কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী [সূত্র : যুগান্তর, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নির্বাচন নানা কারণেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশবাসী এ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং সর্বস্তরের ভোটার এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মাঝে এ নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যাদের বয়স ৩৪ বছর, তারা অন্তত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদান করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সব স্তরের ভোটাররাই ২০০৮ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে ভোটদান করতে পারেননি। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষের অন্যতম কারণ ছিল তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন।

 

 

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশ আবারও সঠিক রাজনৈতিক ধারায় প্রবহমান হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। কাজেই আগামী নির্বাচন অন্য দশটি সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে নানা কারণেই ভিন্নতর এবং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হবে, সরকার গঠনে জনগণ তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন, এটাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বা রেনেসাঁ সৃষ্টি হয়েছিল এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে। ধীরে ধীরে আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী, আগামীতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সত্যিকারার্থে উদার গণতান্ত্রিক ধারায় প্রবহমান হবে। কোন্ রাজনৈতিক দল আগামীতে সরকার গঠন করবে, তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সত্যিকার পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন কিনা। রাষ্ট্রের মালিক হচ্ছেন জনগণ। কাজেই জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হবে, যারা পরবর্তীকালে সরকার গঠন করবেন। জনগণ যাদের চাইবেন বা নির্বাচিত করবেন, তারাই দেশ পরিচালনা করবেন।

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেই আমার মনে হয়েছে। তিনি বারবার দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে আগামী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটাও বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনের পর তিনি কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকবেন না। তার এ মনোভাব ও অঙ্গীকারের জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। আমি মনে করি, প্রধান উপদেষ্টা তার এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

 

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা অনেকটাই নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তায়। নির্বাচন কমিশনকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে এমন একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনকে কোনো ধরনের বিতর্কে জড়ানো চলবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলকভাবে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। সেসব চ্যালেঞ্জ নিরপেক্ষভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে নাকি বিদ্যমান পদ্ধতিতে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) পিআর নেই। বিদ্যমান সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে রমজানের আগে নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যের পর নির্বাচন কোন্ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যে পদ্ধতির অধীনে নির্বাচন হোক না কেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সর্বজনগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত হতে হবে। যেনতেনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করলে চলবে না। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কে নানা দাবি উত্থাপন করছে। এসব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বলে আমি মনে করি। রাজনৈতিক দলগুলোকে সবার আগে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করবে। আমরা যদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঐক্য ধরে রাখতে না পারি, তাহলে পরাজিত শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। দেশ আবারও দীর্ঘদিনের জন্য স্বৈরাচারকবলিত হয়ে পড়তে পারে। নিশ্চয়ই সেটা কারও কাম্য নয়। নির্বাচন নিয়ে যে ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে, তা অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।

 

 

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন্ ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনই ছিল সবচেয়ে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অংশীদারত্বমূলক। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সব রাজনৈতিক দল চাচ্ছে, নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হোক। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার পর কি অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাবে? আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বহাল রেখে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে আগামীতে যাতে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুরো বিষয়ের ওপর সুপ্রিমকোর্টের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে। ইস্যুটি আগামী এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা প্রয়োজন।

 

 

 

নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এমন সব ব্যক্তিকে বেছে নিতে হবে, যাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ নেই। যিনি জনগণের স্বার্থে নিবেদিত, শিক্ষিত ও প্রাজ্ঞ, তেমন ব্যক্তিকেই নির্বাচনের জন্য মনোনীত করতে হবে। বিগত সময়ে অনেকেই অর্থের বিনিময়ে মনোনয়নপত্র কিনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামীতে যাতে এ ধরনের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত না হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এমন ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিতে হবে, যারা প্রকৃত শিক্ষিত, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাদের গৌরবময় পদচারণা রয়েছে এবং দুর্নীতি-অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। অর্থাৎ নির্বাচন যাতে টাকার খেলায় পরিণত না হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি সরকার ভালো চলবে নাকি খারাপ চলবে, তা নির্ভর করে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর। কাজেই জনআস্থা অর্জন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টাকা ও পেশিশক্তি যাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

 

 

যে কোনো নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে বিজয়ী অথবা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন ভোটাররা। ভোটাররা যদি তুলনামূলক সৎ, নিষ্ঠাবান এবং জনকল্যাণে নিবেদিত উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দেন, তাহলে যে সরকার গঠিত হবে, তা সর্বোচ্চ মানবকল্যাণে নিবেদিত থাকবে। আমাদের দেশে একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ করা যায়-ভোটাররা তাদের পছন্দীয় বা সমর্থিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন। অর্থাৎ তারা দলীয় মার্কায় ভোট প্রদান করেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কারণ, দল কখনোই একজন ব্যক্তিকে মহিমান্বিত অথবা কলুষিত করে না। বরং ব্যক্তির অসদাচরণের কারণেই একটি রাজনৈতিক দল বিতর্কিত ও গণবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। কাজেই সমর্থিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হলেই একজন অসৎ এবং তুলনামূলক অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া উচিত হবে না। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের ওপর জরিপ চালিয়ে যে ফলাফল পেয়েছে, তা প্রণিধানযোগ্য। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে তারা দলের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। ভোটারদের এ পরিবর্তিত মনোভাব অবশ্যই ইতিবাচক। ভোটারদের মনে রাখতে হবে, তারা যদি কোনো অযোগ্য অথবা অসৎ ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে জাতিকে দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। আর তারা যদি সৎ, যোগ্য এবং প্রকৃত শিক্ষিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেন, তাহলে তার সুফল পুরো জাতি ভোগ করতে পারবে। কাজেই ভোটদানের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সাময়িক লাভের আশায় বা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য ব্যক্তিকে কোনোভাবেই নির্বাচিত করা ঠিক হবে না।

 

 

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। মহলবিশেষ সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে, যাতে নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সদা তৎপর থাকতে হবে, যাতে কোনো মহল নির্বাচন বানচালের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে না পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা যেন অটুট থাকে, সেই প্রচেষ্টা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের সামান্যতম উদাসীনতা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

 

 

 

জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতির বিশেষ প্রয়োজনে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। এ সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কাজেই যত দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, জাতির জন্য ততই মঙ্গল হবে। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে বিতর্কমুক্ত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আগামীতে আর কোনো স্বৈরাচারী সরকার জাতির কাঁধে চেপে বসতে না পারে। স্বৈরাচার বিদায়ের জন্য জাতিকে বারবার রক্ত দিতে না হয়। কামনা করি, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের এ যাত্রা শুভ হোক।

 

 


অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত