দারিদ্র্য বিমোচন জাতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ
অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী [প্রকাশ : যুগান্তর, ১১ নভেম্বর ২০২৫]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনার ফল নয়। দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়ে মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকচক্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। সেই সময় বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি শাসকচক্রের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলেছিল। বিশেষ করে পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ এ অঞ্চলের মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাই তারা একসময় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তারা হাতে অস্ত্র নেয় এবং দেশকে স্বাধীন করে।
দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির বহুবিধ কারণ এখানে উল্লেখ করতে চাই। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম চেতনা বা লক্ষ্য ছিল মানুষের মাঝে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে মানুষের মাঝে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে। আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের আমলেই শ্রেণিবৈষম্য এবং মানুষের অর্থনৈতিক ভেদাভেদ বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে দেশের এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চল এবং একশ্রেণির মানুষের সঙ্গে অন্য শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট হচ্ছে। কিছু মানুষ মনে করে, ‘money is the second god.’ তারা অর্থ উপার্জনকে মুখ্য মনে করে। সেই অর্থ কীভাবে উপার্জিত হলো, সেটা তাদের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জনের এ ব্যাপক খায়েশ সমাজে ধনবৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভয়াবহ দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে শ্রেণিবৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে, বাড়ছে দারিদ্র্য। একসময় আমাদের দেশে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে প্রচণ্ড ঘৃণা করা হতো। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বা আত্মীয়তা করতে সম্মত হতো না। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পালটে গেছে। যার যত অর্থ, সমাজে তার তত সম্মান। অসৎভাবে উপার্জিত অর্থ যেহেতু দেশের অভ্যন্তরে প্রশ্নাতীতভাবে ব্যবহার করা যায় না, তাই অনেকেই তাদের উপার্জিত অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে, স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। অবশ্য অর্থ পাচারের এ পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত বিবেচনা করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ, যারা অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন অথবা বিদেশে পাচার করেন, তারা তাদের অর্থ আয়ের উৎস এবং পরিমাণ কারও কাছে প্রকাশ করেন না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কার্যত অর্থ লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা আনা, শিগগির কী করতে হবে’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গত ১৫ বছরে (২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল) দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের ২৪টি অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। অবশ্য এটি দৃশ্যমান খেলাপি ঋণ। ঋণ হিসাব অবলোপন, ঋণ হিসাব পুনঃতফশিলিকরণ এবং মামলাধীন প্রকল্পের কাছে পাওনা খেলাপি ঋণ যোগ করা হলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে। খেলাপি ঋণের বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে এসব দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
যাদের ক্ষমতা ও শক্তি আছে, তারা নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ লুটে নিচ্ছে। আর যারা ক্ষমতাহীন, তারা অসহায়ভাবে চেয়ে চেয়ে দেখছে। পাকিস্তান আমলে একটি দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজমান ছিল। আর এখন নিজ দেশের মানুষের মধ্যে বিত্তের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। উন্নয়নের সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। বর্তমানে সার্বিকভাবে দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এর মধ্যে অতিদরিদ্র মানুষের হার ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আরও অনেকেই আছে, যারা দারিদ্র্যসীমার সামান্য উপরে অবস্থান করছে। সামান্য অভিঘাতেই তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসতে পারে। দারিদ্র্য বৃদ্ধির এ প্রবণতা যে কোনো বিচারেই উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে সার্বিকভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সেই সময় অতিদরিদ্র মানুষের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। দারিদ্র্যসীমার ওপরে বসবাস করছে কিন্তু সামান্য অভিঘাতেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে এমন পরিবারের সংখ্যা ১৮ শতাংশ। পিপিআরসি দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ কাজ সম্পন্ন করে। উন্নয়নের সুফল সঠিকভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা না থাকায় বিত্তের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। গত ৫৫ বছরে দেশের শীর্ষ ১০ বিত্তবান পরিবারের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ১০ শতাংশ পরিবারের সম্পদের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে কমছে। পাকিস্তান আমলে কোটিপতি ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলতাম। এখন দেশে কত হাজার কোটিপতি আছে, তার হিসাব কেউ রাখে না। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যেমন অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে, তেমনি অঞ্চলে অঞ্চলে বৈষম্য বাড়ছে। একসময় দেশের জিডিপিতে গ্রামীণ অর্থনীতির অবদান ছিল ৮০ শতাংশেরও বেশি। এখন জিডিপিতে শহরের অবদান বাড়ছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অন্যসব শহরকে অতিক্রম করে গেছে। ফলে শহরে শহরে বৈষম্য বাড়ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম দুটি লক্ষ্যের মধ্যে একটি ছিল সমাজে বিদ্যমান সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দীর্ঘ ৫৫ বছরেও এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং দিন দিন অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু জাতীয় আয়ের চেয়ে রাজধানী ঢাকা শহরের মানুষের মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় দ্বিগুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় জাতীয় আয় ছিল ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার। এটা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮২ ডলার বেশি। আর একই সময়ে রাজধানী ঢাকার মানুষের মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় হচ্ছে ৫ হাজার ১৬৩ ডলার। দেশের শহরগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হচ্ছে। বিপরীতে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের মোট জিডিপির ৪৬ শতাংশই আসছে ঢাকা থেকে। আর কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। দেশের শহুরে জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ বাস করে ঢাকা শহরে। এটি দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ২ শতাংশের মতো। ঢাকা শিল্পঘন একটি শহর। দেশের পণ্য রপ্তানির ৪০ শতাংশের বেশি হয় ঢাকা শহর ও এর আশপাশের অঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর ঢাকা থেকে। ঢাকায় কর্মসংস্থান ও আর্থিক সংকুলানের সুবিধা তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণে ঢাকামুখী অভিবাসন বাড়ছে।
বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রমের বেশ বিস্তৃতি ঘটেছে। ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা, যারা এনজিও হিসাবে পরিচিত, তারা গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। পৃথিবীতে বাংলাদেশের মতো খুব কম দেশই আছে, যেখানে ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থার এত বিস্তৃতি ঘটেছে। এমন কোনো উপজেলা নেই, যেখানে এক বা একাধিক এনজিও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। জাতীয় ও স্থানীয় ভিত্তিতে এসব এনজিও গড়ে উঠেছে। ক্ষুদ্রঋণদানকারী এনজিওগুলো সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন তথা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা এখন মূলত গ্রামীণ মহাজনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এনজিও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনেকেই তাদের বেকারত্ব ঘুচানোর ব্যবস্থা করে থাকে। কিছুটা নেতৃত্বের গুণাবলি আছে কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেন না, এমন শ্রেণির যুবকদের মাঝেই এনজিও প্রতিষ্ঠার প্রবণতা বেশি প্রত্যক্ষ করা যায়। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে এনজিও কার্যক্রম শুরু হয়। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের গ্রামীণ জনপদে থাকা দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রাথমিক পর্যায়ে এনজিও কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গেছে। ২০২৪ সালের তথ্য মোতাবেক, দেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা ৭২৪। নিবন্ধিত এনজিওগুলোর গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখ। এ খাতে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরেও অসংখ্য এনজিও রয়েছে, যারা গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্রঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কিন্তু এনজিওগুলো গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে তেমন একটা অবদান রাখতে পারছে না। বরং অনেকেই একাধিক এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে ঋণের ফাঁদে আটকে পড়ছে। একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ৯ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে সমর্থ হয়েছে। এদের অনেকেই আছে, যারা সামান্য অভিঘাতেই আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশি একজন অর্থনীতিবিদ তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করে ৭ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে সমর্থ হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি) ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে থাকে। কিন্তু তারাও দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, বর্তমানে দেশে যে ক্ষুদ্রঋণদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তেমন একটা অবদান রাখতে পারছে না। কিছু ব্যাংকও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু টার্গেট গ্রুপ অর্থাৎ প্রকৃত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী এর কাঙ্ক্ষিত সুফলপ্রাপ্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অতএব বলা যায়, সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়েই দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ ভূমিকা রাখতে পারছে না।
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর যত জোর দেওয়া হয়েছে, সুষম বণ্টনের ওপর ঠিক ততটাই অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছে। সমাজে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দেশের সব অঞ্চলকে তার উপযুক্ততা অনুযায়ী উন্নয়নের সুফলপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শরীরের সব রক্ত মুখে এসে জমা হলে তাকে যেমন সুস্বাস্থ্য বলা যায় না, তেমনি উন্নয়নের সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ বা অঞ্চলে গিয়ে জমা হলে তাকে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন বলা যায় না।
টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য নতুন কৌশল প্রণয়ন অতীব জরুরি। এটি করতে ব্যর্থ হলে জাতির অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত