ইউনিসেফের প্রতিবেদন : মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নতুন করে দরিদ্র হতে পারে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ

ইউনিসেফের প্রতিবেদন : মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নতুন করে দরিদ্র হতে পারে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ
সংবাদবাংলাদেশ

ইউনিসেফের প্রতিবেদন : মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নতুন করে দরিদ্র হতে পারে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ

১৭ জুলাই, ২০২৬

[সূত্র : বণিক বার্তা; ১৭ জুলাই, ২০২৬]

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, বৃহত্তর অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে।

 

এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা। ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বে ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। গতকাল প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এসব তথ্য জানিয়েছে।

 

 

ইউনিসেফ ‘দ্য ইম্প্যাক্ট অব দ্য ওয়ার ইন দ্য মিডল ইস্ট অন চিলড্রেন ইন মনিটারিলি পুওর হাউজহোল্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৬৭টির বেশি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সংকট বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতিকে ম্লান করে দিতে পারে। পাশাপাশি লাখ লাখ শিশুকে আরো গভীর দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দিতে এবং বৈষম্য বাড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং এর প্রভাবে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশটিতে অতিরিক্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

 

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মূল্য দিচ্ছে শিশুরা। শুধু ওই অঞ্চলের নয়, বহু দূরবর্তী অঞ্চলের শিশুদেরও এর মূল্য দিতে হচ্ছে।’

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘এটা যত দিন চলতে থাকবে, এর প্রভাব ততটা ভয়াবহ হবে। নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের জন্য খাবার কেনা ও শিক্ষা অব্যাহত রাখা এখন সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর যেসব শিশু আগে থেকেই দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, তাদের জন্য এ সংকট বঞ্চনাকে আরো গভীর করছে। এর প্রভাবে তাদের এমন ক্ষতি হতে পারে যার প্রভাব থাকবে সারা জীবন।’

 

 

ইউনিসেফ তাদের প্রতিবেদনে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরেছে—বিরূপ ও তীব্র দারিদ্র্য। বিরূপ পরিস্থিতিতে মাঝারি মাত্রার অর্থনৈতিক অভিঘাতের কারণে অতিরিক্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশু অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। আর যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হয়ে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু তীব্র অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

 

 

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষতির সঙ্গে শিশুদের অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র হওয়ার জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে এশিয়া ও আফ্রিকায়। বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক দারিদ্র্যর প্রায় ৮০ শতাংশই হবে এ দুই অঞ্চলে।

 

 

সোমালিয়ায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই মোগাদিসুতে জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ফলে খাবার, পানি, পরিবহন ও মানবিক সহায়তার খরচও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি আরো তীব্র অপুষ্টিজনিত সংকটের মধ্যে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় ইথিওপিয়ায় জ্বালানির দাম ৩১ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। আর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত জ্বালানির খরচ বেড়েছে ৫০-৭০ শতাংশ।

 

 

ফলে দুর্গম এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেয়া আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। আফ্রিকার আরেক দেশ নাইজেরিয়ায়ও দারিদ্র্য বেড়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের ৬০-৭০ শতাংশই খাদ্য ও যাতায়াতে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও তাদের ক্রয়ক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

 

 

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ সংকট শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা সেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিসেফ শিশুদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগ:BCSসংবাদবাংলাদেশ