কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

অকস্মাৎ কোন চাপে পড়ল সরকার

মোবায়েদুর রহমান [প্রকাশ: যুগান্তর, ০১ নভেম্বর ২০২৫]

অকস্মাৎ কোন চাপে পড়ল সরকার

গত শুক্রবার যুগান্তরের এ কলামে আমি কথা দিয়েছিলাম, ২৫ দল স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে কীভাবে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষণাকারী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে আমি দেখাব। বিএনপি সব সময় দাবি করে এসেছে, শেখ মুজিব কোনোদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

 

 

স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরদিন অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়া ওই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করেন। ২৫ মার্চের মাত্র একদিন পর যেহেতু মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়নি, তাই আমি বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারদের কথা উল্লেখ করলাম না। উল্লেখ করা প্রয়োজন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। সেটি পরে গঠিত হয়েছে বলে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে আমি শহীদ জিয়ার নামের আগে ‘জেড ফোর্সের অধিনাক’ শব্দগুলো প্রয়োগ করা থেকে বিরত রইলাম।

 

 

জুলাই সনদে কীভাবে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটি এখন আলোচনা করছি। তবে এ আলোচনাটি ব্যাপক পরিসরে করা সম্ভব হবে না। কারণ গত শুক্রবারের পর থেকে এ শুক্রবার পর্যন্ত অনেক সিরিয়াস ঘটনা ঘটে গেছে। যেমন বুধবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন মন্তব্য করেছেন, যেটি শুনলে বা পড়লে শুধু উদ্বিগ্ন নয়, রীতিমতো আতঙ্কিত না হয়ে পারা যায় না। যাই হোক, এখন স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গ।

 

 

জুলাই সনদ শুরু হয়েছে, ‘সংবিধান সংশোধনসাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ’, এ শিরোনাম দিয়ে। সনদের ৪ পৃষ্ঠায় ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি : সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) সংশোধন করা হবে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম এবং ৬ষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না।’ এ প্রস্তাবে ২২টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছেন। ৮টি রাজনৈতিক দল একমত নয়। এ ৮টি রাজনৈতিক দল হলো-জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টি (বিএসপি), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি।

 

 

উল্লেখিত ক্রান্তিকালীন বিধানে অর্থাৎ সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের ২ উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখ হইতে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তন হইবার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হইল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভাষণ ও দলিল, যাহা উক্ত সময়কালের জন্য ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী বলিয়া গণ্য হইবে।’ (বাংলাদেশের সংবিধান, পৃষ্ঠা-৫৯)।

 

 

২.

আগেই বলেছি, সনদের প্রস্তাব ছিল সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম ও ৬ষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না। দেখা যাচ্ছে, ৫ম তফসিলে রয়েছে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ। ৬ষ্ঠ তফসিলে রয়েছে শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণাসংক্রান্ত টেলিগ্রাম এবং ৭ম তফসিলে রয়েছে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

 

 

এখন দেখা যাক, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিলে কী লেখা আছে। আগেই বলেছি, ৫ম তফসিলে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবের ভাষণ।

 

 

৬ষ্ঠ তফসিলে যা লিখিত আছে তা নিচে হুবহু তুলে দিচ্ছি, ‘৬ষ্ঠ তফসিল [১৫০ (২) অনুচ্ছেদ]। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা (অনূদিত)। ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছো, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও-শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ ১৯৭১।’ (বাংলাদেশের সংবিধান পৃষ্ঠা-৭৮)।

 

 

৬ষ্ঠ তফসিল অর্থাৎ শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণাটি সংবিধান থেকে সরানো হলো। কিন্তু ৭ম তফসিল অর্থাৎ ‘১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে অক্ষত অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত থাকলো।’

 

 

এখন দেখা যাক, স্বাধীনতার ৭ম তফসিল অর্থাৎ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কী লেখা আছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৬ষ্ঠ স্তবকে (প্যারা) লেখা আছে, ‘এবং যেহেতু এইরূপ বিশ্বাসঘাতকমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ তারিখে ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।’ (বাংলাদেশের সংবিধান পৃষ্ঠা-১৫৪) এ ঘোষণাপত্রের ১৩ নম্বর স্তবকে (প্যারা) লেখা হয়েছে, ‘সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্ররূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিলাম এবং তদ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ইতিপূর্বে ঘোষিত স্বাধীনতা দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করিলাম।’ (বাংলাদেশের সংবিধান পৃষ্ঠা-১৫৫)।

 

 

৬ষ্ঠ তফসিলে বিধৃত রয়েছে শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণা। জুলাই সনদে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাই বলেই কি শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে অস্বীকার করা হলো? হয়নি। বরং জুলাই সনদের ৭ম তফসিলে বর্ণিত ৬ষ্ঠ ও ১৩ নম্বর স্তবকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও সমুন্নত করা হয়েছে। ৭ম তফসিল অর্থাৎ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গণফোরাম এবং ৪টি বাম দল দাবি করে, ৭ম তফসিল বাদ দিলে তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। ৭ম তফসিল বহাল রাখা হয়েছে। গণফোরাম জুলাই সনদে সই করেছে। কিন্তু ৪টি বাম দল এই কলাম লেখার সময় পর্যন্ত (২৯ জুলাই রাত ৯টা) স্বাক্ষর করেনি।

 

 

উপরের আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হলো, জুলাই সনদেও শেখ মুজিবকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, শহীদ জিয়াকে নয়। অথচ বিএনপির দুই দফা শাসন মেয়াদে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছিল, শহীদ জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেখ মুজিব স্বাধীনতার কোনো ঘোষণাই দেননি। তিনি বরং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে পাক বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ওইদিনই শেষ রাতে তাকে পাকিস্তানের একটি সামরিক বিমানে পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়।

 

এই হলো, স্বাধীনতা ঘোষণার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। শেখ মুজিব যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি, সে বিষয়ে আমি সুদীর্ঘ আলোচনা করতে পারি; কিন্তু আজ এখানেই সেই প্রসঙ্গের ইতি টানছি।

 

 

কারণ, এরই মধ্যে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেছে। ভালো দিক হলো, কমিশনের সুপারিশ সম্পর্কে তারা কোনো গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়নি। একদিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটি দাখিল করা হয়েছে, অন্যদিকে সব রাজনৈতিক দলের কাছেও তার কপি পাঠানো হয়েছে। আর এ কপি পাওয়ার পরেই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈকি অঙ্গন।

 

 

লন্ডনে ড. ইউনূস এবং তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর সরকারের সঙ্গে বিএনপির বলতে গেলে হানিমুন চলছিল। আর এর আগে যাদের সঙ্গে সরকারের সদ্ভাব ছিল, সেই জামায়াত এবং এনসিপির সঙ্গে অকস্মাৎ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ অবস্থা চলছিল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্ট দাখিল করার পর সমগ্র রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বড় দল বলে যাকে ভাবা হয়, সেই বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্ক এখন উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মতো। যেসব বিষয় নিয়ে তীব্র মতবিরোধ চলছে সেগুলো হলো, জুলাই সনদ ঘোষিত হবে প্রধান উপদেষ্টার নামে, প্রেসিডেন্টের নামে নয়। এ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত র‌্যাডিক্যাল। তাদের কথা হলো, যেখানে সংবিধান বহাল আছে, সেখানে আরেকটি সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি করা শুধু অসম্ভবই নয়, বরং সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের আওতা ও ক্ষমতার বাইরে। দ্বিতীয়ত গণভোট অনুষ্ঠানের সময়। বিএনপি চায় একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দিতে তারা রাজি নয়। প্রধান উপদেষ্টার নামে বিশেষ আদেশ জারির সুপারিশ বিএনপি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্টে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। একই প্রস্তাবটি গণভোটেও যাবে। এখানেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াত এবং এনসিপির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।

 

 

বিএনপি এখন প্রকাশ্যে বলছে, প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং দু-তিনটি রাজনৈতিক দল একজোট হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ অক্টোবর এতদূরও বলেছেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের নামে যে রিপোর্ট করা হয়েছে, সেই রিপোর্টের মাধ্যমে আসলে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্টের মাধ্যমে দেশে অনৈক্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

২৭০ দিনের মধ্যে যদি সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা না হয়, তাহলে সুপারিশসমূহ স্বয়ংক্রিভাবেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। কমিশনের এ সুপারিশকে সালাহউদ্দিন বলেছেন, এটিই পরীক্ষায় অটোপাশের সমতুল্য।

 

 

২৯ অক্টোবর রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বৈঠকে মিলিত হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অনলাইনে সভার সঙ্গে যুক্ত হন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তে অভিমত প্রকাশ করা হয়, ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব ও সুপারিশ একপেশে ও জবরদস্তিমূলক।

 

 

বিএনপির এ অবস্থানের বিপরীতে জামায়াত এবং এনসিপির যে অবস্থান, তা ইংরেজি ভাষায় তাকে বলা যেতে পারে ডায়ামেট্রিক্যালি অপজিট, অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে বিরোধী। কেউ কারও অবস্থান থেকে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নয়। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামী দল তাদের দাবিগুলো নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজপথে নেমেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে তারা যমুনা ঘেরাও করবেন।

 

 

বিএনপি আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে আরেকটি কারণে। সেটি হলো, ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে অন্তত ৪৮টি প্রস্তাবের ওপরে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংবিধান আদেশে খসড়ার সঙ্গে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে নোট অব ডিসেন্ট নেই। বিএনপির প্রশ্ন, তাহলে এ আট মাস ধরে ৩৩টি রাজনৈতিক দল এবং ঐকমত্য কমিশন কী পণ্ডশ্রম করল?

 

 

গণভোটের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান হলো, গণভোটের গুরুত্ব সর্বোচ্চ। গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য যদি নির্বাচন পেছাতে হয়, তাহলে প্রয়োজনে তা-ও করতে হবে। তবুও গণভোট নির্বাচনের আগে হতে হবে।

 

 

এ পটভূমিতে যখন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে, তখন তাকে আর হালকাভাবে নেওয়া যায় না।

 

 

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, নির্বাচন বানচালে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়; বড় শক্তির কাছ থেকে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড় আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।

 

 

বৃহস্পতিবার রাতে যখন এ কলামটি লিখছি, তখন রাজনীতির আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ খণ্ড খণ্ডভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে। একদিকে বিএনপি ও অপরদিকে জামায়াত ও এনসিপির দ্বন্দ্বে অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশনের অবস্থা চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার মতো। যদি বিবদমান দলগুলো সবাই কিছুটা ছাড় দিয়ে ঐকমত্যে আসতে না পারেন, তাহলে দুর্যোগ ঘনীভূত হবে। সেই সুযোগ নেবে ভারত এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া পরজীবী হাসিনা। ইতোমধ্যেই ভারতের অনুমোদনে হাসিনা লন্ডনের দি ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও ফ্রান্সের এএফপিকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন।

 

সুতরাং সাধু সাবধান!