কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

এলডিসি উত্তরণে সমন্বিত পথের সন্ধান

ড. মো. আইনুল ইসলাম [সূত্র : জনকণ্ঠ, ২০ নভেম্বর ২০২৫]

এলডিসি উত্তরণে সমন্বিত পথের সন্ধান

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্বিধাদ্বন্ধের প্রেক্ষাপটে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কবার্তা ও দেশীয় বেসরকারি খাত ও বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতিসংঘের উচ্চ প্রতিনিধি দপ্তরের একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে উত্তরণ প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন শুরু করে। গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও নীতি–গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিনিধি দল জানতে চায়, এলডিসি-উত্তরণ পরবর্তী বাস্তবতা মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের প্রস্তুতি কতটা। এ প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) বাস্তবায়ন অত্যন্ত ধীর এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

 

 

 তাদের মতে, গত কয়েক বছরে এসটিএস বাস্তবায়নের অগ্রগতি খুবই সীমিত এবং রপ্তানি খাত এখনো একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ও বাজারের বৈচিত্র্য নেই। এই প্রেক্ষাপটে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অনুরোধে ঘোষণা দেন যে, এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতি মূল্যায়নে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক-স্থানীয় যৌথ মূল্যায়ন ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবদিক পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য কতটা উপকারের কিংবা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে তা আসলেই গুরুতর ভাবনার বিষয়।

 

 


নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে যে কৃত্রিম সুবিধাগুলো বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছে, সেগুলো ধীরে ধীরে হারাতে হবে। এই রূপান্তরকালীন পর্বে অর্থনীতির মৌলিক তত্ত্ব এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য নির্দেশিকা হয়ে উঠতে পারে।

 
 
 

কৃত্রিমতা থেকে টেকসই 
ভিত্তির সন্ধানে

অর্থনীতির ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব ‘তুলনামূলক সুবিধা’ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এক ধরনের ‘কৃত্রিম তুলনামূলক সুবিধা’ ভোগ করেছে, যা দেশের নিজস্ব উৎপাদনশীলতা বা দক্ষতার চেয়ে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী কাঠামোর সুবাদে সৃষ্ট। শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শিথিলতা এবং স্বল্প মজুরিভিত্তিক শ্রমই এর মূল ভিত্তি ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’-এর আওতায় শূন্য শুল্কে পোশাক রপ্তানি কিংবা ট্রিপস চুক্তির ছাড় পাওয়ায় জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন এই কৃত্রিম সুবিধারই উদাহরণ। কিন্তু এলডিসি উত্তরণের পর এই ছাতার আওতা সংকুচিত হবে। তখন টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে একটি ‘টেকসই তুলনামূলক সুবিধা’।

 

 

এই টেকসই ভিত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। যার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তির ব্যাপক অনুপ্রবেশ, স্বয়ংক্রিয়করণ এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমশক্তিকে রূপান্তর। পাশাপাশি কেবল নিম্নমূল্যের পোশাক নয়, উচ্চ-ফ্যাশন, কারিগরি বস্ত্র, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি সেবার মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত খাতে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্য আনতে হবে। সর্বোপরি বন্দর ও লজিস্টিক সেক্টরের ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। এই রূপান্তরে ব্যর্থতা বাংলাদেশকে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে রাখার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যেখানে নিম্ন-আয়ের সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ অথচ উচ্চ-আয়ের দেশের সাথে প্রতিযোগিতার সামর্থ্য অর্জন করা ক্রমশ কঠিন হতে থাকবে।

 
 
 

চীনের সফল শিল্প সাফল্য ও অর্থনৈতিক দর্শন তত্ত্ব

 

বাংলাদেশের জন্য চীনের অর্থনৈতিক উত্থান একটি গভীরভাবে শিক্ষণীয় কেস স্টাডি, যা অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর তত্ত্ব এবং রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন মডেলের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। চীন তার শিল্প কৌশল প্রণয়নে শুধু তুলনামূলক সুবিধার ওপরই নির্ভর করেনি, বরং গতিশীল তুলনামূলক সুবিধা সৃষ্টির জন্য সক্রিয় নীতি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তারা প্রথমে হালকা শিল্পে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ধাপে ধাপে পুঁজি ও প্রযুক্তিনিবিড় ভারী শিল্প এবং বর্তমানে হাইটেক ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পের দিকে সফল রূপান্তর সম্পন্ন করেছে।

 

 

এই যাত্রাপথে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, যা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বৈদেশিক আকর্ষণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এখানে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ ও বাজার অর্থনীতির সমন্বয় ঘটেছে, যেখানে সরকার কৌশলগত পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির মাধ্যমে শিল্পায়নের গতিপথ নির্দেশ করেছে। বাংলাদেশের জন্য চীনের মডেল থেকে প্রাপ্ত মূল শিক্ষা হলো দীর্ঘমেয়াদি ও পর্যায়ক্রমিক শিল্প নীতির গুরুত্ব, যেখানে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং গুণগত উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।

