সাধারণ নির্বাচন : জাপানে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল
[প্রকাশ: সময়ের আলো, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

জাপানের নিম্নকক্ষ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয়ের পথে। গতকাল রোববার ভোটাভুটির পর এক বুথ-ফেরত জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকের জরিপে দেখা যায়, ৪৬৫ আসনের সংসদে এলডিপি এককভাবে ২৭৪ থেকে ৩২৮টি আসন পেতে পারে। এর ফলে, দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সংগৃহীত ফলাফল অনুযায়ী, গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৩১৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।
নিজ দলের জয়ের আভাস পাওয়ার পর তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ক্রমাগত একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।’
সানায়ে তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে বেশ চাপে ছিল। দলের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস পরেই তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন।
করছাড় ও ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিছু ভোটারের সমর্থন অর্জন করেছেন তাকাইচি। তবে, সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তাকাইচি এখন তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন- জাপানের ‘শান্তিবাদী সংবিধান’ সংশোধনের পথে হাঁটতে পারবেন। এর ফলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সেনাবাহিনীর ওপর থাকা আইনি সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।