পশ্চিমা আগ্রাসনের অন্য নাম ইসলামোফোবিয়া
ড. মাহফুজ পারভেজ [প্রকাশ : যুগান্তর, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

বর্তমান বিশ্বে সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসনের নগ্ন দৃষ্টান্তের নাম ‘ইসলামোফোবিয়া’। ইসলামোফোবিয়া সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতি ও সমাজে একটি বহুল আলোচিত ও উদ্বেগজনক বিষয়। শব্দটি ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি ভয় বা শঙ্কাকে নির্দেশ করে। তবে এর গভীরে নিহিত রয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক ঘৃণা, বৈষম্য, কাঠামোগত বর্জন ও রাজনৈতিক অপপ্রচার। ইসলামোফোবিয়া আজ কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি সুসংহত মতাদর্শ, যা মুসলমানদের ‘অন্য’ হিসাবে উপস্থাপন করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যকে বৈধতা দেয়।
ঐতিহাসিক শিকড়ের সন্ধানকালে প্রাচ্যবাদ থেকে ইসলামোফোবিয়া পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পরিক্রমা দেখা যায়। ইসলামোফোবিয়ার শিকড় মধ্যযুগীয় খ্রিষ্টান-ইসলামিক দ্বন্দ্বে নিহিত। ক্রুসেড, রিকনকুইস্তা এবং তুরস্কের উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় শক্তির সংঘাত মুসলমানদের ইউরোপীয় কল্পনায় চিরশত্রু হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী ঔপনিবেশিক যুগে দখলদারি কায়েমের স্বার্থে মুসলিম জনগোষ্ঠী ও সমাজকে প্রায়ই বর্বর, পশ্চাৎপদ, অসভ্য বলে উপস্থাপন করা হয়, যাতে পশ্চিমা আগ্রাসন, লুণ্ঠন, কর্তৃত্ব ও আধিপত্যকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়।
এডওয়ার্ড সাঈদ দেখিয়েছেন, পশ্চিমা জ্ঞানতত্ত্ব কীভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের একেবারেই ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘সহিংস অন্য’ হিসাবে নির্মাণ করেছে। ইসলামোফোবিয়া এ প্রাচ্যবাদী কাঠামোর একটি আধুনিক পুনরুৎপাদন, যা থেকে ৯/১১-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আধুনিক ইসলামোফোবিয়ার উত্থান ঘটে এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইসলামোফোবিয়া পশ্চিমা সমাজে নতুন মাত্রা পায়। ইসলামকে ‘সন্ত্রাসবাদের ধর্ম’ হিসাবে চিত্রিত করা হয়। মুসলমানদের একতরফা ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সন্ত্রাসী’, ‘চরমপন্থি’ বা ‘অসহিষ্ণু’ বলে চিহ্নিত করা হতে থাকে। মিডিয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নিরাপত্তা নীতিমালায় সুকৌশলে ‘মুসলিম পরিচয়’কে একটি নিরাপত্তা হুমকিতে রূপান্তরিত করা হয়; যার রাজনৈতিক ও সামাজিক বহিঃপ্রকাশ হিসাবে ইউরোপে হিজাব বা বোরকা নিষিদ্ধ করার আইন, মুসলিম অভিবাসীদের সীমান্তে আটক, নির্যাতন ও বর্জন, পশ্চিমা মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম চরিত্রদের সন্ত্রাসী বা পশ্চাৎপদ রূপে উপস্থাপন এবং কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষায় মুসলিমদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হতে থাকে।
এভাবে ইসলামোফোবিয়া কেবল সাংস্কৃতিক ঘৃণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি সামাজিক কাঠামো, রাজনৈতিক আক্রমণ ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এহেন ইসলামোফোবিয়ার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। যেমন, মুসলমানদের একটি অভিন্ন, অপরিবর্তনীয় এবং নেতিবাচক গোষ্ঠী হিসাবে চিত্রিত করা; ইসলামকে সহিংসতা, নারীবিদ্বেষ, সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসাবে উপস্থাপন; মুসলমানদের নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করা; মুসলিম জনগোষ্ঠীকে স্থায়ী নিরাপত্তা হুমকি হিসাবে চিত্রিত করা ইত্যাদি।
একইভাবে, পশ্চিমা জগতে চরম ইসলামবিদ্বেষ ও আক্রমণের সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রভাব হয়েছে ভয়াবহ। যেমন, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম শরণার্থীদের আশ্রয় প্রক্রিয়া জটিল হয়েছে; মুসলিম যুবকদের প্রতি পুলিশের নজরদারি বেড়েছে; সামাজিক মেরুকরণ ও বিভাজন বেড়েছে; আন্তর্জাতিক সম্পর্কগত ক্ষেত্রে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো প্রায়ই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে কূটনীতি ও বাণিজ্যে বৈষম্য ও অবরোধের শিকার হয়েছে এবং বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় বিশেষত ইউরোপ ও আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়ার শিকার হয়েছেন।
নানা ক্ষেত্র ও পর্যায় থেকে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একাডেমিক প্রতিক্রিয়ায় এডওয়ার্ড সাঈদ, কারেন আর্মস্ট্রং, তালাল আসাদ প্রমুখ গবেষক ইসলামোফোবিয়ার বৌদ্ধিক ভিত্তি খণ্ডন করেছেন। আইনগত পদক্ষেপে ইউরোপ ও আমেরিকায় নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো ইসলামোফোবিয়াকে বর্ণবাদের একটি রূপ হিসাবে স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছে। সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, মানবাধিকার প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলার চেষ্টা চলছে এবং ইসলামি প্রতিক্রিয়ায় অনেক মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক ইসলামকে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার ধর্ম হিসাবে আবারও ব্যাখ্যা করে ইসলামফোবিয়ার চরম মিথ্যাচারের জবাব দিচ্ছেন।
ইসলামোফোবিয়া, প্রাচ্যবাদী উত্তরাধিকার, আধুনিক রূপ এবং বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে কারেন আর্মস্ট্রং ও এডওয়ার্ড সাঈদ বৌদ্ধিক প্রতিরোধ গড়েছেন বেশ আগেই। কারেন আর্মস্ট্রং ইসলামকে মানবিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়ার প্রতিবাদ করেছেন। তার Muhammad : A Biography of the Prophet এবং Islam : A Short History গ্রন্থে মানবিক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ও মুসলিমদের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, ইসলাম একটি সহিংসতার নয়, বরং দয়া, ন্যায়বিচার ও করুণার ধর্ম। ইসলামোফোবিয়ার প্রচলিত বয়ানের বিপরীতে তিনি যুক্তি দেন, নবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়ের একজন বিশ্বজনীন দৃষ্টান্ত। আর্মস্ট্রং ইসলামকে আধুনিক মানবাধিকারের আলোচনার সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি বিকল্প বয়ান তৈরি করেছেন, যা ইসলামোফোবিয়ার একমুখী নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে।
তুলনামূলক পর্যালোচনায় সাঈদ দেখিয়েছেন, ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক শিকড় ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া এবং আর্মস্ট্রং দেখিয়েছেন, ইসলামোফোবিয়ার বিকল্প বর্ণনা কীভাবে নির্মাণ করা যায়। এতে উভয়েই ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বৌদ্ধিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রতিবাদের পরিসর তৈরি করে দিয়েছেন।
এডওয়ার্ড সাঈদের বিশ্লেষণে যেমন উঠে এসেছে, ‘প্রাচ্য’কে পশ্চিমের দৃষ্টিতে একটি স্থির, অযৌক্তিক ও বহিরাগত বাস্তবতা হিসাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পশ্চিমকে উপস্থাপন করা হয় যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল ও শ্রেষ্ঠ হিসাবে। এ নির্মিত দ্বৈততার ভেতর ইসলাম ও মুসলিমরা বারবার ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছেন-যুদ্ধবাজ, ভোগলিপ্সু, কিংবা রাজনৈতিক ছলনাকারী হিসাবে।
এ প্রেক্ষাপটেই কারেন আর্মস্ট্রংয়ের নবী মুহাম্মদের (সা.) জীবনীটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন পশ্চিমা ধর্ম-ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবী হিসাবে তিনি শুধু একটি জীবনী রচনা করেননি, বরং ইসলামোফোবিয়ার মিথভাঙার জন্য একটি সুসংহত প্রতিপক্ষীয় বক্তব্য বা কাউন্টার-ডিসকোর্স হাজির করেছেন। তার কাজকে তাই শুধু ইতিহাস-লেখা নয়, বরং এক ধরনের ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসাবেও দেখা যায়। আর্মস্ট্রংয়ের আলোচনার পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য হলো প্রাসঙ্গিকীকরণে তার দৃঢ় অবস্থান। তিনি প্রশংসামূলক ও বিতর্কমূলক উভয় চিত্রণ থেকে দূরে সরে এসে সপ্তম শতকের আরব সমাজের বাস্তব প্রেক্ষাপটে নবী মুহাম্মদের (সা.) জীবন ও মিশনকে মানবিকতার পাটাতনে স্থাপন করেছেন। তাছাড়া, প্রাচ্যবাদী বর্ণনায় আরব সভ্যতাকে প্রায়ই এক অদ্ভুত, অযৌক্তিক ও রহস্যঘেরা ‘অন্য’ হিসাবে উপস্থাপন করার বিপরীতে আর্মস্ট্রং কাজ করেছেন। তিনি উপজাতীয় কাঠামো, মক্কার বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতি, মূর্তিপূজা এবং জাহিলি যুগের অসমতা ইত্যাদিকে সুস্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আরব সমাজকে বিচ্ছিন্ন ‘অন্য’ হিসাবে নয়, বরং বাস্তব যুক্তিসংবলিত এক ঐতিহাসিক সমাজ হিসাবে দেখা যায়।
আর্মস্ট্রং নবী মুহাম্মদকে (সা.) মিথ ও রূপকথার চরিত্র নয়, বরং একজন কার্যকর নেতা, সামাজিক সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, নবীর (সা.) মিশন ছিল একটি মৌলিক-সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার (আদল), করুণা (রহমাহ) এবং বিশ্বাসভিত্তিক সম্প্রদায় (উম্মাহ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পদানত মানবতাকে মর্যাদায় উদ্ভাসিত করা। তাছাড়া, ইসলামোফোবিয়ার মূল অভিযোগ, ইসলাম সহিংসতার ধর্ম, ধারণাটিকে আর্মস্ট্রং সবচেয়ে কঠোরভাবে খণ্ডন করেছেন নবীর প্রাপ্ত ওহি এবং তার সামাজিক তাৎপর্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। আর্মস্ট্রং দেখিয়েছেন, প্রাথমিক মক্কী ওহিগুলো ধন-সম্পদের একচেটিয়া সঞ্চয়, এতিম ও দরিদ্রদের অবহেলা এবং নিপীড়নকারী ধনিকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছিল তীব্র সমালোচনা। এগুলো ছিল নিপীড়িতদের মুক্তি, আর্থিক ন্যায়বিচার এবং মানবমর্যাদার প্রতি আহ্বান। ফলে ইসলামকে শুধু একটি আচারনির্ভর ধর্ম নয়, বরং মৌলিক বিবেচনায় মুক্তি ও কল্যাণের ধর্মতত্ত্ব হিসাবে দেখা যায়।
অধিকন্তু আর্মস্ট্রং ঐতিহাসিকভাবে দেখিয়েছেন, মক্কার মুসলিমরা ১৩ বছর নির্যাতন ও বয়কট সহ্য করেছেন, কোনো প্রতিশোধ নেননি। মদিনায় যুদ্ধ করার অনুমতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক, অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকে (কুরআন ২২:৩৯-৪০)। বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধগুলো ছিল টিকে থাকার সংগ্রাম, আক্রমণ নয়। মক্কা বিজয়ের পর নবী (সা.) প্রতিশোধ নয়, বরং সর্বজনীন ক্ষমা ও সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এসবই ইসলামোফোবিক ‘সহিংস মুসলমান’ ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ভেঙে দেয়।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও আর্মস্ট্রংয়ের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মদিনা সনদকে একটি বৈপ্লবিক সামাজিক চুক্তি হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। বলেছেন, এটি বহু-ধর্মীয় রাজনৈতিক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে নাগরিকত্ব ও প্রতিরক্ষা যৌথভাবে ভাগাভাগি করা হয়েছে। এটি আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে-নবী (সা.) ছিলেন ওহির আলোকে বিচারক, যিনি উপজাতীয় স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এটি দেখিয়েছে, ইসলাম রাজনৈতিক দর্শনের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেখানে বহুত্ববাদ, আইনশৃঙ্খলা এবং উত্তম শাসন অন্তর্ভুক্ত।
কারেন আর্মস্ট্রংয়ের বইটি ইসলামোফোবিয়ার এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষেধক, যা ইসলামের মানবতাবাদী-ধর্মতাত্ত্বিক চৈতন্যের শক্তিতে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে পশ্চিমা আগ্রাসন ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে অধিকতর প্রতিবাদের পথ দেখায়। তার গ্রন্থ নবীকে (সা.) মানবিক করে তোলে সংগ্রাম ও করুণার দিকটি সামনে আনার মাধ্যমে। ইসলামি আচার ও ইতিহাসকে বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে কুধারণা তথা ভীতি ও বিভ্রান্তি দূর করে। আর্মস্ট্রংয়ের কাজ তাই শুধু ইতিহাস নয়, বরং আধুনিক বিশ্বে আন্তঃধর্মীয় বোঝাপড়া, শান্তি এবং সহাবস্থানের জন্য একটি অপরিহার্য সেতু। তার বিশ্লেষণ ইসলামোফোবিয়াকে প্রতিহত করার এক শক্তিশালী টিকা।
বাংলাদেশ যেহেতু পশ্চিমা তথা আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বলয়ের বাইরে নয়, সেহেতু যাবতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ অব্যাহত থাকা খুবই জরুরি। এটাও জরুরি যে, সাংস্কৃতিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে প্রতিবাদের প্রতীতি ও প্রত্যয়কে প্রসারিত করার মাধ্যমে একটি সর্বাত্মক প্রতিরোধের ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখা, যাতে সুপরিকল্পিত কিংবা আকস্মিকভাকে দেশি-বিদেশি কোনো আগ্রাসী-আধিপত্যবাদী বিপদ-আপদ রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের মধ্যে আপতিত হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ না পায়।
প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়