সত্যিই কি হরমুজের এক প্রান্ত দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান?
[আপডেট: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬]

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল ইরান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স তেহরানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত- এমন একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ওমানের উপকূল ধরে নিরাপদে হরমুজ পেরোতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজ কিংবা ট্যাঙ্কার। এই মর্মে ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকাকে প্রস্তাব পাঠানোও হয়েছে বলে ওই সূত্রটির দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এড়াতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই ওমানের দিক দিয়ে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি ইরান ভেবে দেখছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রেখেছে তেহরান। তাহলো- ইরানের প্রায় সমস্ত দাবিই মেনে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এই বিষয়ে এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি হোয়াইট হাউস। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি।
অথচ কয়েক দিন আগে পর্যন্তও হরমুজ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইরান। বলা হয়েছিল, ওই প্রণালী ব্যবহার করলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কাছ থেকে শুল্ক আদায় করবে তেহরান। হরমুজে ইরানের আধিপত্য খর্ব করতে রবিবার এই প্রণালী অবরোধ করার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে বিপাকে পড়ে পণ্যবাহী জাহাজগুলো। বিশেষত তেলবাহী জাহাজগুলো।
প্রসঙ্গত, হরমুজ হলো পারস্য এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু একটি প্রণালী। সবচেয়ে সরু অংশ চওড়ায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। এর এক দিকে ইরান, অপর দিকে ওমান। ভৌগোলিক কারণেই হরমুজের উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বেশি। আর আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এই ভৌগোলিক সুবিধাকেই তারা হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইসরায়েল। এই সংঘাতের আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করত অন্তত ১৩০টি জাহাজ। সংঘাত শুরু হওয়ার পরে হরমুজ অবরোধ করে রাখে তেহরান। তার পরে সেখান দিয়ে জাহাজ পারাপার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