কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট ১২ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক [প্রকাশ: বণিকবার্তা, ৭ এপ্রিল ২০২৬]

সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট ১২ মে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ মে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ গতকাল বলেছেন, ‘আজ মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা ৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ ১২ মে। এ নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরে জানানো হবে।’

 

গতকাল ১১তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আখতার আহমেদ। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও কমিশনের কর্মকর্তারা এ সভায় অংশ নেন।

 

 

আখতার আহমেদ বলেন, ‘জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন ছয়জন ইনডিপেনডেন্ট ক্যান্ডিডেট, যারা একজোট করেছেন। বিএনপির সঙ্গে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর ও আন্দালিব রহমান পার্থর দল আছে। আর জামায়াতের সঙ্গে আছে এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলন। রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে যাবেন না, এটা বলেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জোট ৩৬ আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।’

 

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেয়ায় উপনির্বাচন হবে। এর বাইরে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতা থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

 

বিএনপির সংসদে প্রতিনিধি আছেন ২০৮ জন, এনসিপির ছয়জন, জামায়াতের ৬৮ জন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসন পেয়েছে দুটি, ইসলামী আন্দোলন একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি, খেলাফত মজলিস একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা।

 

 

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এ আইন অনুযায়ী মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। এছাড়া গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দল ও জোটভিত্তিক সদস্যদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হয়।

 

 

আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে চেয়ে সরকারকে চিঠি দিলে সরকার তাতে সায় দেয়নি। ইভিএম নিয়ে নানা সমালোচনা থাকায় বর্তমান কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করে।

 

 

নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণের বিষয়ে ইসির কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব জানান, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের সামগ্রী সংরক্ষণ ন্যূনতম এক বছর রাখতে হবে। তবে কোনো আসনের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলে সে অনুযায়ী নির্বাচনী সামগ্রী নিষ্পত্তি করা হবে।

 

 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হবে। সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বাড়ানো হলো, ইসি কী ব্যবস্থা নেবে—এ প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা আরো সময়সীমা বাড়িয়েছি। এ সময়সীমা অতিক্রান্ত হোক, তারপর সিদ্ধান্ত হবে আমরা কী করব।’