ডাকসু নির্বাচন : গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন
লেখা:তাহমিদ সাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় [সূত্র : প্রথম আলো, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে অপেক্ষার প্রহর শেষ। আজ মঙ্গলবার সেই প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কি হবে না, এমন সংশয় ও প্রশ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মনে।
তবে সব সংশয় কেটেছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ আবার নির্বাচন হচ্ছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম দেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রার্থীরা গত কয়েক দিনের প্রচারে নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। ভোটাররা বলছেন, সব প্রতিশ্রুতি হয়তো পূরণ করতে পারবেন না প্রার্থীরা। কিন্তু প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হলে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
গতকাল সোমবার নির্বাচনের আগের দিন ৭ জন প্রার্থী ও ২৩ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও প্রার্থীরা দীর্ঘদিনের প্রচার চালানোর ফলে কিছুটা ক্লান্ত ও নির্বাচনী ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।
ভোটারদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন যেসব প্রার্থী, তাঁরাই যেন নির্বাচিত হন। শিক্ষার্থীরা এমন প্রার্থী চান, যাঁরা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন। তাঁদের প্রত্যাশা হলো, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সৎ, সাহসী এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন।
ভোটারদের একজন সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী ইফরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যে আমেজ তৈরি হয়েছে, তা প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে এই আশা রাখি।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রার্থীদের কাছে তাঁর মূল প্রত্যশা থাকবে নিয়মিত যেন ডাকসু নির্বাচনটি হয়।’
প্রার্থীদের একজন ইসমাইল নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, এটা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা ভবিষ্যৎ ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রে তাকে এগিয়ে রাখবে।
ভোটাররা আটটি ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করছেন। ভোট প্রদানের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৮১০টি পোলিং বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন কেন্দ্র, টিএসসি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সেখানে সারি সারি পোলিং বুথ তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রের মধ্যে প্রতিটি বুথের ভেতরে একটি করে চেয়ার ও ছোট টেবিল রাখা হয়েছে। সেখানেই ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন।
শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। গতকাল বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান উপাচার্য।
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা সোয়াটের সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। গতকাল বিকেলে টিএসসি–সংলগ্ন ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ চত্বরে
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা সোয়াটের সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়।
‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কার জায়গা নেই’
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো ও নির্বাচন সামনে রেখে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। সোমবার বিকেলে ডাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডাকসু নির্বাচন হবে একটি মডেল নির্বাচন। বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করতে পারে, এমন দৃষ্টান্ত ঢাবি শিক্ষার্থীরা তৈরি করবে। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। কোনো ধরনের শঙ্কার জায়গা আমরা দেখছি না।’
নির্বাচন ঘিরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘ডাকসু নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে, নিরাপত্তার ভেতরে অনুষ্ঠিত হবে। আমি সবাইকে এই ব্যাপারে আশ্বস্ত করছি।’