কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

সুদানে যুদ্ধাপরাধ আড়ালের পেছনে কী কারণ

আমগাদ ফারেইদ এলতায়েব [সূত্র : কালবেলা, ০৪ নভেম্বর ২০২৫]

সুদানে যুদ্ধাপরাধ আড়ালের পেছনে কী কারণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন বেন রোডস। তিনি ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকদের একটি স্থবির এবং ক্ষমতা-আবদ্ধ গোষ্ঠীকে একটি ব্যতিক্রমী নাম দিয়েছিলেন। তিনি একে বলেছিলেন ‘দ্য ব্লব’। এর ভেতরে আছে প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাবেক কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অর্থদাতাদের এক অবিচ্ছিন্ন বন্ধন, যাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সংকীর্ণ এবং যাদের মতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু কাঠামো, শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কই বৈধ। এ গোষ্ঠী শুধু রক্ষণশীল অবস্থান ধরে রাখে না, বরং নীতিনির্ধারণে সম্ভাবনার পরিধিও নির্ধারণ করে দেয়। সুদানে চলমান দেড় বছরের বেশি সময়ের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ গোষ্ঠীর তৈরি করা সীমাবদ্ধতাগুলো এখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

 

 

এই গোষ্ঠীর সবচেয়ে বিপজ্জনক আচরণগুলোর একটি হলো একধরনের কৃত্রিম নৈতিক ভারসাম্য তৈরি করা। তারা সুদানের র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সমান পর্যায়ে দেখিয়ে দেয়। প্রথম দেখায় এ অবস্থান নিরপেক্ষ বলেই মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। যারা বিশ্লেষণ লেখে, কূটনৈতিক বিবৃতি দেয়, তারাও এ সমতা বজায় রাখার ভান করে। অথচ বাস্তবে এটি একটি অপরাধপ্রবণ বাহিনীকে একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সমতুল্য করে তোলার চেষ্টা মাত্র। এর ফলে যে ভয়াবহ সহিংসতা এবং জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে, সেগুলোকে শুধু যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সেগুলো পরিকল্পিত, ধারাবাহিক, ভয়ংকর এবং জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ধরনের সন্ত্রাসের চিত্র।

 

 

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পশ্চিম দারফুরে জাতিগত নিধন, জাজিরা ও খার্তুমে বেসামরিক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং বেআইনি আটকের তথ্য উপস্থাপন করেছে। জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের রিপোর্টেও এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত এবং একতরফাভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে আরএসএফ একাই সাধারণ জনগণের ওপর সংঘটিত ৭৭ শতাংশ সহিংসতার জন্য দায়ী। এত স্পষ্ট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্লবের আলোচনায় এ বাস্তবতাগুলো প্রায়ই মুছে যায়।

 

 

যুদ্ধ শুরুর প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খার্তুম দূত জন গডফ্রির একটি টুইটে এ মনোভাব ফুটে ওঠে। তিনি আরএসএফের যৌন সহিংসতার নিন্দা করলেও, স্পষ্টভাবে কে এই কাজ করছে, তা বলেননি। বরং বলেছেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী।’ অথচ নানা প্রমাণে দেখা যাচ্ছে, এ সহিংসতা ধারাবাহিক, পরিকল্পিত এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছিল। এভাবে অপরাধীর নাম না বলে দায়টিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে করে অপরাধীরা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলবে না। ফলে তারা আরও উৎসাহ পায়।

 
 
 

প্রশ্ন ওঠে, কেন এ সমতা তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তথ্যের সত্যতা নয়, বরং কূটনৈতিক সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেয়। যুদ্ধকে সমান দুপক্ষের লড়াই হিসেবে দেখালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা যায়, যারা আরএসএফের পৃষ্ঠপোষক। অথচ এ ধরনের নিরপেক্ষতার মুখোশ আসলে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া। যখন একপক্ষ নিরীহ জনগণের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়, শহর অবরোধ করে রাখে, অনাহারে রাখে, ধর্মীয় স্থান ও বাজারে ড্রোন হামলা চালায়, নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা করে, তখন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা নিরপেক্ষ হিসেবে দেখা নৈতিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছু নয়। এ ঘটনাগুলো তদন্তকারী সাংবাদিকতা এবং মানবাধিকার সংস্থার দলিলেও প্রমাণিত।

 
 
 

আরও উদ্বেগজনক হলো এই যে, ব্লবের অনেক বিশ্লেষক আরএসএফের প্রচার কৌশলও সহজে গ্রহণ করে নিচ্ছেন। এ বাহিনী নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন তারা ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই একটি ছায়া ব্যবহার করে তারা তাদের অপরাধমূলক অতীত, পাচারের নেটওয়ার্ক, সম্পদ লুট এবং বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা আড়াল করে ফেলছে। তারা এমনকি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে গাজা থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়েছে, যেন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে নিজেদের উপযোগী করে তুলতে পারে।

 

 

এ প্রচারণা সরাসরি ব্লবের দিকে ছোড়া একটি বার্তা। যেন বলা হচ্ছে, আমাদের গ্রহণ করুন, কারণ আমরা আপনাদের মতোই ভাবি। ফলে কিছু বিশিষ্ট কূটনীতিক ও বিশ্লেষক আরএসএফকে ‘ইসলামপন্থি উত্থান’-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধশক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। এটি একটি ভয়াবহ মোড় নেয়, কারণ তখন একটি যুদ্ধাপরাধে জড়িত বাহিনীও যেন কৌশলগত এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

 

 

যখন এ দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের নামে প্রতিষ্ঠা পায়, তখন সুদানের বাস্তবতা আড়াল হয়ে যায়। যারা সামরিক সহিংসতা কিংবা ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে থেকে নতুন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে চায়, তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যায়। একটি অপরাধী মিলিশিয়াকে বৈধতা দিয়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া শুধু নীতিনির্ধারণের সংকট নয়, এটি এক গভীর মানবিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

 

 

সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যখন র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সক্রিয় সমর্থনের দলিল-প্রমাণ হাতে রয়েছে, তখন সুদানিজ সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়ে এক ধরনের অস্পষ্ট অভিযোগও সামনে আনা হয়। বলা হয়, মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আদর্শগতভাবে ভিন্নমতাবলম্বী দেশগুলো সুদানিজ সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে রয়েছে। এ বক্তব্য আরএসএফের প্রচারের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ এবং অনেক সময় মূলধারার সংবাদেও উঠে আসে।

 

 

কিন্তু বাস্তবে এ চারটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থান একে অন্যের পরিপন্থি। মিশর একটি ধর্মনিরপেক্ষ, ইসলামপন্থাবিরোধী রাষ্ট্র। তুরস্কের সরকার ইসলামী ভাবধারায় ঝোঁকে। সৌদি আরব একটি সুন্নি ওয়াহাবি রাজতন্ত্র আর ইরান একটি শিয়া ধর্মীয় রাষ্ট্র। এই চার দেশের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু বছর ধরে চলে আসছে, যার প্রভাব ইয়েমেন থেকে লিবিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। সুতরাং, এদের মধ্যে একটি অভিন্ন কৌশলগত ঐক্য গড়ে ওঠা বাস্তবসম্মত নয়, যদি না আদর্শের বদলে শুধু স্বার্থনির্ভর ব্যবহারিকতা জায়গা নেয়।

 

 

এর বাইরেও বড় যে বৈপরীত্যটি চোখে পড়ে তা হলো, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা পাওয়া যায়, তা প্রধানত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পোর্ট সুদান সরকারের সঙ্গে প্রচলিত অস্ত্র চুক্তির মাধ্যমে হয়। অর্থাৎ, এটি রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত সম্পর্ক। অন্যদিকে আরএসএফ পাচ্ছে কোনো নিয়ন্ত্রণহীন সহায়তা, যা সরাসরি এক মিলিশিয়াকে ক্ষমতাশালী করে তুলছে। আরএসএফকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যাকারী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সুতরাং একটি রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী এবং অন্য একটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত অপরাধী মিলিশিয়াকে এক কাতারে বসানো এক ধরনের বিকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

 

 

আরও ভয়াবহ হলো, ব্লব যে গোষ্ঠীগুলোকে ‘বেসামরিক শক্তি’ হিসেবে গ্রহণ করছে, তাদের অনেকেই আরএসএফের সঙ্গে যুক্ত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবাধীন। এর মধ্যে একটি হলো ‘সমুদ’, যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদোক। তিনি আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণ সংগঠন ‘সেন্টার ফর আফ্রিকাস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’-এর চেয়ারম্যান। এসব সংস্থা এবং ব্যক্তি ব্লবের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে ‘বাস্তববাদী মধ্যপন্থি’ কিংবা ‘বেসামরিক অংশীদার’ পরিচয়ে, অথচ সুদানের ভেতরের প্রকৃত জনভিত্তিক সংগঠনগুলো তখন উপেক্ষিত থাকে।

 

 

এভাবে বাইরে থেকে তৈরি করা ছদ্ম প্রতিনিধি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে মধ্যস্থতাকে একপ্রকার নাটকে পরিণত করা হয়। এতে করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি গিয়ে পড়ে আরএসএফের স্বার্থে, আর দেশের ভেতরে যারা প্রকৃত গণতন্ত্র ও জনশক্তির প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আরএসএফের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ককে ঘিরে প্রচার চালানো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এ ধরনের কৃত্রিম ক্ষমতা বিন্যাস সমর্থন করা বিপজ্জনক।

 

 

এ ত্রুটিগুলো শুধু চিন্তার নয়, এগুলো বাস্তব ক্ষতি ডেকে আনে। আরএসএফকে এভাবে বৈধতা দেওয়া হলে, আইনি ও রাজনৈতিক জবাবদিহির পথ সংকুচিত হয়ে যায়। তখন নীতিগত প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায় শুধু বাহ্যিক যুদ্ধবিরতি এবং কথিত স্থিতিশীলতার ছক, যা যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি এবং অস্ত্র সরবরাহকে বজায় রাখে। এ অবস্থায় প্রকৃত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ যেমন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ চেইনে বাধা সৃষ্টি, অপরাধীদের নাম প্রকাশ—সবই বিলম্বিত হয়, যতক্ষণ না অপরাধ চরমে পৌঁছে যায়।

 

 

এ অবক্ষয়ের শেষ নেই। বরং তা আরও গভীরে গিয়ে আরএসএফের স্বৈরশাসনের আকাঙ্ক্ষাকে উসকে দেয়, বিশেষ করে যখন তারা তথাকথিত বেসামরিক সহযোগীদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করে। এই সমতা প্রদর্শনের সুযোগ নিয়ে তারা পশ্চিম সুদানে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো ‘তাসিস’ ঘোষণা করেছে। যদিও তা শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ, তবু এটি ভিন্নমতের একটি বৈধতা দাবি করে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার হুমকিও তৈরি করে, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মত একতাবদ্ধ।

 

 

এ পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। যারা বিশ্লেষণ করেন এবং যারা নীতি তৈরি করেন, তাদের এ মিথ্যা সমতা থেকে সরে আসতে হবে। সমানতাল যুদ্ধ আর অসম অপরাধযজ্ঞ এক জিনিস নয়। যেখানে একপাক্ষিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ আছে, সেখানে নীতিগত বক্তব্য এবং পদক্ষেপ সেই অনুযায়ী হতে হবে। শুধু ‘উভয়পক্ষ’ বলে দায় এড়ানো যাবে না।

 

 

তাদের আরএসএফের প্রচারও প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ‘ইসলামপন্থি বিরোধিতা’ এ বক্তব্য আসলে একটি রাজনৈতিক স্লোগান মাত্র, কোনো বিশ্লেষণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের কেন্দ্রে থাকা উচিত সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং সেই সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের আসল নাগরিক সমাজের সাক্ষ্য। সুদান কে শাসন করবে, এ সিদ্ধান্ত একমাত্র সুদানের জনগণের। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তারা একত্র হয়ে ওমর আল বশিরের দীর্ঘদিনের শাসন শেষ করেছিল—তাদের হাতে ছিল না বিদেশি সহায়তা, ছিল শুধু নিজেদের শক্তি ও সিদ্ধান্ত।

 

 

এ ছাড়া, যারা নিজেদের বেসামরিক পরিচয় ব্যবহার করে ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, কিন্তু আসলে মিলিশিয়া বা বিদেশি প্রভুর সঙ্গে যুক্ত, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। মধ্যস্থতার দায়িত্ব শুধু তাদেরই দেওয়া উচিত, যাদের প্রকৃত জনভিত্তি আছে।

 

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ অপরাধের সহায়তাকারীদের নাম প্রকাশ করে, আইনি এবং বাস্তবিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু বিবৃতি দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় না, প্রয়োজন নিষেধাজ্ঞা, আকাশপথ রোধ এবং জবাবদিহির মাধ্যমে বাস্তব প্রয়োগ।

 

 

যদি ব্লব নিজের অবস্থান থেকে না সরে, তাহলে বিকল্প শক্তিগুলোকেই সামনে আসতে হবে। সুদানের নাগরিক সমাজ, প্রবাসী সক্রিয়কর্মী, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ নীতিনির্ধারকরা পারবে তথ্য তুলে ধরতে এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে চাপ সৃষ্টি করতে।

 

 

যে কূটনীতি নিরপেক্ষতার আড়ালে অপরাধ ঢেকে রাখে, তা আসলে সহিংসতাকে দীর্ঘায়িত করে। শুধু সেই কূটনীতিই টিকে থাকতে পারে, যার ভিত্তি সুদানের জনগণের কর্তৃত্ব, প্রমাণভিত্তিক সত্য এবং অনমনীয় জবাবদিহি।

 

 

সুদানের মানুষ করুণা চায় না। তারা চায় বিশ্ব পরিমণ্ডলের ভাবনায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসুক। যারা আক্রমণ চালায় তাদের রক্ষকদের সঙ্গে এক কাতারে রাখা বন্ধ হোক। যারা সহিংসতা চালায়, তাদের ভাষা আর মুখপাত্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হোক এবং সুদানের ভেতরে থাকা জীবন্ত নাগরিক শক্তিকে কৃত্রিম মুখোশ দিয়ে প্রতিস্থাপন না করা হোক।

 

 

যতদিন না ওয়াশিংটনের অভিজাতরা সুদানিদের জিওপলিটিকসের ‘বিষয়’ নয় বরং ন্যায়ের দাবিদার নাগরিক হিসেবে দেখতে শিখবে, ততদিন এই ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি রক্তপাতেরই অনুমোদন দিয়ে যাবে।

 

 

লেখক: সুদানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিকরা ফর স্টাডিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক। কাজ করেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক সুরক্ষা নিয়ে। নিবন্ধটি আলজাজিরার মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ করেছেন তারেক খান