চীন ও বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক রাজনীতি
ড. মো. আইনুল ইসলাম, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় [সূত্র : প্রতিদিনের বাংলাদেশ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

মাঝেমধ্যে খুব হতাশ লাগে। কারণ বিশ্ব এখন এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত পুরনো বিশ্বব্যবস্থা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র নতুনভাবে রঙিন হচ্ছে। অথচ বিপুল জনমিতিক সম্ভাবনা নিয়েও আমরা বাংলাদেশের মানুষ অস্ট্রিচের মতো বালুতে মুখ লুকিয়ে সংস্কার, নোট অব ডিসেন্ট, নীলা মার্কেট, টিকটকসহ ইত্যাকার ‘ফালতু’ বিষয় নিয়ে চারদিক গরম করে ফেলছি। কিন্তু দৃষ্টি তো একটু প্রসারিত করলেই দেখা যায়, বাইরের বিশ্ব নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে। একদিকে পুঁচকে ইয়েমেন হতদরিদ্র অবস্থা নিয়েও পাশ্চাত্যকে অবিরত বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছে, আরেকদিকে নিজেকে ‘ভবিষ্যৎ’ করে এশিয়া উঠে আসছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন।
মানব ইতিহাসের এই প্রথম একই সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে করায়ত্ত করাকে মূল দর্শন করে চীন নিজেকে প্রস্তুত করছে একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার জন্য। চীনের উত্থান আর ইয়েমেনে এই দুঃসাহস শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বিশ্বকে নতুন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর একপাক্ষিক ব্যাখ্যার ওপর ভয়ডরহীনভাবে ভাঙচুর চালাচ্ছে। পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরাও তাই স্বীকার করছেন, ভঙ্গুরতার শেষ সীমানায় থেকেও ইয়েমেন যেভাবে পাশ্চাত্যের দম্ভ চূর্ণ করছে, তার সঙ্গে অপ্রতিরোধভাবে উঠে আসা চীনের দর্শকের গভীর সংযোগ রয়েছে, যা পরিবর্তনকে নিয়তি করে ফেলেছে। আর এজন্যই যে পাশ্চাত্য চীনের সাফল্যকে শুধু বাজার অর্থনীতির সৌভাগ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, তারা নিজেরা এখন গোপন বৈঠক করে চীনের উত্থান ঠেকানোর পথ খুঁজছে। তবু বুঝতে পারছে, চীনের মডেল একটি সুপরিকল্পিত, গভীরভাবে প্রোথিত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতিফল, যা মানুষের জীবনকে ইতোমধ্যেই প্রভাবিত করে ফেলেছে এবং এখন বিশ্বব্যবস্থার দিকনির্দেশক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় স্বপ্নাতুর বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নায়কদের স্বপ্ন সফল করতে হলে অবশ্যই আগামীর বিশ্বনেতা চীনের উত্থান প্রক্রিয়ায় দৃষ্টি দিতে হবে।
চীনের মডেল : তিনটি স্তম্ভ : চীনের উত্থান ও উন্নয়নের মডেল তিনটি শক্তিশালী স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উদ্ভাবন এবং সামাজিক সংহতির মধ্যে সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এই তিন স্তম্ভের মধ্যে যে সমন্বয় তৈরি হয়েছে, তা বিশাল এক সমাজকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
১. রাজনৈতিক স্তম্ভ : স্থিতিশীলতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব
চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, পরিকল্পনা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখানে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কঠোর এবং মেধাভিত্তিক। উচ্চপর্যায়ের নেতাদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের ভিত্তিতেই নির্বাচিত করা হয়। নেতাদের আগে বড় প্রদেশ বা অঞ্চল পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ বোঝা এবং তা মোকাবিলার দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে, যিনি নেতৃত্বে আসবেন তিনি দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং জনগণের সেবায় নিবেদিত হবেন। প্রাচীন চীনের মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস পদ্ধতির বিবর্তনের প্রতিফল এই আধুনিক মডেল। এতে নির্বাচনের সঙ্গে মনোনয়ন ব্যবস্থার সমন্বয় রয়েছে, যা জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সমর্থন ও চাপের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে চীন সর্বাগ্রে তার সরকারি নীতিতে দুর্নীতিকে ঘৃণ্যতম কাজ হিসেবে চিত্রিত করে কঠোর নীতিব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং-এর নেতৃত্বে ২০১২ সাল থেকে চলমান ‘টাইগার অ্যান্ড ফ্লাইজ’ কার্যক্রমে আরও বেগবান হয়েছে। ১৪ বছর ধরে চলমান এই কর্মসূচি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিম্নস্তরের কর্মী থেকে শুরু করে ‘চাইনজি পিপলস পার্টি’র (সিপিপি) বিশুদ্ধতা রক্ষায় জোর দেয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা হয়েছে যে, যাতে মনে হয় দুর্নীতি সমাজের ক্যানসার এবং মানুষে মানুষে অসন্তোষ-বৈষম্য সৃষ্টির মূল কারিগর। সরকারি আইন ও প্রচারণায় ঘৃণ্যতম এই দুর্নীতি উচ্ছেদে শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড; ২০২৪-এর ‘ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্টস’ সামান্য ঘুষের জন্যে শাস্তি আরও বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে আকস্মিকভাবে শুরু করা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কয়েক হাজার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মীকে অপসারণ, জেল, জরিমানা করা ছাড়াও ৫৭ লাখ পার্টি সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির দুর্নীতির বিরুদ্ধে অটল অবস্থান প্রদর্শন করে।
২. অর্থনৈতিক স্তম্ভ : রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও বাজার গতিশীলতা
চীনের অর্থনীতি একটি অনন্য শংকর ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে, যা ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’ নামে পরিচিত। এখানে রাষ্ট্র অর্থনীতির কৌশলগত খাত যেমন ব্যাংকিং, জ্বালানি, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। তবে একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রে বিশাল-বিশাল অবকাঠামো যেমন রেল, সড়ক, বন্দর ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমকে আরও প্রসারিত করেছে। বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি চীনা কোম্পানিগুলোকে বিশ্বমানের প্রতিযোগী করেছে। চীনের অর্থনৈতিক মডেল বাজার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে একটি অভিন্ন সমন্বয় তৈরি করে, যেখানে রাষ্ট্র সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে; তবে বাজারশক্তিও প্রয়োজনমতো এই সম্পদকে নমনীয়ভাবে ব্যবহার এবং বণ্টন করার সুযোগ রাখে। এর মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত নিয়ন্ত্রণ করে ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ প্রকল্পের মতো নানা উদোগ গ্রহণ করে, যা উন্নত প্রযুক্তির বিকাশে সরকারি বিনিয়োগ ও নীতি সমর্থন প্রদান করে। অন্যদিকে বাজার গতিশীলতা বেসরকারি উদ্যোগগুলোকে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেয়, যেমন আলিবাবা ও টেনসেন্টের মতো কোম্পানি ই-কমার্স এবং ডিজিটাল সার্ভিসে বাজার চাহিদা অনুসারে বৃদ্ধি পায়, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে চীনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার মূল উৎস। অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট সব অনুষঙ্গের সমন্বিত ভারসাম্যই চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে এবং শক্তিশালী দেশগুলোর প্রবল বাধা সত্ত্বেও আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রথমের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
৩. সামাজিক স্তম্ভ : রাষ্ট্র ও জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা
চীনের সামাজিক মডেল রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা-সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সরকার জনগণের কল্যাণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া দ্রুত এবং কার্যকর। এই আস্থার সম্পর্ক দেশকে বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় ও শক্তি প্রদান করেছে। নাগরিকরা শুধু আইন মেনে চলে না, তারা নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে মতামত প্রদান করে। এটি চীনের ‘প্রক্রিয়াগত পূর্ণাঙ্গ জনগণতন্ত্র’র মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে অলিখিত আস্থা-বিশ্বাসের চুক্তি অটুট রাখতে গত দুই দশকে অর্ধশত শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘুষ ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ৬ লাখ মার্কিন ডলারের ঘুষ গ্রহণের অপরাধে জিয়াংসি প্রদেশের সাবেক উপ-গভর্নর হু চাংছিংর ফাঁসি হয়। একই বছর চীনের জাতীয় আইনসভার সাবেক উপ-চেয়ারম্যান চেং কেজিংকে দুর্নীতির কারণে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়। গুইঝৌ প্রদেশের প্রধান সরকারি কর্মকর্তা লু ওয়ানলিকে ৬৬ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একাধিক প্রাদেশিক কর্মকর্তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় খাদ্যে ঔষধ প্রশাসনের প্রধান ঝেং শিয়াওইউর দুর্নীতির কারণে ফাঁসি হয়েছে। অবৈধ অর্থ ও দুর্নীতির শাস্তি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পার্টি সদস্য কেউই বিন্দুমাত্র ছাড় পান না। সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁসির প্রবণতা কিছুটা কমলেও সামান্য দুর্নীতি ও অবৈধ অর্জনের জন্যে সর্বনিম্ন ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হয়, নচেৎ আজীবন কারাবাস। দুর্নীতির বিরুদ্ধের সরকারের এই কঠোর নীতি চীনের সিপিসি সরকারের নাগরিক গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা রাষ্ট্রের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন নিশ্চিত করছে।
গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা: চীনের মডেল পশ্চিমা গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করছে, যেখানে গণতন্ত্র কেবল ভোটের ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হলো একটি ‘পূর্ণাঙ্গ জনগণতন্ত্র’, যা সরকারি নীতি ও আইন প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ, ইচ্ছা ও পরামর্শ নিশ্চিত করে। আইনের খসড়া থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত থাকে। ফলে সিদ্ধান্তগুলো জনগণের বাস্তব চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। চীনের দর্শন অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো সুশাসন ও জনগণের কল্যাণ এবং কোনো রাজনৈতিক পদ্ধতির কাঠামো এই দর্শনে প্রাধান্য পাবে না। এটি ‘ভালো শাসন বনাম খারাপ শাসন’-এর মূল বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
বহুমুখী বিশ্বে অগ্রসরমানতা: চীনের উত্থান একটি বহুমেরু বিশ্বগঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। এখানে কোনো একক দেশ বা মুদ্রার প্রাধান্য থাকবে না। বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এই যুগান্তকারী চিন্তা থেকেই উৎসারিত হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মনে করা হয়, নিজেকে ভালো রাখতে হলে, অপরকেও ভালো থাকতে দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই মার্কিন ডলারের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা যেমন ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস) তৈরি করা হয়েছে। এটি দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিকনির্দেশক হয়ে উঠেছে। চীনের শিল্পগভীরতা ও উৎপাদনক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের পক্ষেও নকল করা প্রায় অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ একটি বৃহৎ শিল্পকেন্দ্র ১০০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে প্রতিটি উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে। চীনের প্রস্তাবিত আর্থিক ও বাণিজ্যিক দিকনির্দেশনা নয়া বিশ্ব অর্থনীতি গঠনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পণ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক শক্তি মার্কিন ডলারের প্রভাবকে উল্টে দেওয়ার সব বন্দোবস্ত করে রাখছে, যে জন্য মা হম্বিতম্বি দিয়ে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করলেও দ্রুতই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন।
ভবিষ্যতের পৃথিবী: পৃথিবীর জানা ইতিহাসে চীনের উত্থানের মডেল অতীতের কোনো মডেলের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এটি যেমন পশ্চিমা লিবারেল ডেমোক্রেসি নয়, তেমনি সোভিয়েত-শৈলীর কমিউনিজম নয়, আবার মাও সেতুংয়ের প্রদর্শিত পথও নয়। বরং এটি চীনের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি অতীতের পতন হওয়া শক্তির নির্যাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য তৈরি অনন্য এক উন্নয়নদর্শন। এর ফলাফল অসাধারণ : কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি। বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অসাম্য ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো জটিল সমস্যার মুখোমুখি, তখন চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্থিতিশীলতা ও সমবায় উদ্যোগ অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণী বিকল্প হিসেবে দেখা দিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর নেতৃত্ব এশিয়ায় থাকবে এবং তার কেন্দ্রবিন্দুতে চীন থাকবেÑ এটি এখন আর ভবিষ্যদ্বাণী নয়, একান্তই বাস্তবতা।