চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : ব্রিটিশ শাসনের কালো অধ্যায়
মোহাম্মদ হাসান শরীফ মোহাম্মদ হাসান শরীফ [প্রকাশ: যুগান্তর, ২৫ মার্চ ২০২৬]

এককালের বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল বাংলাদেশকে একটি বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত এলাকা করা হয়েছিল যেসব ব্যবস্থার মাধ্যমে, তার একটি হলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এখানকার সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ ব্রিটিশরা উদ্ভট যে ব্যবস্থাটি চালু করার মাধ্যমে যে ভয়াবহ ধারার সূচনা করেছিল, তার জের এখনো টানতে হচ্ছে।
জমিদার বলে একটি শ্রেণি আগে থেকে থাকলেও তারা কিন্তু জমির মালিক ছিল না। মাহবুব আহমেদ দেখিয়েছেন, আধুনিক ইউরোপীয় আইনের সংজ্ঞানুযায়ী ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে যা বোঝায়, তা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো ভারতবর্ষেই অনুপস্থিত ছিল। জমির ওপর ব্যক্তির স্বত্ব, অধিকার ও স্বার্থ সব সময়ই সীমিত ছিল। জমির ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ছিল রাষ্ট্রের। ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ারের বাদশাহি আমলের বর্ণনায়ও দেখা যায়, জমির মালিকানা স্বত্ব ছিল সম্রাটের এবং কোনোরকম ব্যক্তিগত মালিকানা ওই সময় ভারতের কোথাও ছিল না।
১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ লর্ড চার্লস কর্নওয়ালিসের প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি প্রথমে বাংলা ও বিহারে এবং পরে বারানসি এবং মাদ্রাজের দক্ষিণ জেলাগুলোয় চালু করা হয়। কাগজে-কলমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি সংকট এবং দুর্দশার সমস্যার সমাধান করা। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে কৃষির মাধ্যমে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজ্যের রাজস্ব সম্পদ বাড়ানো সম্ভব। ব্রিটিশরা বলেছিল, একবার রাজ্যের রাজস্ব চাহিদা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ হয়ে গেলে নিয়মিত কর আয়ের প্রবাহ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ভূমির মালিকরা তাদের কৃষিজমিতে বিনিয়োগ করবে। কারণ, উৎপাদক স্থির করের বাইরে থাকা উদ্বৃত্ত নিজেরা রাখতে পারবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় স্বনির্ভর কৃষক শ্রেণি এবং ধনী জমিদারদের উদ্ভব ঘটবে, যারা তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করে আরও উদ্বৃত্ত উৎপাদন করবে। এই নতুন উদীয়মান শ্রেণি ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকবে।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তাৎক্ষণিক পরিণতি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক ও ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমন হবে, তা সম্ভবত কেউ অনুমান করতে পারেনি। জমিদারদের জমি স্থায়ীভাবে ধরে রাখার নিশ্চয়তা এবং নির্দিষ্ট করের বোঝা থাকার ফলে জমিগুলো আকর্ষণীয় পণ্যে পরিণত হয়। এর পাশাপাশি সরকারের করের দাবি ছিল অনমনীয় এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কালেক্টররা খরা, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতেন না।
জমিদাররাও একই কাজ করতেন। আর কর দিতে না পারলে প্রজাদের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন। জমিদার, ইজারাদার, পত্তনিদার প্রভৃতি রংবেরঙের মধ্যস্বত্বভোগী শোষকরা কৃষকদের ওপর যেসব নির্যাতন চালাত, তার একটি তালিকা তত্ত্ববোধিনী প্রকাশ করেছিল : ‘১. দণ্ডাঘাত ও বেত্রাঘাত, ২. চর্মপাদুকা প্রহার, ৩. বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বক্ষস্থল দলন, ৪. খাপরা দিয়ে নাসিকা-কর্ণ মর্দন, ৫. মাটিতে নাসিকা ঘর্ষণ, ৬. পিঠে হাত বেঁকিয়ে বেঁধে বংশদণ্ড দিয়ে মোড়া দেওয়া, ৭. গায়ে বিছুটি দেওয়া, ৮. হাত-পা নিগড়বদ্ধ করা, ৯. কান ধরে দৌড় করানো, ১০. ফাটা দুখানা বাঁধা বাখারি দিয়ে হাত দলন করা, ১১. গ্রীষ্মকালে ঝাঁ ঝাঁ রৌদ্রে পা ফাঁক করে দাঁড় করিয়ে, পিঠ বেঁকিয়ে পিঠের ওপর ও হাতের ওপর ইট চাপিয়ে রাখা, ১২. প্রচণ্ড শীতে জলমগ্ন করা ও গায়ে পানি নিক্ষেপ করা, ১৩. গোণীবদ্ধ করে জলমগ্ন করা, ১৪. বৃক্ষে বা অন্যত্র বেঁধে লম্বা করা, ১৫. ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ধানের গোলায় পুরে রাখা, ১৬. চুনের ঘরে বন্ধ করে রাখা, ১৭. কারারুদ্ধ করে উপোস রাখা, ১৮. গৃহবন্দি করে লঙ্কার ধোঁয়া দেওয়া।’
কৃষককে নির্যাতন করে যে অর্থ সংগ্রহ করত জমিদাররা, তা পুঁজি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জমির উন্নতিবিধান না করে তারা বরং মহাজনি বিনিয়োগ, খাদ্যশস্যের ব্যবসায়, নতুন তালুক ক্রয়, বন্ড, উপকর, শহরের বিষয়সম্পত্তি, রায়তদের খাজনা বৃদ্ধি ও তাদের ওপর আবওয়াব বা অবৈধ উপকর আরোপ ইত্যাদিতে নিয়োজিত হয়েছিল। তাছাড়া কৃষি খাতে উন্নতি বা প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নের প্রয়োজন অপরিহার্য। বাংলার কৃষি অর্থনীতি কোম্পানি শাসনে এ সুবিধা হারায়, কেননা এ দেশের শিল্পের ক্ষেত্রে যে বিরাট ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল তাদের আমলে তা ধ্বংস হয়। পক্ষান্তরে ইংল্যান্ডে সেসময় কৃষিকে উৎসাহিত করার জন্য একটা শক্তিশালী শিল্প খাত গড়ে উঠেছিল। আর সেই সঙ্গে ওই দেশের সরকার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জমির মালিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বাংলার ঔপনিবেশিক পরিস্থিতিতে জমিদাররা সে ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা কল্পনাও করতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের আওতায় বারবার দুর্ভিক্ষ, আকাল, দ্রব্যমূল্যের ওঠানামা, স্থানীয় শিল্পের বিলুপ্তি, বিত্ত অপচয়মূলক বৈরী কারণ ইত্যাদি থেকে বাংলার কৃষি খাত কখনো মুক্ত থাকতে পারেনি। এ ধরনের পরিবেশ-পরিস্থিতি পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে অপচয়কারী ভোগবাদী সামন্ত মানসিকতা গড়ে ওঠারই অনুকূল ছিল। বাংলার জমিদার শ্রেণি সে মানসিকতার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে।
এই দীর্ঘ সময় সমাজের শীর্ষ পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি পুরো সমাজ কাঠামোটাই তারা ধসিয়ে দিয়েছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তারা গ্রহণ করার বিপরীতে মোটা দাগে শুধু শোষণই করে গেছে।
বদরুদ্দীন উমর বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের পূর্বে ভারতে দুর্ভিক্ষ মাঝে মাঝে দেখা দিত। কিন্তু সেসব দুর্ভিক্ষ কখনো তেমন ব্যাপক আকার ধারণ করত না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায় এই দুর্ভিক্ষ সীমাবদ্ধ থাকত এবং সেগুলোয় ব্যাপক হারে কোনো প্রাণহানি ঘটত না।’ তিনি জানান, ব্রিটিশ আমলে দুর্ভিক্ষের দুটি কারণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একটি হলো রেলপথ নির্মাণ ও সেচব্যবস্থার ধ্বংস। রেলপথ নির্মাণের ফলে গ্রাম থেকে খাদ্য শহরে এবং সেখান থেকে ব্রিটেনে চলে যেতে থাকল। আর ইংরেজরা আসার আগে এখানে যে উন্নত, সুপরিকল্পিত ও সুরক্ষিত নৌপথ ও সেচব্যবস্থা ছিল, জমিদারদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর অবহেলায় তা ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গেল।
এ জমিদার কারা ছিলেন। এককথায় হিন্দুরা। তবে সব হিন্দু নয়। বর্ণহিন্দুরা। তারাই শোষণের কাজটি চালিয়েছে প্রবলভাবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন সবকিছুই তছনছ করে দেয় তারা। বাংলাদেশ অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ছিল মুসলমান। আর জমিদাররা হিন্দু। এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। আসাদ উল হক উদাহরণ হিসাবে দেখিয়েছেন, বগুড়া জেলায় মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ জনের ওপর হচ্ছে মুসলমান। কিন্তু এ স্থানে জমিদাররা ছিলেন হিন্দু। ১৯১১ সালে রাজশাহী জেলায় জনসংখ্যার ৭৮ জন ছিল মুসলমান, শতকরা ২১ জন হিন্দু। কিন্তু সেখানে মুসলমান জমিদার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপুলসংখ্যক মুসলমান ছিল রায়ত, মহাজনরা ছিল প্রায় সবাই হিন্দু। ফড়িয়াদের ক্ষেত্রেও ছিল হিন্দুদের প্রাধান্য। অন্যান্য এলাকায় প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।
মোকাররাম হোসেনের মতে, জমিদার শ্রেণি অর্থবান হওয়ার সুযোগে ব্রিটিশদের প্রবর্তিত শিক্ষা গ্রহণ করেছে সবার আগে। এর জের ধরে তারা সরকারি চাকরিতে ঢুকেছে। অন্যান্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তারাই প্রবেশ করতে থাকে। আর এর ফলে তারা রাজনীতিকে নিজের স্বার্থে প্রবাহিত করার চেষ্টা করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আসাদ উল হক দেখিয়েছেন, প্রথম যুগে বাংলার বুদ্ধিজীবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও বানিয়া প্রবর্তিত জমিদার শ্রেণির উল্লেখযোগ্য অবদান থাকলেও পরবর্তীকালে ছোট জমিদার ও সচ্ছল মধ্যস্বত্বভোগীদের তনয়েরাই বিপুলসংখ্যায় বিদ্ব্যৎসমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে। ক্রমে উদ্ভাবিত এ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির এমন এক স্বার্থচেতনা গড়ে ওঠে, যা আইনজীবী, চিকিৎসক, স্কুলশিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও মহাজনদের এক সূত্রে বেঁধে দেয়।
এ ব্যাপারে আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘প্রজা-আন্দোলন মুসলিম আন্দোলন। প্রমাণের যা কিছু বাকি ছিল তাও প্রমাণিত হয়ে গেল আগামী দু-চার বছরে। প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজন আইন, প্রাথমিক শিক্ষা স্কিম, মাধ্যমিক শিক্ষা বিল প্রভৃতি যতগুলো গণকল্যাণের কাজ আইনসভায় হলো, তার প্রায় সবই হিন্দু মেম্বররা একযোগে বাধা দিলেন। প্রজা আন্দোলনের মতো এত বড় একটা গণ-আন্দোলনে হিন্দুরা কেন যোগ দিলেন না, জমিদারি উচ্ছেদের দাবির মতো এত বড় একটা বিপ্লবী দাবিতে কংগ্রেসের মতো প্রগ্রেসিভ একটা দলও কেন উৎসাহের সঙ্গে সহযোগিতা করল না, তার কারণ পাওয়া গেল ফ্লাউড কমিশনের তদন্তের সময়। এ কমিশনের কাছে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বড় বড় হিন্দু নেতা বললেন : জমিদারি প্রথার ওপর বাংলার কৃষি, বাংলার সাহিত্য এবং বাংলার অর্থনৈতিক জীবনের কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। এ প্রথা উঠিয়ে দিলে সে কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির সামাজিক জীবন বিপন্ন হবে।
এবার ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। কেন প্রজা-আন্দোলনে হিন্দু রাজনৈতিক নেতাদের সহানুভূতি ছিল না, কেন অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল গণপ্রতিষ্ঠান কৃষক-প্রজা সমিতিতে হিন্দুরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় যোগ দিলেন না, এবার তা বোঝা গেল। জমিদারি প্রথা উঠলে মুসলিম জনসাধারণের সঙ্গে হিন্দু চাষিকুলেরও অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, এটা ঠিক। কিন্তু হিন্দু সমাজের যে স্তর রাজনীতিতে নেতৃত্ব করেন, তারা চাষি হিন্দুদের কেউ নন। এরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির বর্ণহিন্দু মাত্র। জমিদারি প্রথা থেকে যে আট কোটির মতো টাকা বছরে প্রজাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়, তার দশ ভাগের নয় ভাগই হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে বণ্টন হয়। কাজেই জমিদারি প্রথা উঠে গেলে এ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক জীবনে বিষম ঝুঁকি লাগবে। কাজেই হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করে অর্থনৈতিক আত্মহত্যা করতে পারে না। আর এরাই হলেন হিন্দুদের রাষ্ট্রনেতা। কাজেই তারা প্রজা আন্দোলন ও প্রজা সমিতি থেকে দূরে থাকলেন।’
চিরস্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে ব্রিটিশরা যেসব স্বপ্ন দেখেছিল, তার মধ্যে শুধু একটি লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছিল। তা হলো-নতুন যে শ্রেণিটির উদয় ঘটবে, সেটি ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকবে। জমিদাররা একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত ব্রিটিশদের একান্ত অনুগতই ছিল। কিন্তু নতুন ব্যবস্থার আওতায় খাদ্য উৎপাদন বাড়েনি, বরং অনেকাংশে কমে গিয়েছিল। ধনী জমিদাররা উদ্বৃত্ত অর্থ জমিতে বিনিয়োগ না করে বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। শিল্প ও বাণিজ্য খাত আরও পুঁজিহীন হয়ে পড়ে। জমিদাররা তাদের ভোগব্যবস্থা জিইয়ে রাখতে নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছিল কৃষকদের ওপর। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখানে যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়ে, আগে কখনো এ উপমহাদেশ দেখেনি। মোকাররাম হোসেন দেখিয়েছেন, ১৮৯৩ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত শ্রেণি হিসাবে আইনত জমিদাররা বেঁচে ছিল এবং সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছে নিজেদের অস্তিত্বকে ধরে রাখার এবং প্রয়োজনে উলঙ্গভাবে। পাকিস্তান হওয়ার পর ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তান পরিষদ নতুন বিল পাশ করে আইনগতভাবে জমিদারপ্রথা বিলোপ করে। কিন্তু যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার নিরাময় খুব সহজ নয়।
মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক