কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান

[প্রকাশিত: জনকণ্ঠ ডেস্ক, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]

হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান

লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সংগঠন হিজবুল্লাহকে এতোদিন পেছন থেকে সমর্থন দিলেও এবার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। এখন থেকে গ্রুপটি পরিচালনা করবেন দেশটির রেভুল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে লেবাননে গিয়ে যোদ্ধাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আইআরজিসি কর্তকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই রবিবার প্রথমবারের মতো সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সায়াদ-৩জি ছুড়েছে ইরান।

 

 

 

 বৃহৎ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে দেশটি। এদিকে মার্কিন রণতরী ও
যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরেও ইরান কেন আত্মসমর্পণ করছে না তা জানতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর ইরনা, আলজাজিরা ও দ্য জেরুজালেম পোস্টের।

 

 


আরব সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ বর্তমানে তাদের ঐতিহ্যবাহী লেবানিজ নেতৃত্বের পরিবর্তে ইরানের আইআরজিসি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ইসরাইলি বা আমেরিকান হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি লেবাননে আসা আইআরজিসি কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে বলে সৌদি আরবের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল যখন হিজবুল্লাহ ও ইরান উভয় পক্ষই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি আসন্ন সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি ইরান থেকে লেবাননে গেছেন। তাদের কাজ হচ্ছে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা। ইসরাইলের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াইয়ে এই সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সেই লড়াই শেষ হয়। সূত্রগুলো জানায়, ইরানি কর্মকর্তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরাসরি ব্রিফিং দিচ্ছেন।

 

 

 তারা আরও বলেন, লেবাননের বেকা উপত্যকার একটি স্থানে আইআরজিসির কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। স্থানটি গত শুক্রবার রাতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের শিকার হয়। ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত এবং ১২ জন নিহত হন।

 

 


নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন। ইসরাইলি বাহিনী জানায়, হামলায় হামাস ও হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, লেবাননের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ইসরাইলি সামরিক অভিযান কেবল সময়ের ব্যাপার। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে ইরান ইসরাইলকেও লক্ষ্যবস্তু করবে এমন ধারণা থেকে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে আবার ইরানের সঙ্গে আলোচনাও করছে মার্কিনিরা। তবে তাদের এ আলোচনা এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি। মধ্যপ্রাচ্যে এত সামরিক শক্তি জড়ো করার পরও ইরান কেন আত্মসমর্পণ করছে না এমন প্রশ্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

 

 


তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আমাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি যে খুব হতাশ তা আমি বলবো না। কারণ তিনি জানেন তার সামনে আরও অনেক পথ খোলা আছে। তবে তার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে ইরান কেন এখনো নতি স্বীকার করছে না, বা কেন এখনো তারা হার মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করছে না। উইটকফ বলেছেন, তারা চান ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং অস্ত্র তৈরি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত হরমুজ প্রণালির স্মার্ট কন্ট্রোল শীর্ষক নৌ-মহড়ার সময় রবিবার যুদ্ধজাহাজ শহিদ সায়াদ শিরাজি থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

 

 

 এটি স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৌ-সংস্করণ, যা এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলো। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এর কার্যকর দূরপাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। হরমুজ প্রণালিতে অনুষ্ঠিত স্মার্ট কন্ট্রোল মহড়া শুরু হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং এটি টানা তিন দিন ধরে চলে। এই মহড়ার মধ্য দিয়েই তেহরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জানান দিল বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহিদ সোলাইমানি শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোর জন্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর আগে সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলভিত্তিক সংস্করণ প্রথম পরীক্ষা করা হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ওই সংস্করণের দূরপাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার।