিত আরটিএর আওতায় বাংলাদেশ তার বর্তমান আমদানির অতিরিক্ত হিসেবে সহসাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাজার-অতিরিক্ত দরে বছরে প্রায় ১২০ কোটি ডলার মূল্যের এলপিজি ও এলএনজি আমদানি করতে যাচ্ছে। আর উল্লিখিত এলপিজি ও এলএনজি পরিবহনের জন্য মার্কিন পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বাংলাদেশকে ক্রয় করতে হচ্ছে ১৬টি এলএনজি কার্গো, যার জন্যও বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর এর সামগ্রিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশের এলপিজি ও এলএনজি ব্যবহারকারীদের সামনের দিনগুলোয় যে আরো ব্যাপক হারে ভুগতে হবে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।

 

 

তিন. স্বাক্ষরিত আরটিএর আওতায় সরকার পাউন্ডপ্রতি অতিরিক্ত ৪-৯ সেন্ট মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে একই মানের প্রতি পাউন্ড তুলা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে যেখানে ৭৮-৮৩ আউন্সে কিনতে পাওয়া যায়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তা কিনতে হবে পাউন্ডপ্রতি ৮৩-৮৮ পাউন্ডে। এরূপ বর্ধিত মূল্যে তুলা আমদানির ফলে স্বভাবতই বস্ত্র উৎপাদনের ব্যয় আনুপাতিক কিংবা তার চেয়েও বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে তুলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বাড়তি মূল্যে তুলা আমদানির পূর্বশর্ত হিসেবে আর্থিক প্রণোদনা দাবি করে বসে আছে, যে দাবি পূরণ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এখন জনগণের করের টাকায় আমদানিকারকদের ভর্তুকি দিয়ে তুলা আমদানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখার এ বাণিজ্য ব্যবস্থা জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

 

 

 

চার. পৃথিবীতে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মধ্যকার অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির উৎপাদিত বিমানের দ্বারা। এগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালের জুনে ভারতের আহমেদাবাদে ও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ানে সংঘটিত দুর্ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৪২ ও ১৭৯। তো একের পর এক এত বড় বড় সব দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার পরও বোয়িংয়ের কাছ থেকেই কেন বাংলাদেশকে উড়োজাহাজ কিনতে হবে? বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে তার যাত্রীদের নিরাপত্তার কানাকড়ি কোনো মূল্য নেই বলে? আর সে মূল্যটুকু নেই বলেই কি তারা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে না? উড়োজাহাজের এ ক্রয়টিও আবার ঘটছে বিনা দরপত্রে এবং জাহাজও কেনা হচ্ছে একটি বা দুটি নয়—১৭টি। উল্লেখ্য, বোয়িং একটি বেসরকারি কোম্পানি বিধায় তাদের কাছ থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতির আওতায় পণ্য কেনার কোনো সুযোগ নেই। তার পরও সে প্রক্রিয়া দেখিয়ে তা কিনলে সেটি হবে চরম অস্বচ্ছতা।

 

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত উল্লিখিত আরটিএ অনুযায়ী প্রকাশ্যে আসা বিষয়গুলোর কিছু অংশ নিয়ে আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অতি সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও এখানে খানিকটা আলোচনা করা গেল। কিন্তু ওই দলিলের সঙ্গে যুক্ত গোপনীয় চুক্তির (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট) যে ধারাগুলো এখনো অপ্রকাশিত রয়ে গেছে, সেসবের বিষয়ে জনগণ কী ভাবে, কী ভাববে? বস্তুতই সেসব নিয়ে অবিশ্বাস ও সন্দেহ পোষণের পাশাপাশি নিজেদের অমর্যাদাকর জাতিগোষ্ঠী ভাবা ও লিখে প্রতিবাদ জানানো ছাড়া আপাতত আর কিছুই করার নেই। তবে আশঙ্কা হয় ওই গোপনীয় চুক্তিতে এমন কিছু থাকতে পারে, যা আরটিএর সূত্রে উপরোল্লিখিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী সমঝোতার চেয়েও অধিক জঘন্য ও ক্ষতিকর। সেখানে অর্থনীতি-বহির্ভূত ভূরাজনৈতিক নানা প্রসঙ্গও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেটিকে রাজনীতির পরিভাষায় বলা যেতে পারে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী আচরণ। এখন সমস্যা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের অস্থায়ী ও জবাবদিহিবিহীন ভেবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে যা করে গেল, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে সেটিকে কীভাবে মোকাবেলা করবে? কারণ নির্বাচিত সরকারকে তো ন্যূনতম পরিসরে হলেও দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষার বিষয়টির দিকে তাকাতে হবে।

 

 

 

গণমাধ্যমের খবর, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ শুল্কছাড়, সে দেশ থেকে বর্ধিত হারে পণ্য ক্রয় ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে জাপানও এখন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করতে গিয়ে অনুরূপ সুবিধাদি দাবি করছে, বিশেষত মোটরযানের ওপর থেকে বর্তমানের উচ্চশুল্ক কমিয়ে আনার কথা বলছে (বণিক বার্তা, ৫ অক্টোবর ২০২৫)। জাপানের এ দাবি মোটেও অযৌক্তিক নয়। তদুপরি এটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ধারণা করা যায় যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার জাপানের এ যৌক্তিক দাবি বাংলাদেশের পক্ষে মোটেও উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর জাপানের দেখাদেখি অন্যান্য দেশও—যে ক্রমান্বয়ে অনুরূপ দাবি নিয়ে হাজির হবে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। কারণ ডব্লিউটিওর বিধান বা নিয়ম অনুযায়ী সেটি করার অধিকার তাদের রয়েছে।

 

 

এখন কথা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দিলে ডব্লিউটিওর বিধান অনুযায়ী অনুরূপ সুবিধা যে এর অন্য সদস্য রাষ্ট্রও চাইতে পারে, চুক্তি স্বাক্ষরকালে সেটি কি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের জানা ছিল না? অবশ্যই জানা ছিল, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাণিজ্য সচিবের এ-সংক্রান্ত বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট। কিন্তু তা জানা থাকা সত্ত্বেও এমন একটি আত্মঘাতী চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করলেন কেন ও কেমন করে? এখন এর দায় কে বহন করবে? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এ হীন ও দাসত্ব চুক্তির কারিগর ও কুশীলব হলেও নিজেদের মতো করে সময় পার করে তারা তো ঠিকই চলে যাবেন। সে ক্ষেত্রে মবের ভয় সত্ত্বেও সাহস করে যুক্তি দিয়ে কিছুটা বাধা কি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দিতে পারতেন না? এখন যে এর ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া (চেইন অ্যাফেক্ট) কোথায় গিয়ে থামবে, কেউ তা জানে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আরটিএর উদ্ধৃতি দিয়ে জাপান আজ যা দাবি করছে, দুইদিন পর একই যুক্তিতে অন্য দেশগুলোও সে দাবি করতে থাকবে বৈকি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার রীতিনীতি মেনে ব্যবসায় করতে চাইলে বাংলাদেশ কর্তৃক তা মেনে নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই।

 

 

চার.

এ অবস্থায় বিশেষ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া বাণিজ্যসুবিধা যদি এখন অন্য দেশকেও দিতে হয় তাহলে চরম রাজস্ব ঘাটতিতে থাকা বাংলাদেশকে শুল্ক হ্রাসের কারণে আরো কী পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেউ কি একবার তা হিসাব করে দেখেছেন? অন্যদিকে বর্ধিত মূল্যে গম বা এলএনজি-এলপিজির মতো ভোগ্যপণ্য আমদানির ফলে খুচরা বাজারে ওইসব পণ্যের মূল্য কী দাঁড়াবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি তা ভাবতে পারছে? একইভাবে অতিরিক্ত দাম দিয়ে তুলা বা সয়াবিনের মতো কাঁচামাল আমদানির ফলে বস্ত্র বা ভোজ্যতেলের উৎপাদন খরচ যে অনিবার্যভাবেই বেড়ে যাবে, তাতে আর সন্দেহ কী! একই ধারায় অন্যদেশ থেকে পণ্য আমদানিজনিত কারণেও বাংলাদেশকে একই ধরনের রাজস্ব-ক্ষতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোয় অধিকতর উচ্চমূল্য মেনে নিতে হবে বৈকি! আর এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের বিপদ ও জনগণের ভোগান্তি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেবল সময়ই বলতে পারে।

 

 

পাঁচ.

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরটিএ ও তদসংশ্লিষ্ট গোপনীয় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ ও এর জনগণকে বস্তুতই এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যে ফেলে দিল। এ সরকারের সদস্যরা একসময় আর থাকবেন না। কিন্তু এ দেশ, দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড তো থাকবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগামীদিনের রাষ্ট্র ও জনগণকে এ হীনকর্মের দায় ও উত্তরাধিকার হয়তো আরো বহুদিন পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হবে। আসলে এ জাতি বড়ই দুর্ভাগা। নানাজনের হীনকর্মের দায় বয়ে বেড়াতে বেড়াতেই এতগুলো বছর চলে গেল। আর সে হীনযাত্রার সর্বশেষ পর্যায়ে যুক্ত হওয়া মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আরটিএর জেরে কতিপয় বিপদ ও ভোগান্তি যে সহসাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, উপরের বিশ্লেষণ থেকে তা বোধকরি এখন প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।

 

 

আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়।