কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

সবার উপর দেশ সত্য, তার উপরে নাই

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী [সূত্র : যুগান্তর, ২৬ আগস্ট ২০২৫]

সবার উপর দেশ সত্য, তার উপরে নাই

কথায় বলে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। অর্থাৎ আমরা যে দল বা গোষ্ঠীকে সমর্থন করি না কেন, সর্বাবস্থায় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু অনেক সময় আমরা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ ভুলে যাই। মনে রাখতে হবে, দেশ না বাঁচলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা যদি জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে দল বা গোষ্ঠীস্বার্থকে প্রাধান্য দিই, তাহলে সমস্যা শুধু বাড়তেই থাকবে। বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। দেশে নানা সমস্যা আছে এবং থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে সমস্যা দেখে ভয় পেলে চলবে না। সম্মিলিত উদ্যোগে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধানে ব্রতী হতে হবে।

 

 

বাংলাদেশের মানুষ বীরের জাতি। আমরা নানা সমস্যা ও সংকট কাটিয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছি। অতীতে আমরা বারবার প্রমাণ করেছি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে এদেশের মানুষ কখনোই অপশক্তির সঙ্গে আপস করতে জানে না। বাংলাদেশ বারবার বিদেশি শক্তির করতলগত হয়েছে, কখনো বা দেশীয় অপশক্তির দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই স্থানীয় বা বিদেশি অপশক্তির আধিপত্য মেনে নেয়নি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও গণমানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতালিপ্সা জাতিকে বারবার বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ আশার আলো দেখেছিল। তারা মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ধুলোয় লুটাতে খুব একটা সময় লাগেনি। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাড়ে তিন বছরের স্বেচ্ছাচারী শাসনের কবলে পড়ে মানুষের প্রত্যাশা ভেস্তে যায়। স্বল্পসময়ের ব্যবধানে দেশকে নরকে পরিণত করা হয়। একপর্যায়ে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার মানসে একদলীয় বাকশাল গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়। একই বছর ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। তারপর দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়। কিন্তু সেই রাস্তা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। আমাদের দেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিকভাবে সরকার গঠনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ দুটি প্রত্যাশা অধরাই রয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার তাদের অধিকার আদায়ের জন্য চরম মূল্য দিয়েছে।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সংঘটিত হয় ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান। এ গণ-অভ্যুত্থান তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনার ফল নয়, এটা দীর্ঘদিনের না পাওয়ার বেদনা থেকেই উৎসারিত অন্যতম সফল গণ-অভ্যুত্থান। এ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম নিষ্ঠুর ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকারভাবেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয়। তারা স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য জীবন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। যখনই কোনো সরকার মানুষের অধিকার হরণ করেছে, তখনই এ দেশের জনগণ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সেজন্যই আমি বলি বাংলাদেশিরা বীরের জাতি। তারা কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘদিন অন্যায়-অত্যাচার মেনে নেয় না। বলা হয়, বীরের এই রক্তস্রোত, মাতার এ অশ্রুধারা যায় না বৃথা। আজ গণতন্ত্রে উত্তরণের যে সংকট লক্ষ করা যাচ্ছে, তা অতিক্রম করা নিশ্চয়ই সম্ভব। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। এখানে আমাদের সমঝোতায় উপনীত হতে হবে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমরা যদি জাতীয় স্বার্থে এক হতে না পারি, তাহলে পতিত স্বৈরাচার আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সেই অবস্থা নিশ্চয়ই কারও কাম্য হতে পারে না।

 

 

এ মুহূর্তে মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে একটি নতুন গণতান্ত্রিক, মানবকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে স্থান দেয়, তাহলে মানুষের প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা অসম্ভব কিছু নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য এ মুহূর্তে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সময়সূচি মোতাবেক, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অর্থাৎ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তারপরও নির্বাচন নিয়ে যেটুকু অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের আলাদা আলাদা কর্মসূচি থাকে। যেসব রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শামিল ছিল বা সমর্থন করেছে, তারা সবাই চায় দেশে কার্যকর, উদার এবং কল্যাণমূলক গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হোক। এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখতে চায়, সেহেতু তাদের মধ্যে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে মতান্তর থাকা উচিত নয়। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতান্তর লক্ষ করা যাচ্ছে নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে। কেউ বলছে, নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হোক, এটাই দেশের জন্য কল্যাণকর হবে। আবার অন্য পক্ষ বলছে, নির্বাচন সনাতন পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হোক। কেউ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, তা সম্পন্ন করার পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তার বিচার নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে।

 

 

 

আমাদের মনে রাখতে হবে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কার হঠাৎ করেই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়া চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এজন্য সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সংস্কার অসমাপ্ত রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত নয় এমন যুক্তি ধোপে টেকে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, নির্বাচিত সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবে। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের বিচারের অজুহাতে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা কোনোভাবেই সংগত হবে না। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে, দেশ সবার উপরে, তাহলে এসব নিয়ে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দেশের স্বার্থকে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

 

 

অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংগত নয়। এতে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে কোনো কোনো মহল থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত সময় অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আন্তরিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি তার দায়িত্ব শেষ করতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে সংশয় জাগছে, প্রফেসর ইউনূস যা চান সব উপদেষ্টা তা চান কি না। এ বিষয়টিও আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় না। ড. ইউনূস যদি নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকেন, তাহলে যেসব উপদেষ্টা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন বিলম্বিতকরণের পক্ষে, তারা তেমন কোনো সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ, নির্বাচন বা এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে আসবে। আমি মনে করি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন আছেন। তিনি ভালো করেই জানেন এ সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার দায়ভার চূড়ান্ত পর্যায়ে তাকেই বহন করতে হবে।

 

 

বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ সততা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে। যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া চলবে না। বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের সম্পদ লুটে নিয়েছে। অনেকে সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব রোর্ডের গোয়েন্দা শাখা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দেশে বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের একটি বিশেষ কারণ ছিল রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট করা। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে যদি একইভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ওঠে, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি অত্যন্ত শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে। যদি প্রমাণিত হয়, কোনো উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করেছেন, তাহলে এমন শাস্তির বিধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতের জন্য তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যতটুকু সম্ভব সংস্কার কার্যক্রম চালাতে হবে। অসমাপ্ত সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে নির্বাচিত সরকার। নির্বাচন আগে নাকি সংস্কার আগে, নির্বাচন আগে নাকি বিচার আগে-এমন শর্ত দিয়ে জাতীয় নির্বাচন প্রলম্বিত করা কোনোভাবেই সংগত হবে না। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঐকমত্যে উপনীত হতে পারেনি। তাই আমি মনে করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সনাতনী পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে তাদের পছন্দনীয় প্রার্থিকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো সচেতন নয়। কাজেই এ ব্যাপারে জনগণকে আগে সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিগত সরকারের আমলে যখন ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তখন অনেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তিতে কর্ণপাত করা হয়নি। পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে, ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ ও গণনার ক্ষেত্রে কারচুপি করা হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ সফল হয়নি। এ পর্যায়ে পিআর পদ্ধতিতে নয়, প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যেতে পারে। সেটাই জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে।

 

 

আমরা যদি দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখি, জাতির মঙ্গল কামনা করি, তাহলে এসব ছোটখাটো বিতর্ক উপেক্ষা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান করা সম্ভব। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়। কোনোভাবেই দেশের ক্ষতি করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ উদ্ধার করা সংগত হবে না। আমরা উদার গণতান্ত্রিক মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই। এ জাতির মর্যাদা বাড়াতে চাই। আমাদের সেভাবেই অগ্রসর হতে হবে। সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে আটকে থাকলে চলবে না।

 

 


অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত