কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

পারমাণবিক আলোচনার মূল নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে : ইরান

[সূত্র : কালের কণ্ঠ, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

পারমাণবিক আলোচনার মূল নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে : ইরান

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘মূল নীতিগুলো’ নিয়ে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে ইরান জানিয়েছে। জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, এ সংক্রান্ত আরো কাজ বাকি আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ‘অগ্রগতি হয়েছে।’

 

 

এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, ভালো অগ্রগতির মাধ্যমে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এতে কারিগরি বিষয়গুলোর পাশাপাশি সাধারণ করণীয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 


ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এবারের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

 

 

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনার আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে।

 


ওয়াশিংটন এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আনতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ‘অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো অনেক বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। ইরানিরা বলেছে, তারা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে, যাতে আমাদের অবস্থানের মধ্যে থাকা কিছু অমীমাংসিত ব্যবধান দূর করা যায়।

 



ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে এটি ভালো হয়েছে। তারা আবারও বসতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট কিছু বিষয় নির্ধারণ করেছেন, যা ইরানিরা স্বীকার করতে বা এ বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী নয়।’

 

 

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তিনি পরোক্ষভাবে নিজেও আলোচনায় জড়িত হবেন এবং তেহরান এবার আলোচনায় আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত দেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চুক্তি না করার পরিণতি তারা চায় না।

 

 


’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা নিক্ষেপের পরই ইরান বুঝতে পেরেছে সম্ভাব্য পরিণতির ধরন কী হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ বোমারু বিমান না পাঠিয়ে একটি চুক্তি করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের বি-২ পাঠাতেই হয়েছিল। আমি আশা করি তারা আরো যুক্তিসংগত হবে। মূলত এর মাধ্যমে তিনি ইরানে হামলায় ব্যবহৃত বোমারু বিমানের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।’

 

 

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে ইরানের কাছাকাছি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবস্থান করছে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেটি ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

 

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির জবাবে ইরানও তাদের বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন করেছে। সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী এলাকায় একটি সামুদ্রিক মহড়া চালায়। হরমুজ প্রণালীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো খুবই কঠিন হবে।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখানে কূটনৈতিকভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ আছে, তবে আমি এটিকে অতিরঞ্জিত করতে চাই না। এটি করা কঠিন হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি বছরে ওমানে প্রথম সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। সেটিকে ‘সুন্দর সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সূত্র : বিবিসি বাংলা