মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম পানিতে প্লাবিত হওয়ায় এক লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি জুলাইয়ে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ২৭টি বিল প্লাবিত হয়। বিলের পানি উপচে মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১০০-এর বেশি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় উপাসনালয় ও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার মাছের ঘের।
মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ও নেহালপুর এবং অভয়নগর উপজেলার পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া ও সুন্দলী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। নিরাপদ চলাচল, সুপেয় পানি, গোখাদ্য ও স্যানিটেশন সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে।
ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের বাসিন্দা সুবেন বিশ্বাস জানান, উঠানে হাঁটুপানি জমে থাকায় যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়েছে। সুজাতপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, ‘যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে এবারো দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কারকাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়া, ভবদহের স্লুইসগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন না হওয়া এবং নদীতে পলি জমে থাকার কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনমতের ভিত্তিতে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার ধীরগতির কারণেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দুই বছর আগে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দেয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। একইভাবে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও সম্পূর্ণ হয়নি।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ জানান, শুধু যশোর নয়, ভবদহসংলগ্ন যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ২০০-এর বেশি গ্রাম জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন, খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশের অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ, নদীর পলি অপসারণ, পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, খর্ণিয়া সেতুর প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে এবং ভবদহের তিনটি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে। দ্রুত আরো কয়েকটি গেট চালু করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




