কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

জ্বালানি সংকটের প্রভাব সর্বত্র

এম মামুন হোসেন [সূত্র : সময়ের আলো, ৩ এপ্রিল, ২০২৬]

জ্বালানি সংকটের প্রভাব সর্বত্র
বৈশ্বিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা- এই তিনের সম্মিলিত চাপে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। পরিস্থিতি এমন যে, বাস্তবে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও সংকটের আশঙ্কা নিজেই একটি সংকটে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। 
 
 
 
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ঝুঁকি। নির্ধারিত সময়ে অপরিশোধিত তেলের চালান না পৌঁছালে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির মজুদ এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে। আড়াই লাখ টনের বেশি মজুদ, যার মধ্যে ডিজেলই সর্বাধিক। 
 
 
 
 
আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড়, দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে ব্যবস্থাপনার চাপ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসাধু সিন্ডিকেটের তৎপরতা। বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও পাচারের ঘটনা প্রমাণ করে সংকটকে পুঁজি করে একটি অংশ লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। 
 
এই জ্বালানি চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলছে জনজীবনে। কৃষককে কয়েক লিটার ডিজেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি শিক্ষা খাতে স্কুল কলেজে অনলাইন ও সশরীর ক্লাসের সমন্বিত পরিকল্পনা তারই ইঙ্গিত করে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
 
 
 
ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য পাম্পে ঠায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও গ্রাহক বা ডিলার পর্যায়ে মজুদ করার কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিক্রি ইতিমধ্যে স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এখন বাস্তব সংকট ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে। সমন্বিত উদ্যোগ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে জনসচেতনতার মাধ্যমে এই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তারা বলছে, দেশে বর্তমানে আড়াই লাখ  মেট্রিকটন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে।
 
 
 
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধানের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির (যেমন সৌর ও বায়ু শক্তি) ব্যবহার বাড়ানো, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এখন প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক নীতি ও তার কার্যকর প্রয়োগ।
 
 
 
বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মজুদ করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল- ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিকটন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া অকটেনের মজুদ রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিকটন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। 
 
 
 
 
পেট্রোলের মজুদ ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিকটন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিকটন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিকটন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিকটন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন। বর্তমান মজুদ দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত।
 
দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্য-বিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দোকান মালিকরা। 
 
সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সব দোকান, বাণিজ্য-বিতান এবং শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
 
 
 
 
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এ সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও জানানো হয়।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারাও জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, গত বছরের এপ্রিলে প্রতিদিনের চাহিদার যে রেকর্ড ছিল, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চলতি মাসেও সেই পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
 
বাংলাদেশ মূলত আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি ও দেশীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত কনডেনসেটের ওপর নির্ভর করে; কেবল অপরিশোধিত তেলের শোধনের ওপর নয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের ৫ ভাগের ১ ভাগ এবং ডিজেল সরবরাহের মাত্র ৬ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করে। 
 
 
 
অর্থাৎ, বেশিরভাগ ডিজেলের চাহিদা এমনিতেই আমদানি করে মেটাতে হয়। ফলে যদি আমদানি ঠিক থাকে, তা হলে দেশের বাজারে তেমন একটা প্রভাব পড়বে না। তবে এটি নির্ভর করছে ন্যূনতম মজুদ ঠিক রাখতে পারার ওপর। একই সঙ্গে যেকোনো শিডিউল বিলম্ব সরবরাহের মজুদ দ্রুত সংকুচিত করতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান আমদানিসূচি ও মজুদের ভিত্তিতে যদি গত বছরের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকে, তা হলে চলতি এপ্রিল মাসে কোনো সমস্যা নেই।
 
 
 
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৬৩ শতাংশ। দেশের পরিবহন খাত, সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক জেনারেটরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ডিজেল। বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে মাসে আসে প্রায় ৬০ হাজার টন। ডিজেলের বড় অংশই আমদানি করে বিপিসি। 
 
 
 
 
তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসের জন্য কয়েকটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও প্রায় ৬০ হাজার টনের আমদানির সূচি চূড়ান্তের পথে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুদ আছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টন। ফলে মোট প্রাপ্য সরবরাহ প্রায় ৩ লাখ টন, যা মাসিক চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ। জ্বালানি তেলের মজুদ সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
 
 
 
ফলে আমদানি সূচি অনুযায়ী, যেসব চালান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেগুলো নিয়মিত আনতে হবে। এর জন্য সরকার যেখানেই তেল পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে, সেখানেই চেষ্টা করছে। এসব চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দুই দফায় সাড়ে ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টনের পরিশোধিত তেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে।
 
 
 
আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও গ্রাহক বা ডিলার পর্যায়ে মজুদ করার কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিক্রি ইতিমধ্যে স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি তথ্য বলছে, সাধারণত বছরের ব্যবধানে জ্বালানির চাহিদা ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার পর থেকে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় গত মাসের শুরুর দিকে কিছু পাম্পে বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 
 
 
 
 
একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারির প্রবণতাও বাড়ে। বাধ্য হয়ে সরকার বাড়তি চাহিদার লাগাম টেনে ধরতে ডিপোগুলো থেকে আগের বছরের সমান চাহিদায় কিংবা একটু বাড়তি হারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে। আর গ্রাহকের বাড়তি ভিড়ের কারণে পাম্পগুলোর এই সরবরাহ খুব দ্রুত শেষ হতে থাকে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, পাম্পগুলো চাহিদামতো সরবরাহ পাচ্ছে না। আসলে সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং বিতরণজনিত ব্যবস্থাপনার চাপ।
 
 
 
ইস্টার্ন রিফাইনারির বাইরে গ্যাসের সঙ্গে উৎপাদিত উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে খুব সামান্য ডিজেল পাওয়া যায়। কিন্তু এ থেকে দেশের পরিশোধন কারখানাগুলোতে যে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করা হয়, তার মাধ্যমে দেশের পেট্রোলের চাহিদার পুরোটা এবং অকটেনের চাহিদার ৪০ শতাংশ পূরণ হয়। ফলে দেশীয় কনডেনসেট উৎপাদন অব্যাহত থাকায় পেট্রোলের কোনো সংকট নেই। 
 
 
 
গত ১ এপ্রিল দেশে ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ এসেছে। আরও একটি সমপরিমাণের জাহাজ আসার কথা রয়েছে। মাসিক অকটেনের চাহিদা ৩৫ হাজার টন হিসাবে এই অকটেন দিয়ে দেড় মাসের বেশি চাহিদা অনায়াসে মেটানো সম্ভব। পেট্রোলের চাহিদাও মাসে ৩০ হাজার টনের একটু বেশি। দেশের সিলেট গ্যাস ফিল্ডে অবস্থিত সরকারি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট থেকে মাসে ১২ হাজার টন পেট্রোল আসে। আর বাকিটুকু উৎপাদন করে দেশের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি বড় প্লান্ট থেকেই প্রায় ১৫ হাজার টন পেট্রোল আসে। আরও তিনটি প্লান্ট থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টন করে পেট্রোল আসে।
 
 
 
ইস্টার্ন রিফাইনারি মাসে ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। ৬০ হাজার টন ডিজেল ছাড়াও ন্যাফতা, ফার্নেস তেল ও বিটুমিনসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করে দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটায় এই রিফাইনারি। এর মধ্যে ন্যাফতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেটা কনডেনসেটের সঙ্গে পরিমাণ মতো মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হয়। ফলে দীর্ঘদিন যদি এই রিফাইনারি বন্ধ থাকে, তাতে ওই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে এবং অকটেনের জন্য আমদানিনির্ভরতা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। 
 
 
 
তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে সংকট হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সূচি অনুযায়ী তিনটি অপরিশোধিত তেলের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। এর মধ্যে একটি মার্চের শুরুতেই তেলবোঝাই হওয়ার পর আটকা পড়ে।
 
ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে দেবে। ফলে তেলবোঝাই জাহাজটি আসাসাপেক্ষে ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার উৎপাদনে আসতে পারে।
 
ওই জাহাজটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আসার সম্ভাবনার কথা বলছেন কর্মকর্তারা। তাদের আশা, ইস্টার্ন রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও তা হবে সাময়িক এবং এর ফলে কোনো বড় সংকট হবে না।
 
 
 
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক সময়ের আলোকে বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট নেই। তবে আতঙ্কিত হয়ে ট্যাঙ্ক ভরে তেল নেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের তিনটি ডিপো বাড়তি চাহিদার জোগান দিতে পারছে না। তিনি বলেন, মানুষ প্যানিকড হয়ে ভিড় করে তেল কিনছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাম্পগুলো নিরাপত্তা দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। 
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। সিলেটে টানা ১৪ ঘণ্টার ধর্মঘট শেষে স্বাভাবিক হয়েছে সরবরাহ। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুদ ও পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কোথাও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, কোথাও আবার কৃষক ও সাধারণ 
 
 
 
মানুষের ভোগান্তির চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
 
সিলেট : সিলেটে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশন মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। হয়রানি বন্ধের আশ্বাস পেয়ে ১৪ ঘণ্টা পর কর্মসূচি তুলে নেওয়া হয় এবং বিকাল থেকে তেল ও গ্যাস বিক্রি শুরু হলে জনজীবনে স্বস্তি ফেরে।
 
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জে অভিযানে ৩,৮২৯ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ ও তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ তেল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
 
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩২০ লিটার ডিজেল মজুদের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তেল জব্দ করা হয়।
 
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ট্রলার থেকে ৬,২০০ লিটার তেল জব্দ ও অবৈধ পরিবহনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
 
জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জে ৫০ লিটার ডিজেল জব্দ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়।
 
দিনাজপুর : দিনাজপুর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে বিজিবি টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে।
 
রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষকদের ডিজেল পেতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
 
রাঙামাটি : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রেশনিং পদ্ধতিতে বিতরণ চলছে।
 
 
 
দেশজুড়ে জ্বালানি খাতে একদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান, অন্যদিকে সরবরাহ সংকট ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন।