কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

‘নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান...’ ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

[সূত্র : জনকণ্ঠ, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫]

‘নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান...’ ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

ওসমান হাদি জীবন উৎসর্গ করেছেন একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। উদীয়মান তরুণ নেতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি ঘাতকের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। যে বয়সে একজন মানুষের পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখ-স্বপ্ন দেখার কথা, ঠিক সেই বয়সে ওসমান হাদি দেশের কল্যাণে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঘাতকদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ বিসর্জন দিলেন। তাঁর এই অকালতিরোধান জাতির ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

 

 

ওসমান হাদির এই আত্মদান যুগ যুগ ধরে সংগ্রামীদের পথ প্রদর্শন করবে এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করবে। বিপ্লবীর মৃত্যু বৃথা যায় না। হাদির মৃত্যুও বৃথা যাবে না যদি আমরা তাঁর উদ্দীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারি।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। এই অল্প বয়সেই অমায়িক আচরণ ও নিজস্ব নেতৃত্বগুণে জাতির ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। এর আগে ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ওসমান হাদি রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় পরাজিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।
তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে উন্নততর চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি দেশবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান।

 

পদপ্রার্থী ওসমান হাদির এই অসময়ে চলে যাওয়া কি অনিবার্য ছিল? সফল গণ-অভ্যুত্থানের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মীকে কেন এভাবে চলে যেতে হবে? ওসমান হাদির এই চলে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে বিপ্লবকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা। একজন ফরাসি বিপ্লবী ও দার্শনিক বলেছেন, যারা অর্ধেক বিপ্লব করে, আসলে তারা নিজেদেরই কবর রচনা করে।

বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হলে বিপ্লবের প্রতিপক্ষ পরাজিত শত্রুকে নির্মূল করতে হয়। ক্ষমা করে উদারতা প্রদর্শন করে পরাজিত শত্রুর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখলে তারাই একদিন বিপ্লবীদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিপ্লবের মাধ্যমে পরাজিত শত্রুকে নির্মূল করার অর্থ এই নয় যে সবাইকে মেরে ফেলতে হবে। যারা বিপ্লবপূর্ব সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করবে, তাদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি যারা স্বৈরাচারের সহযোগী, তাদের নিষ্ক্রিয় করতে হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কিছু অপরাধীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলমান। কিন্তু যাঁরা ২০০৯ সাল থেকে পরবর্তী ১৬ বছর নানাভাবে স্বৈরাচারের পদলেহন করে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যাঁরা দলীয় পরিচয়ে ‘প্যারালাল প্রশাসন’ চালিয়েছেন, তাঁরা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারকে সহযোগিতা প্রদান করবেন না। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা আগামী নির্বাচিত সরকারকেও সহযোগিতা করবেন না। তাঁরা সব সময়ই প্রতিবিপ্লবের আশায় প্রহর গুনবেন। তাঁরা সুযোগ পেলেই ওসমান হাদির মতো বিপ্লবীদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করবেন।

 

 

গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা প্রায় প্রকাশ্যেই আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে। প্রাণনাশের ভয় দেখাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন, তাঁরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকার তো বটেই, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারকেও স্বস্তিতে থাকতে দেবেন না।  

 

 

বিগত দিনে বেশ কয়েকবার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়ে কয়েক দিন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও পরবর্তী সময়ে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এবার দেড় বছরেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ক্রমাবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে পারছে না। অপরাধ করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এটি কি মেনে নেওয়া যায়? ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারীরা নির্বিঘ্নে চলে গেল, কিন্তু কেউই তাদের কিছু করতে পারল না।

 

 

ওসমান হাদি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রাণহানির আশঙ্কা করছিলেন। মাসখানেক আগে ওসমান হাদি মোবাইলে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছিলেন, অন্তত ৩০টি দেশি-বিদেশি মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের খুনিরা আমাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। তবে আমি জীবনের বিনিময়ে হলেও ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যাব।’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। কারণ মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে নয়, আসমানে হয়।’ ওসমান হাদি কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নিহত হননি; তিনি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে আত্মত্যাগ করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ গঠিত হলে ওসমান হাদি সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন সময় দেওয়া তাঁর বক্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভে তিনি নেতৃত্ব দেন।

 

 

