
রাষ্ট্রপতির শপথ উপলক্ষে প্রস্তুত বঙ্গভবন
[আমাদের সময়; ২১ আগস্ট ২০২৬]
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য রাজধানীর বঙ্গভবনের দরবার হল প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।
শপথ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও কোরআন তেলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।
২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।
সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মিলিয়ে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে নয়জন ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন। ভোট শেষে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
ভোট গণনা শেষে বিকেলে সংসদ কক্ষে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই সর্বশেষ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এবার দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হয় পদ
এর আগে গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