 

 

ভুটানের দর্শন : সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা

এলডিসি থেকে সফল উত্তরণের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশ ভুটান বাংলাদেশের জন্য একটি গুণগত মডেল উপহার দিয়েছে। ভুটানের মডেলের মর্মমূলে রয়েছে শাসনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা। অর্থনৈতিকভাবে তারা তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ রপ্তানির ওপর একটি স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার উৎস গড়ে তুলেছে, যা পর্যটন ও কৃষির অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় শক্ত ভিত দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এখানে শিক্ষা হলো, পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি-সেবা এবং কৃষি-প্রক্রিয়াকরণের মতো খাতগুলোতে বিকল্প ও স্থিতিশীল রপ্তানি আয়ের উৎস সৃষ্টি করা। এখানে কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে অত্যন্ত কম উচ্চারিত কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিষয়ে দু-চারটি কথা বলা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

 

 

বাংলাদেশের কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ খাত দেশের অর্থনীতিতে একটি দ্রুতবর্ধনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। বর্তমানে দেশের কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ বাজারের আকার প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। এ খাত জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখার পাশাপাশি রপ্তানি বৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

 

বিভিন্ন গবেষণা মতে, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। রপ্তানি ক্ষেত্রেও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয়, মসলা, ফলের পাল্প, পাট–ভিত্তিক পণ্যসহ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিপুল সম্ভাবনার পরও খাতটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। মূল্য সংযোজন, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা-এসব কারণে খাতের প্রতিযোগিতা কম। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ খাত বর্তমানে যে নগদ প্রণোদনা, কর ছাড় এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা পেয়ে থাকে, সেগুলো ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। 

 


এ পরিস্থিতিতে এলডিসি-উত্তর বাস্তবতায় খাতটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত নীতি সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার সমন্বয়ের মাধ্যমে কম খরচে অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিশ্চয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশেষ প্রণোদনা, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সহজীকরণের জন্য কোল্ড-চেইন ও সংগ্রহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ খাত শুধু দেশীয় সরবরাহই নয়, বৈশ্বিক বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এক্ষেত্রে ভুটানের উদাহরণ বিশেষ প্রণিধানযোগ্য। কৃষি প্রক্রিয়াকরণই ভুটানের এলডিসি সফল-উত্তরণে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে ভুটান উত্তরণের আগেই তার প্রধান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো তাদের রূপান্তরকে মসৃণ করেছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী বার্তা বহন করে-ভারতের সঙ্গে সিইপিএসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে আমলাতান্ত্রিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা বাড়িয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

 

 

 

ভিয়েতনামের নীতি : কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও শিল্প রূপান্তর

যদিও ভিয়েতনাম সরাসরি এলডিসি থেকে উত্তরণের কেস স্টাডি নয়, তবু তাদের আগ্রাসী অর্থনৈতিক কৌশল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভিয়েতনামের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৌশলগত বাণিজ্য কূটনীতির অসামান্য প্রয়োগ। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইভিএফটিএ এবং সিপিটিপিপির মতো উচ্চপর্যায়ের বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে তাদের পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের জন্য এর সরাসরি অভিঘাত হলো, শুধু জিএসপি+সুবিধা ধরে রাখার আশায় না থেকে চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্পক্ষেত্রে ভিয়েতনাম কৌশলগতভাবে বৈদেশিক আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও হাইটেক খাতে। তারা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

 

 

 বাংলাদেশেরও পোশাক শিল্পে স্বয়ংক্রিয়তা এবং উচ্চপ্রযুক্তি নির্ভর উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে হবে। একই সঙ্গে, আইটি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে বাড়তি প্রণোদনা দিয়ে বিকশিত করার মাধ্যমে রপ্তানি বাস্কেটকে বৈচিত্র্যময় করতে হবে।
পরিশেষে বলতে হয়, এলডিসি উত্তরণ একটি প্রবেশপত্র; একটি অর্জন। কিন্তু এর সঙ্গে আসে চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বের এক ভারী বোঝা। ভুটান, ভিয়েতনাম ও চীনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় যে, এই উত্তরণকে শুধু ‘সুবিধা হারানোর’ আতঙ্ক হিসেবে না দেখে ‘আত্মশক্তির বিকাশের’ এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি সামগ্রিক রোডম্যাপ, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা ও শিল্পকাঠামোর রূপান্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও দূরদর্শী কূটনীতি একই সূতায় বাঁধা পড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি এই দ্বিমুখী সংগ্রামে সফল হয়, তাহলেই কেবল এই উত্তরণ প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

 


লেখক : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়