ওসমান হাদি অনেক দিন ধরেই পরাজিত শক্তির টার্গেটে ছিলেন। তিনি তা জানতেন, কিন্তু কখনো ভীত হননি। তিনি হয়তো ভাবতে পারেননি যে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। তাঁকে যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে সঠিক নিশানা করে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ দুষ্কৃতকারীর কাজ নয়। অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষেই এভাবে চলন্ত অবস্থায় সঠিক নিশানায় গুলিবর্ষণ করা সম্ভব। দুষ্কৃতকারীরা পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ট বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কোনো অপরাধ কর্ম সংঘটিত হলেই একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একটি মহল ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনাকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

ওসমান হাদির এই মৃত্যু বৃথা যাবে না। তাঁর রক্তের স্রোতোধারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বৈষম্যবিরোধী, সন্ত্রাসমুক্ত এবং আধিপত্যবাদবিরোধী প্রকৃত স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করবে। কথায় বলে, ‘একটি ফুল ছিঁড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু বসন্তকে থামানো যায় না। আজ একটি ফুল হয়তো ঝরে পড়েছে, কিন্তু আগামীকাল আরো শত ফুল ফুটবে।’ এভাবেই ন্যায় ও সাম্যের সংগ্রাম চলতে থাকবে। ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ, ২০২৪ সালে আবু সাঈদ ও ২০২৫ সালে ওসমান হাদির মৃত্যু গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদ রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, উনসত্তরে আসাদ, নব্বইয়ে ডা. মিলন ও আশির দশকে নূর হোসেন যেমন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অমর হয়ে আছেন, তেমনি ওসমান হাদিও চিরদিন এ দেশের মানুষের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এভাবে আর কত হাদি জীবন উৎসর্গ করবেন?

 

 

ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে মানবিক গুণাবলির বিকাশ প্রত্যক্ষ করা যায়। একবার তাঁর এক বন্ধু হাদিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাকে যদি এক কোটি টাকা দেওয়া হয়, তাহলে কী করবে?’ উত্তরে হাদি বলেছিলেন, ‘লাখ পাঁচেক টাকা দিয়ে আমার মনের মতো বই ক্রয় করব। অবশিষ্ট টাকা দরিদ্র মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করব।’ এই একটিমাত্র মন্তব্য থেকেই হাদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি প্রত্যক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি।

 

 

গত বছর জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী ছাত্রদের গণ-আন্দোলন শুরু হলে এক পর্যায়ে ওসমান হাদি তাতে যোগদান করেন এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে চলে আসেন। স্বভাবসুলভ নেতৃত্বগুণ এবং সরল ব্যবহার তাঁকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবার প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তিনি সমাজে বিদ্যমান সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। যেকোনো বিদেশি আধিপত্য নিরসন এবং বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি আধিপত্যবাদের সব চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য ছিলেন তৎপর। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি যদি ৫০ বছর বেঁচে থাকি, কিন্তু কোনো ধরনের ইম্প্যাক্ট তৈরি করতে না পারি, তাহলে কী লাভ হবে? আর আমি যদি পাঁচ বছর বেঁচে থেকে ৫০ বছরের ইম্প্যাক্ট তৈরি করতে পারি, সেটাই কি ভালো নয়? বৈষম্য নিরসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আমার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমি মরে গেলে আমার উত্তরাধিকারীরা বংশানুক্রমিকভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। যুদ্ধের ময়দানে আমি যদি মৃত্যুবরণ করি, তাহলে শহীদি মর্যাদা নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে পারব।’ আল্লাহ তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন। তিনি নিজের জন্য নয়, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। ওসমান হাদির মতো বীরের জন্ম সব সময় হয় না। তাঁদের কোনো মৃত্যু নেই। তাঁরা অমর হয়ে থাকবেন যুগের পর যুগ।

 

 

অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওসমান হাদির মৃত্যুই শেষ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করে, জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে আধিপত্যবাদবিরোধী এমন অন্তত ৫০ জনকে টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিপ্লবের পর প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কা থাকে। যদি বিদ্যমান পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দেওয়া না যায়, তাহলে বিপ্লবের অর্জন ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

 

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য মহলবিশেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এই অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে। একই সঙ্গে এমন একটি সরকার নির্বাচন করতে হবে, যারা শক্ত হাতে পতিত স্বৈরাচারের সব ধরনের অপকৌশল রুখে দিতে পারে।  

 

 

লেখক : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত