এলডিসি উত্তরণের সময়রেখা পেছানো বাংলাদেশের জন্য যৌক্তিক হবে না
সেলিম জাহান [প্রকাশ : বণিক বার্তা, ৩০ আগস্ট ২০২৫]

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্তরে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়টি আবারো উত্থাপিত ও আলোচিত হচ্ছে। কয়েক মাস আগেই সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হবে না। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের গোষ্ঠীতে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। গত সপ্তাহে দেশের বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলেছে যে এ উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য আরো সময় প্রয়োজন এবং তাদের দাবি যে পুরো উত্তরণ প্রক্রিয়াটি তিন-পাঁচ বছর বিলম্বিত করা হোক। বাংলাদেশের জন্য ২০৩২ সালকে উত্তরণ বছর হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিত সরকার আবারো তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে আগামী বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্পন্ন হবে।
বিগত দিনগুলোয় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উত্তরণ বিলম্বিত করার চাপ মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকেই আসছিল। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিদেশে পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে নানা সুযোগ-সুবিধা পায়, যেমন শুল্কমুক্ত রফতানি, নানা শর্ত-নমনীয়তা, রফতানি-সাহায্য ইত্যাদি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশের এসব সুযোগ-সুবিধা চলে যাবে। উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সাম্প্রতিকতম দাবিটিও এসেছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর কাছ থেকে।
এ দাবির সপক্ষে পাঁচটি যুক্তি দেখানো হয়েছে। এক, উত্তরণ প্রক্রিয়া পেছানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আঘাত মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, আসিয়ান জোট ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করা যাবে। আগামী বছরই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপিত হতে পারে। বাংলাদেশের রফতানি এতে ৬-১৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
দুই, উত্তরণের পর রফতানিতে ভর্তুকি ও মেধাস্বত্বের চুক্তি বাস্তবায়নে শিথিলতার মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ সুবিধা আর থাকবে না। যেমন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০৩২ সাল পর্যন্ত স্বত্বছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে। আগামী বছরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটলে এ ছাড় আর থাকবে না। তখন ওষুধ শিল্পকে পূর্ণ স্বত্ব আইনের অধীনে আসবে। ফলে ওষুধের দাম বিশেষত ক্যান্সারের ওষুধের দাম অত্যাধিক বেড়ে যাবে।
তিন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানিতে বৈচিত্র্য আনা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, গুণগত মানসম্পন্ন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, সুশাসন জোরদার করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরির জন্য সময়ের প্রয়োজন। একটি মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। সুতরাং উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিলে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি খাত দুটোই ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবে।
চার, এর আগেও জাতিসংঘের শর্ত পূরণ করলেও রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে নানা দেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব দেশ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা বহিঃস্থ ধাক্কার মুখে পড়ে কিংবা যেসব দেশের উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের ঘাটতি থাকে বা যাদের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়, তাদের জন্য উত্তরণের সময় বাড়ানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।
পাঁচ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের জন্য অনুকূল অর্থনৈতিক বাস্তবতা দেশে বিরাজ করছে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নেই। এর অভাবে পোশাক বা ওষুধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে না। বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক রফতানি খাতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধান, আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা—এসব বিষয়ের জন্য উত্তরণ সময়সীমা পাঁচ বছর বাড়ানো প্রয়োজন।
উপর্যুক্ত যুক্তিগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। প্রথমত, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে জাতীয় অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য যুক্তি উত্থাপন করছে—কি নিশ্চয়তা আছে যে, ২০৩২ সাল নাগাদ যে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরো খারাপ অবস্থায় যাবে না? সুতরাং একটি অনিশ্চিত অবস্থার চেয়ে একটি জ্ঞাত অবস্থায় উত্তরণই কি শ্রেয় নয়? ভবিষ্যতের অজ্ঞাত অনিশ্চয়তা প্রস্তাবিত ২০৩২ সালের উত্তরণকে আরো কঠিন, জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যেসব সংস্কার ও পরিবর্তন আগামী সাত বছরে করতে হবে বলে ব্যবসায়ী মহল বলছেন, সেগুলো যৌক্তিক, কোনো সন্দেহ নেই। সেগুলোর বহু কিছুই বিগত সময়কালে করার কথা ছিল। কিন্তু সেগুলো করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে এমনকি নিশ্চয়তা আছে যে, আগামী পাঁচ-সাত বছরে সেগুলো সম্পন্ন করা হবে? যদি তা না করা হয়, তাহলে বর্তমান অবস্থা সাত বছর পরও বিরাজ করবে।
তৃতীয়ত, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ-প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার দাবি বৃহৎ কিছু শিল্প সংগঠনের। এ দাবি সর্বজনীন নয়। কতিপয় বৃহৎ শিল্প খাতের স্বার্থের চেয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থ বড়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে উত্তরণ বিলম্বিত করলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কি প্রভাব পড়বে, সে বিবেচনারই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
চতুর্থত, যেসব দেশের ক্ষেত্রে উত্তরণ বিলম্বিত হয়েছে, তার পেছনে খুব সুনির্দিষ্ট কিছু জোরালো দেশকেন্দ্রিক কারণ ছিল। উত্তরণ বিলম্বিত করার সপক্ষে বাংলাদেশ কি সে জাতীয় গ্রহণযোগ্য কারণ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে? বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেসব কারণ দেখানো হচ্ছে, মতান্তরে, সেসব কারণ সার্বিকভাবে অন্যান্য দেশেও যেমন নেপাল বা লাওসেও বিদ্যমান। সে ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত হওয়া প্রয়োজন যে বাংলাদেশের কারণগুলো কতখানি গ্রহণযোগ্য হবে জাতিসংঘের কাছে।
পঞ্চমত, সংরক্ষিত বলয়ের মধ্যে একটি দেশ দিনের পর দিন থাকতে পারে না। অর্থনীতিতে ‘শিশু শিল্প যুক্তি’ বলে একটি তত্ত্ব আছে, যার মূল কথা হলো যে একটি শিল্পের জন্মলগ্নের প্রাথমিক অবস্থায় সব রকমের সংরক্ষিত সহায়তা দিত হবে যাতে সেটা প্রসারিত হতে পারে। কিন্তু যখন সেটা হবে, তখন তার আর সংরক্ষিত সহায়তার প্রয়োজন হবে না। যুক্তি হচ্ছে যে সংরক্ষিত সহায়তা নিয়ে শিল্পটিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, ‘শিশু শিল্পের’ কথা বলে সে অবিচ্ছিন্নভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। তেমনিভাবেই স্বল্পোন্নত দেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পেছনে যুক্তি হচ্ছে যে এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত সুবিধা নিয়ে নিজেকে তৈরি করে একটি দেশ যত দ্রুত সম্ভব একটি প্রতিযোগিতামূলক বলয়ে প্রবেশ করবে। প্রতিযোগিতা ভিন্ন বজায়ক্ষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। সুতরাং একটি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের ছত্রছায়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে এটা অভিপ্রেত হতে পারে না।
স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ বিলম্বিত না করার পেছনে বাংলাদেশে সরকারের ঘোষিত অবস্থানের পেছনে একাধিক সম্ভাব্য যুক্তির অবতারণা করা যেতে পারে। প্রথমত, স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা কোনো দেশের জন্যই একটি সম্মানজনক অবস্থান নয়। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগোষ্ঠীর সদস্য হয়েছিল বটে, কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও বাংলাদেশকে সেই অনভিপ্রেত তিলক বহন করতে হবে, এটা অভিপ্রেত নয়। বিশ্বের দরিদ্রতম রাষ্ট্রগোষ্ঠীর অংশ হওয়া বাঞ্ছিত নয়। স্বল্পোন্নত দেশের স্তর থেকে উত্তরণ যেকোনো দেশের জন্য সম্মানজনক ও মর্যাদামূলক। আমাদের উন্নয়ন পথযাত্রায় এর একটি মূল্য আছে। সুতরাং যত সত্বর সম্ভব, বাংলাদেশের এ জাতীয় উত্তরণ কাঙ্ক্ষিত।
দ্বিতীয়ত, উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করলে বাংলাদেশকে এক রকমের ভাবমূর্তিমূলক মূল্য দিতে হবে। বাংলাদেশ অর্থনীতির ভিত্তি ও উত্তরণ নির্ণায়কে দেশটির সক্ষমতা পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উত্তরণ বিলম্বিতকরণের অনুরোধটি বৈশ্বিক অঙ্গনে যৌক্তিক বলে বিবেচিত নাও হতে পারে। আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতেও এটা আদৃত নাও হতে পারে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ২০১৮ সালেই স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের তিনটে সূচকেই সক্ষমতা অর্জন করেছিল। ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নেও এ অর্জন অক্ষুণ্ন ছিল। তখন ভাবা হয়েছিল যে ২০২৪ সালেই বাংলাদেশের উত্তরণ সুপারিশকৃত হবে। কিন্তু সে সময়ে কভিড-এর কারণে উত্তরণ-সুপারিশটি দু’বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরে করা হবে বলে নির্ধারণ হয়। সুতরাং বলা চলে যে ১০ বছর আগেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং বিগত বছরগুলোয় এ অর্জন ধরে রেখেছে। তবু বৈশ্বিক কভিড অতিমারীর কারণে উত্তরণ এরই মধ্যে দুই বছর বর্ধিত হয়েছে। সে অবস্থায় উপর্যুক্ত সময়সীমা আবারো বর্ধিতকরণের দাবি অনুমোদনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। মনে রাখা দরকার যে জাতিসংঘই এ জাতীয় অনুমোদন দিয়ে থাকে।
চতুর্থত, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও লাওসেরও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্তরে উন্নীত হওয়ার কথা। নেপাল ও লাওস এরই মধ্যে জোরেশোরে তাদের উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা উত্তরণ বিলম্বীকরণের কথা বলছে না। ২০২৩ সালে ভুটানের উত্তরণ ঘটেছে বিলম্বীকরণের আবেদন ব্যতীতই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উত্তরণ-বিলম্বীকরণের আবেদন আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর শক্তি ও গতিময়তা বিষয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা খর্ব করতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এটিকে বাংলাদেশের একটি পরাজয় হিসেবেই দেখা হতে পারে, যার রাজনৈতিক মাত্রিকতা আছে।
পঞ্চমত, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত স্তর থেকে উন্নয়নশীল স্তরে উন্নীত হলে যেসব অন্তরায়ের সম্মুখীন হবে, সরকার সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। যেমন রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কছাড়ের সুবিধা থাকবে না। তেমনিভাবে, সহজ ঋণের শর্ত বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বাজারভিত্তিক ঋণ নিতে হবে এবং ঋণের চাপও বেড়ে যাবে। এক কথায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হলে বহু সুযোগ বাংলাদেশ হারাবে। যেমন অনুদান, অত্যন্ত কম সুদহারে ঋণ পাওয়ার সুযোগ, ঋণ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে শর্তের শিথিলতা, প্রায় শূন্য বা অত্যন্ত কম শুল্কে বিশ্ববাজারের রফতানির সুযোগ ইত্যাদি। সুতরাং এসব বিবেচনার মধ্যে নিয়েই সরকার তার অবস্থান নিয়েছে।
চূড়ান্ত বিচারে, প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর প্রশ্ন হচ্ছে যে ২০২৬ সালের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ কি সব ব্যবস্থা নিতে পারে যাতে উত্তরণ প্রক্রিয়াটি নিপাট হয়, উত্তরণোত্তর অন্তরায়গুলো কাটিয়ে ওঠা যায়? মনে রাখা দরকার যে, এ অন্তরায়গুলো শুধু কাঠামোগত নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির চালচিত্র বদলে গেলেও এসব অন্তরায় নবরূপে আবির্ভূত হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় অপেক্ষমাণ দেশগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রাজ্ঞ কাজটি হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য যথাযথ ও সময়োপযোগী প্রস্তুতি নেয়া। স্মতর্ব্য যে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে একটি নিপাট উত্তরণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। সাতটি উপপর্ষদের অত্যন্ত বাস্তবসম্মত প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৈরি এ কৌশল প্রস্তাব এখন বাংলাদেশ জাতীয় উত্তরণ পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এ উত্তরণ কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে দুটো কথা বলা প্রয়োজন। এক, এ কৌশল বাস্তবায়নের জন্য একটি সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ড দরকার হবে, যাতে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব থাকবে। দুই, এর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যাবশ্যকীয়।
সেলিম জাহান: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর ও দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র