কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ট্রাম্পের শুল্কনীতি : বাংলাদেশের কৌশলগত বিজয়

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু [সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ, ১১ আগস্ট, ২০২৫]

ট্রাম্পের শুল্কনীতি : বাংলাদেশের কৌশলগত বিজয়

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যে শুধু দেশটিতে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে সমগ্র অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন তা নয়, তার নতুন শুল্কনীতি কার্যকর করে বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে ফেলার পর্যায়ে উপনীত করেছেন। গত ৭ আগস্ট থেকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি কার্যকর হয়েছে। বিশ্বের বাণিজ্য চিত্রই পালটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বহু দেশের বিভিন্ন উৎপাদন খাতের শ্রমিক ছাঁটাই, কলকারখানা লে-অফ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আধুনিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ট্রাম্পের শুল্কনীতি নজিববিহীন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ১৯৩৩ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অযৌক্তিকভাবে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করায় বিশ্বজুড়ে মহামন্দার সৃষ্টি হয়েছিল। ট্রাম্পের একগুঁয়েমিপূর্ণ অযৌক্তিক শুল্কহার বিশ্বকে আরেকটি মহামন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে সংশয় ব্যক্ত করতে শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে এবং বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত, সেই দেশগুলোর ওপর গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারী দেশ প্রায় ৪০টি। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার তুলনায় আমদানি করে কম; অর্থাৎ বাণিজ্যে ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক। কিছু দেশ, যারা কোনো পণ্য প্রায় একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, যেমন ব্রাজিল; দেশটির কফির ওপর আরোপ করা হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ৮০ শতাংশ কফি আমদানি করা হয় ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে এবং এর মধ্যে ৩৫ শতাংশই আসে ব্রাজিল থেকে। এর ফলে ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলকে কফির মূল্য হ্রাস করার পরামর্শ দিলে ব্রাজিল সম্মত না হওয়ায় ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করছেন কফি আমদানির ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে। শুধু ব্রাজিল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সঙ্গে প্রতিটি দেশকে তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক ও পণ্য উৎপাদন নীতিমালার সামঞ্জস্য বিধান করা ছাড়া বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা দূর করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

 

শুধু ছোট অর্থনীতির দেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ- কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম. কম্বোডিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। প্রতিটি দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্কনীতির কম-বেশি বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে বাধ্য। সর্বত্র পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি পাবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা। আমদানির ওপর প্রযোজ্য নতুন শুল্কহারের চরম খেসারত দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে। প্রতিটি পণ্য ক্রয়ে ও সেবা গ্রহণে তাদের অধিক ব্যয় করতে হবে, যেহেতু ভোক্তা দেশ হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের স্থান শীর্ষে। মূল্যস্ফীতি ও পণ্য মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেহেতু কর্মজীবীদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, অতএব সীমিত আয়ের কর্মজীবীরা বর্ধিত মূল্যে পণ্য ক্রয়ে বাধ্য হবে।

 

 

করোনা মহামারির সময় থেকে ভোগ্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যে ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, তা হ্রাস পাওয়ার কোনো লক্ষণ কখনও দেখা যায়নি। কোনো কোনো ভোগ্যপণ্যের মূল্য মহামারি-পূর্ব সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বর্ধিত শুল্ক আরোপিত ভোগ্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে এক ঝড়ো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, তার গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্প অর্থনৈতিক মন্দার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বাণিজ্যিক অংশীদার হিসাবে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে আসছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে। তবে একথা সত্য, দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য বরাবর বাংলাদেশের অনুকূলে; অর্থাৎ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণে পণ্য রপ্তানি করে আসছে, সে পরিমাণে পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করছে না। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি প্রধানত চীন ও ভারতের কারণে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবা চীন ও ভারতের পণ্য ও সেবার তুলনায় অনেক বেশি এবং শর্তও কঠিন। অতএব কম মূল্য, সহজ শর্তে বাংলাদেশ চীন থেকে ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত নির্মাণ সেবা গ্রহণ করাকেই প্রাধান্য দেয়। অথচ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বড় উৎস বাংলাদেশ। ২০২৪ সালেও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে মাত্র ২.৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬.১ বিলিয়ন ডলার।

 

 

বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আরও বেশি। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশি, সেসব দেশকে তার প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার অথবা কঠোর শুল্কনীতি মেনে নেওয়ার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলেছে। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনি প্রচারাভিযানে তার মূল কথা ছিল ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি তার প্রতিপাদ্যে অটল রয়েছেন। নিজের দেশকে তিনি মহান করবেন, তা দোষের তো নয়ই, বরং দেশপ্রেমমূলক। আমেরিকার কাছে কিছু বেচতে চাইলে আমেরিকার কাছ থেকেও কিনতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া এ দুই অপশনের কোনোটিকে বেছে নেওয়া অসম্ভব। অতএব তারা অর্থনৈতিক মন্দার অনিবার্য শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত তৈরি পোশাকশিল্পকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

 

 

বাংলাদেশি পণ্য, অর্থাৎ তৈরি পোশাক আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ যখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, ক্রমেই বেড়ে চলা বাণিজ্যিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ২৫টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্ষিক ৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক উচ্চ শুল্কহারের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূর করার ক্ষেত্রে বোয়িং বিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে নিরাপদ রাখতে এ ধরনের জরুরি পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়া এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্কহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকীকরণ ও বহরে বিমান সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে ১৪টি বিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসাবে ১৪টির পরিবর্তে ২৫টি বিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর অধিকতর সুবিধাজনক শুল্কহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ গত মাসেই (জুলাই ২০২৫) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বার্ষিক সাত লাখ টন করে আমেরিকান গম আমদানি করার জন্য। পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও সুতা আমদানি করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর করা এবং আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অনুকূল প্রবেশ বজার রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমেরিকান পণ্য আমদানি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এভাবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

 

 

ভারত যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। ভারত আভাস দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে তাদের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর উৎপাদন ব্যয় অন্তত ১০ শতাংশ হারে বেড়ে যাবে। তাছাড়া ভারতের উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্যে ভারতকে একই পণ্যের উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে চীনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। ফলে আরোপিত শুল্কহারকে ভারত তাদের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের বাধা বলে বিবেচনা করে। এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়াকে কেন্দ্র করে। ভারত হঠাৎ করেই তার তেল আমদানির দুটি বড় প্রচলিত উৎস সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। ভারত তার দেশে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখাসহ বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করলেও যুক্তরাষ্ট্রের তা মনঃপূত হয়নি। ভারত যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণে পণ্য রপ্তানি করে, তার ১০ শতাংশের মতো রপ্তানি করে রাশিয়ায়। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনে ভারতের জিডিপিতে বড় ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

অতএব, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত অনিবার্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে, যা সামলানো ভারতের জন্য খুব সহজ হবে না। এদিকে ট্রাম্পের শুল্কনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা দ্বিধাহীনভাবেই বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহান দেশে’ পরিণত করার বাগাড়ম্বরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কার্যত তার ধনবান ‘ফাইন্যান্সিয়াল জায়ান্ট’ বন্ধুদের সন্তুষ্ট করতে চেয়েছেন, যার চরম খেসারত দিতে হবে সাধারণ আমেরিকানদের।

 

 

লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক ও অনুবাদক