কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

দক্ষিণ এশিয়া ২০২৬: যে পাঁচ বিষয় নির্ধারণ করতে পারে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ

দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ বইলেও ভারত রয়েছে সেই ধারার বাইরে। [প্রকাশ: বণিক বার্তা ডেস্ক, ৩ জানুয়ারি ২০২৬]

দক্ষিণ এশিয়া ২০২৬: যে পাঁচ বিষয় নির্ধারণ করতে পারে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ

এক অস্থির ও ঘটনাবহুল বছর পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ২০২৬ সালে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীলতার আশায় প্রবেশ করেছে। তবে বৈশ্বিক রাজনীতির অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে নতুন বছরে পা রাখল এ অঞ্চল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঋণসংকট এবং পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়।

 
 
 
 
 
 

২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশ ও নেপালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। দুই দেশেই এটি হবে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের পর প্রথম ভোট। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এবং নেপালে কে. পি. শর্মা অলির পতনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে।

 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে সংস্কারে মনোযোগ দেয় এবং এক বছর পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে নেপালের অস্থায়ী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে এবং ৫ মার্চ ভোটের দিন নির্ধারণ করে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বড় একটি অংশ যদি এই নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে না করে, কিংবা ফলাফল তাদের প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে দুই দেশেই নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, আগের সরকার পতনে বড় ভূমিকা রাখা তরুণদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখন নির্বাচনকে প্রকৃত পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। ভারত ও চীন দুই দেশের নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

 

 

পাকিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা

 

 

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমিত সামরিক সংঘাত এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ২০২৬ সালেও পাকিস্তানের জন্য এই দুই সীমান্ত বড় ঝুঁকি হয়ে থাকতে পারে।

 

 

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত পর্যায়ে রয়েছে। অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে কোনো সন্ত্রাসী হামলা, সীমান্ত লঙ্ঘন বা বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প সহজেই নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অনুযায়ী সীমান্তপারের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

 

 

কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতার চেষ্টা এখনো সফল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখালেও ভারতের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

 

 

মালদ্বীপের অর্থনৈতিক ঝুঁকি

 

 

দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুটি বড় অর্থনৈতিক সংকট দেখা গেছে—২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার ঋণখেলাপি হওয়া এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তানের প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়া। এবার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে মালদ্বীপ।

 

 

বিশ্বব্যাংকের মতে, মালদ্বীপ রয়েছে ‘উচ্চ ঋণঝুঁকির’ মুখে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, সীমিত অর্থায়ন এবং বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধের চাপ—বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের কারণে দেশটির অর্থনীতি নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। আগামী বছরে দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

 

 

পর্যটন খাতের আয় ও ভারতের মতো অংশীদারদের সহায়তায় আপাতত বড় সংকট এড়ানো গেলেও বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি বা পর্যটন খাতে হঠাৎ ধাক্কা মালদ্বীপকে বড় বিপদে ফেলতে পারে।

 

 

মোদির ভবিষ্যৎ রাজনীতি

 

 

দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ বইলেও ভারত সেই ধারার বাইরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং তিনি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা নির্বাচিত নেতা।

 

 

২০২৬ সালে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়বে। বিশেষ করে, তিনি ২০২৯ সালে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন করবেন কি না, তা নিয়ে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে কম আসন পেলেও ২০২৫ সালে বিজেপির একাধিক রাজ্য নির্বাচনে জয় মোদির অবস্থান আরো শক্ত করেছে।

 

 

আগামী বছর দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন বিজেপির জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। এসব নির্বাচনের ফল মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

 

 

ট্রাম্পের চীন নীতি ও দক্ষিণ এশিয়া

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন নীতি ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখনো ওয়াশিংটনের বেইজিং নীতি স্পষ্ট নয়। একদিকে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প।

 

 

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যদি অবস্থান নরম করে বা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক চাপে পড়তে পারে। কারণ চীন মোকাবেলাই এতদিন এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল।