কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলো কি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের আগ্রাসী ভূমিকার পর আরব রাষ্ট্রগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে লিখেছেন ডেভিড হার্স্ট [সূত্র : প্রথম আলো, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলো কি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে

আবদুল-মুততালিব আল-কায়েসি ইসরায়েল ও জর্ডানের প্রধান সীমান্তপথ অ্যালেনবি ব্রিজে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী মিশনে যাওয়ার আগে একটি উইল লিখে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘হে আমার উম্মাহর সন্তানেরা, আমরা কত দিন পর্যন্ত দখলদারদের বিষয়ে নীরব থাকব, যতক্ষণ না তারা আমাদের ভূমিতে প্রবেশ করে আমাদের পবিত্রতাকে লঙ্ঘন করে?’

 

 

আল-কায়েসি কিংবা তার আগে এই মাসের শুরুর দিকে একই সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীকে আক্রমণকারী মাহির আল-জাজি—কেউ-ই ফিলিস্তিনি নন। তাঁরা দুজনই পূর্ব তীরের জর্ডানিয়ান। আল-কায়েসির বার্তা ছিল, ‘বিশ্বের সম্মানিত স্বাধীন মানুষদের উদ্দেশে এবং বিশেষভাবে শামের আরব গোত্রভাই জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননের মানুষদের উদ্দেশে।’

 

 

আল-কায়েসির বার্তা স্পষ্ট, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা অন্য আরব দেশগুলোতেও পুনরাবৃত্তি হবে। আমাদের নীরবতা মানেই সহায়তা। কিছু না করলে “গ্রেটার ইসরায়েল” আমাদের ঘরে এসে দাঁড়াবে। যদি এই বার্তা কেবল আম্মানের প্রান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর এক মনোভাবকে প্রতিফলিত করে, তবে ইসরায়েল ইতিহাসের ভয়াবহ ভুল করছে।’

 

 

ইসরায়েল: অস্তিত্বগত হুমকি

 

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বারবার বলছেন, জর্ডান নদীর পশ্চিমে কেবল একটি রাষ্ট্রই থাকবে, আর সেটি হবে ইসরায়েল। এই বার্তা শুধু ফিলিস্তিন নয়, সীমান্তের বাইরেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ইসরায়েল যে হুমকি তৈরি করছে, তা জোট, রাজনীতি, গোত্রীয় পরিচয় বা ধর্মনির্বিশেষে পুরো অঞ্চলকে ঘিরে ফেলছে।

 

 

প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে লেবাননের অংশবিশেষ ও গাজা ধ্বংস হয়ে গেছে, দক্ষিণ সিরিয়া দখল হয়েছে আর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাওয়িকে হত্যা করেছে এবং ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করেছে। এখন ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

 

 

আপনি যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন, তবে তার যুদ্ধবিমান আপনার আলোচক দলকেই টার্গেট করবে। ওমানের আলোচনার আগেই ইরানকে আক্রমণ এবং দোহায় হামাসের আলোচক দলকে বোমা হামলায় টার্গেট করার ঘটনাই তার প্রমাণ। ক্ষমতার নেশায় বা তা আঁকড়ে ধরার মরিয়া চেষ্টায় নেতানিয়াহু মনে করছেন, বল প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের নতুন সীমানা চাপিয়ে দিতে পারবেন।

 

 

ইসরায়েল আর কখনো এমন সুবিধাজনক মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাবে না, যেমন এখন পেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি ইতিমধ্যে দখলকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্তি স্বীকার করেছেন, জেরুজালেমকে ‘ইহুদি রাষ্ট্রের’ অবিভাজ্য রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এখন গাজা নগরীকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসন কখনোই এতটা খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না।

 

 

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়ির নিচে খনন করা এক টানেলে দাঁড়িয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ঘোষণা করেন, জেরুজালেম হলো ইহুদিদের ‘চিরন্তন, অবিভাজ্য, অবিসংবাদিত রাজধানী’। তিনি বলেন, ‘চার হাজার বছর আগে এখানেই, মরিয়াহ পর্বতে, ঈশ্বর তাঁর জাতিকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি কেবল একটি জাতিকেই বেছে নেননি, একটি স্থানও বেছে নিয়েছিলেন এবং এই জাতির জন্য একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছিলেন। জাতি ছিল ইহুদিরা, স্থান ছিল ইসরায়েল, আর উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর আলোকবর্তিকা হওয়া।’ হাকাবির কাছে এই সংঘাতে কোনো ধূসর এলাকা নেই। এটি শুভ বনাম অশুভর লড়াই।

 

 

ধর্মীয় যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত

উন্মত্ততাটা শুধু কোনো ধর্মানুরাগী মৌলবীদের উৎসে ফেরা নয়, এটি ধর্মীয় যুদ্ধে পরিণত হওয়ার শুরুর বাঁশিও হতে পারে। মুসলিম অঞ্চলের ওপর সম্পূর্ণ বিজয়ের লক্ষ্যে যাঁরা আছেন, নেতানিয়াহু তাঁদের পথেই ভুল করছেন; ইতিহাসে আগের অনেক নেতাই তেমন করেছেন, বিশেষ করে নেপোলিয়ন ও হিটলার, যাঁরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ করে পরাজিত হয়েছিলেন।

 

 

নেতানিয়াহু মনে করেন যে ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ইহুদি নাগরিকের ইসরায়েল ৪৭৩ মিলিয়ন আরব (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা), ৯২ মিলিয়ন ইরানি বা বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।

 

 

এটা নেতানিয়াহুর ‘সুপার স্পার্টা’ ভাবনা। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে সরে এসে ক্রমে সব আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন ইরান ও তুরস্ককে টার্গেট করেছে। নেতানিয়াহুর সুপার স্পার্টা ধারণা সব আরব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানায়। ইসরায়েল যে হুমকি সৃষ্টি করছে, তা জোট, রাজনীতি, গোত্র বা ধর্মনির্বিশেষে পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য।

 

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কথাই ধরা যাক। ক্ষমতার রাস্তা কোথায়, তা প্রথম শনাক্তকারী নেতাদের একজন ছিলেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ বিন জায়েদ (এমবিএজেড)। তিনি সৌদি যুবরাজকে গোপনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের পথ দেখিয়েছিলেন।

 

রাজনৈতিক দায়বোধ

আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ ছিল ইউএই। তাই এটিই হতে পারে শেষ দেশ, যা তা বাতিল করবে। তবে আবুধাবির মেজাজ এখন ইসরায়েলের প্রতি খচখচ করছে। ইউএইর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুলখালেক আবদুল্লাহ টুইট করেছেন, ‘প্রথমবারের মতো (ইউএইতে) গুরুতর আলোচনা চলছে যে এখন সময় এসেছে আব্রাহাম চুক্তিগুলো স্থগিত করার। চুক্তি এখন কৌশলগত সম্পদ না হয়ে রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠছে।’

 

 

একজন আমিরাতি শিল্পপতির প্রতিষ্ঠিত থিঙ্কট্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা দোহা আঘাতের পর ইসরায়েলের অর্থনীতিকে কীভাবে আঘাত করা যায়, সে বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, যদি আরব রাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে আকাশপথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে ইসরায়েলের ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

 

দোহায় হামাসের বিরুদ্ধে আঘাতের এক সপ্তাহ পর জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর শাসনকালে (২০১৪ থেকে) এমনটা বলার প্রথম ঘটনা এটা। ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ সীমান্ত এবং ফিলাডেলফি করিডর দখল করে মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছে।

 

 

নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা গাজা থেকে এক মিলিয়নের বেশি ফিলিস্তিনিকে সিনাইভিত্তিক এলাকায় ঠেলে দেওয়া। এটি মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার জনসংখ্যার অর্ধেক খালি করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা মিসরের সহযোগিতা ছাড়া সফল হতে পারে না। যতক্ষণ আরও ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণে ঠেলে দেওয়া হবে, সিনাই ততই ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

 

 

জর্ডানকে হুমকি

ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করা দ্বিতীয় আরব দেশ জর্ডানে এখন ওয়াদি আরাবা চুক্তির বর্তমান মূল্য নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক চলছে। জর্ডানের ভাষ্যকার মাহের আবু তাইয়ার লিখেছেন, ‘অসলো চুক্তি প্রমাণ করেছে, এটি কেবল ইসরায়েলের বৈধতা আদায়ের ফাঁদ, সারা বিশ্ব থেকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের জড়ো করে তাদের দখলদারের নজরদারির নিচে আনার কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।’

 

 

মাহের আবু তাইয়ার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তাহলে ওয়াদি আরাবা চুক্তির পরিণতি কী? এটি কি জর্ডানের কৌশলগত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা? আর নিশ্চয়তাদাতা কারা? যখন আমরা দেখেছি অসলো চুক্তির নিশ্চয়তাদাতারা চোখের সামনে সেটি ভেঙে যেতে দেখেছে এবং তারাই সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হয়েছে।’

 

 

আবু তাইয়ার বলেন, জর্ডান দুইভাবে আক্রমণের শিকার হতে পারে। প্রথমত, আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানের কারণে, যেখানে অভূতপূর্ব মাত্রায় ইসরায়েলি বসতকারীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিম তীর ইস্যুতে। ইসরায়েল সীমান্তে নিরাপত্তা অজুহাত তৈরি করে দক্ষিণ জর্ডান পুনর্দখলের চেষ্টা করতে পারে।

 

 

প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের স্বীকৃতির সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসরায়েল কখনোই জর্ডান নদীর পশ্চিমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের অনুমতি দেবে না, অর্থাৎ পূর্ব দিকে (জর্ডান ভূখণ্ডে) সে সম্ভাবনা থেকে যেতে পারে।

 

 

নতুন জোট

আরব নেতারা নিষ্ক্রিয় বসে নেই। প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে এখন গুরুত্বসহকারে ভাবা হচ্ছে, যা গত ১০ বছরে অকল্পনীয় ছিল। ২০১৬ সালে সৌদি গণমাধ্যমকে রাতের শিফটে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হত্যা করার ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশের জন্য। এরদোয়ান বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে অভ্যুত্থান প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল।

 

 

দুই বছর পর সৌদি সাংবাদিক ও মিডল ইস্ট আইয়ের লেখক জামাল খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকে কেন্দ্র করে দুই আঞ্চলিক শক্তি আবার মুখোমুখি হয়। তুরস্ক বরাবরই দাবি করেছে যে হত্যার নির্দেশ এসেছিল সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে। টানা তিন বছর ধরে এই ইস্যুতে পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ওই যুবরাজ কার্যত অচ্ছুত হয়ে পড়েছিলেন।

 

কিন্তু এর পর থেকে সম্পর্কের যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছে, তা লক্ষণীয়। দুই বছর আগে সৌদি তুর্কি ড্রোন নির্মাতা বায়কারের সঙ্গে আকিনজি যুদ্ধ ড্রোন কেনার চুক্তি করে, যা ছিল তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি। এখন রিয়াদ আগ্রহ দেখাচ্ছে আলতাই যুদ্ধ ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও কান স্টেলথ ফাইটার জেট প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারেও।

 

 

আটলান্টিক কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের কানের প্রতি আগ্রহের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানের জন্য দীর্ঘদিনের ব্যর্থ চেষ্টা। ইসরায়েল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে ইরানে হামলার জন্য এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দিয়েছে যেন তারা এ অঞ্চলের আর কারও কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করে।

 

 

একইভাবে তুরস্ক ও মিসর, যারা দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী, কেবল রাজনৈতিক ইসলাম ও মুসলিম ব্রাদারহুডের অবস্থান নিয়েই নয়; বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে দাবিদাওয়ার ক্ষেত্রেও সম্প্রতি একধরনের উষ্ণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিসরও কান যুদ্ধবিমান নির্মাণে সহ–উৎপাদক হিসেবে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তা ছাড়া দুই দেশ ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যৌথ নৌ মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে।

 

 

সৌদি আরবও পূর্বমুখী হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রেও। চলমান পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। এই চুক্তি কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল, এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ক্ষমতায় আসার আগেও। তবে দোহায় ইসরায়েলি হামলার মাত্র কয়েক দিন পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একমাত্র পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে এই চুক্তির ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। পাকিস্তানের পেছনে আছে চীন, এ বিষয়ও ওয়াশিংটনের চোখ এড়িয়ে যায়নি। তারপর আছে তুরস্ক।

 

 

প্রকৃতিগতভাবেই সতর্ক আঙ্কারা ইসরায়েলের সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছে—দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের দখল, বিশেষ করে বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে। কেবল তা–ই নয়, ইসরায়েল দক্ষিণে দ্রুজ এবং উত্তরে কুর্দিদের অভিভাবকত্ব নিজের হাতে নিয়েছে, যা কোনো এক পর্যায়ে পিকেকের সঙ্গে আঙ্কারার শান্তিপ্রক্রিয়ার সরাসরি বিরোধিতা তৈরি করতে পারে। এখন আবার তারা সাইপ্রাসেও প্রবেশ করছে।

 

 

ইসরায়েল ইতিমধ্যে সাইপ্রাসে বারাক এমএক্স আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে, যা রাশিয়ার এস-৩০০-এর চেয়েও কার্যকর এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি আকাশ ও স্থলবাহিনীকে ট্র্যাক করতে সক্ষম। ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সাবেক বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সহসভাপতি শাই গাল গত জুলাইয়ে যুক্তি দেন, ইসরায়েলের উচিত সাইপ্রাসের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করা এবং দ্বীপের উত্তরাংশকে তুর্কি বাহিনী থেকে ‘মুক্ত’ করার জন্য সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা।

 

 

এ রকম পটভূমিতে আরব অঞ্চল ইসরায়েলের আধিপত্যবাদী আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটবে না, আবার একরকমভাবে ঘটবেও না। আরবদের বিভক্তি হলো সেই ভিত্তি, যার ওপর একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের প্রকল্প দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থা চিরস্থায়ী হবে—এমনটা ভাবা বোকামি, যখন ছোট্ট ‘স্পার্টা’ ক্রমেই বড় হতে থাকে।

 

 

ইসরায়েল স্পষ্টতই বল প্রয়োগ করে সীমান্ত সম্প্রসারণ করার কাজে নেমেছে। একে থামাতে পারে কেবল পুরো অঞ্চলের সম্মিলিত কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি।

● ডেভিড হার্স্ট মিডল ইস্ট আইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক

মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া

অনুবাদ ও সংক্ষিপ্তকরণ: মনজুরুল ইসলাম