কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বিনিয়োগ সম্মেলন : টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ

শোয়েব সাম্য সিদ্দিক [সূত্র : সময়ের আলো, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

বিনিয়োগ সম্মেলন : টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি আর উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টিতে উৎসাহী। তবে বাস্তবতায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোর ঘাটতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) কেবল মূলধনের জোগানই দেয় না, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করে।
 


এফডিআই এমন এক ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ যেখানে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের অর্থনীতিতে মূলধন স্থায়ীভাবে যুক্ত করে এবং এ ক্ষেত্রে ঋণ বা সুদের চাপ থাকে না। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটে।
 


বাংলাদেশে ২০২৪ সালে মোট নেট এফডিআই প্রবাহ ছিল প্রায় ১.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬৪.৬৩ মিলিয়নে যা আগের বছরের একই সময়ে ৪০৩.৪৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ১১৪ শতাংশ বেশি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৪ সালে এ প্রবাহ কমে গেলেও, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া আংশিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
 


বাংলাদেশে এফডিআই বা বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ছিল ৩০.৭ শতাংশ যা উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ৩৫ শতাংশ বা তার বেশি হওয়া প্রয়োজন, তাই অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের ঘাটতি পূরণে এফডিআই অপরিহার্য। বর্তমানে দেশের রফতানির ৮৪ শতাংশ আসে আরএমজি খাত থেকে কিন্তু এফডিআই তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে রফতানিযোগ্য পণ্য ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে পারে। প্রতি বছর ২০-২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তাই নতুন কারখানা, অফিস ও সাপ্লাই চেইন গড়ে এফডিআই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা আনে, যা স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং রফতানিমুখী এফডিআই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
 


বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অবৈধ অর্থ পাচার হয়, যা উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক বিনিয়োগের তহবিলের ঘাটতি তৈরি করছে (শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি, ২০২৪)। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চিত, ফলে ২০২৪ সালের পর সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, বন্দর ও যানজটের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। দেশে দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের জন্য। ২০২৫ সালের মধ্যে রফতানি খাতে ৮৫,০০০ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন, যা পূরণের জন্য সরকার ও শিল্প খাত একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 
 


বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অন্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে সরকারি সেবা ও বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমাচ্ছে। এক সমীক্ষায় ৮৪.৩ শতাংশ জনগণ ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘ ও জটিলতা বিনিয়োগকারীদের সময় ও খরচ বাড়াচ্ছে, যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তা ছাড়া কর, ভ্যাট ও অন্যান্য নীতিমালার হঠাৎ পরিবর্তনও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে, যা একই প্রতিবেদনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
 
 
 
টমাস কোনিং, জার্মান প্রতিষ্ঠান অসপিগ জিএমবিএইচের প্রধান নির্বাহী, সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে অংশ নিয়েছেন। মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং ও যন্ত্রপাতি উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও এখানে আগ্রহী। 
 


এই খাতগুলো বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনাময়-আইসিটি ও সফটওয়্যার খাত : সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে বিনিয়োগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, জিডিপি ও রফতানি বৈচিত্র্যে অবদান রাখতে পারে।
 
 
 
কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ : খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রফতানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থায়ী বিনিয়োগ অপরিহার্য। 
 
 
 
ইলেকট্রনিক্স ও বায়োটেক : উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ আকর্ষণ করে, যা দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।  
 
 
 
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি : সোলার, উইন্ড এনার্জি ও সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
 
 
 
স্বাস্থ্য ও ফিনটেক : মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে সক্ষম।
 

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে কেবল কৌশলগত পরিকল্পনা নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। 
 
 
১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা : যেকোনো বিনিয়োগকারী স্থির ও নিরাপদ পরিবেশ চান। নির্বাচনি পূর্ব-পরিস্থিতি, আন্দোলন ও সংঘাত না থাকলে তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবেন।
 

২. অবকাঠামো উন্নয়ন : তুষার কারখানার জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে হবে, বন্দর দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হতে হবে।
 

৩. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস : এক জায়গায় সব লাইসেন্স, অনুমোদন ও নথি সম্পন্ন করার সুবিধা থাকলে, বিনিয়োগকারীরা সময় ও খরচ বাঁচাবে এবং দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে পারবে।
 

৪. দক্ষ জনশক্তি তৈরি : কারখানায় কাজ করার জন্য স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও  প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন জরুরি।
 

৫. দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা : সরকার ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করে। তাদের অর্থ সুরক্ষিত এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল নয়।
 

৬. ট্যাক্স নীতি স্থির ও নিয়মিত মানানসই করা : কর, ভ্যাট ও নীতিমালার হঠাৎ পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে। স্থিতিশীল নীতি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সহজ করবে।
 

৭. বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান : সম্পদ ও কর্মীদের নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত।


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের নেট এফডিআই প্রবাহ ৮৬৪.৬৩ মিলিয়ন পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪০৩.৪৪ মিলিয়নের তুলনায় ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এই প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হতে পারে।
 


বাংলাদেশে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আহ্বান একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে অন্যদিকে তেমনি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও সামনে আনছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী অবকাঠামো, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ খোঁজেন, যেখানে নীতি স্থায়িত্বশীল, অবকাঠামো আধুনিক এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ। সুতরাং বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক শান্তি, সুশাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।
 


সঠিক নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ আসন্ন দশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এক নতুন অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না থেকে প্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের মতো বৈচিত্র্যময় খাতে এফডিআই প্রবাহিত করা গেলে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটবে।
 


বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম এজেন্ডা হলো- দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। এর অংশ হিসেবে বেশ জাঁকজমকভাবে বিডা আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলন গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে যেটিকে ইতিমধ্যেই একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরি হয়েছে, যা আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসে বাস্তবে রূপ নেবে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজন নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। অংশ নিয়েছেন সাড়ে চারশর বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী, যারা ইতিবাচক ধারণা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। ইতিমধ্যে চীনের হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ ১৫ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশি কোম্পানি শপআপ ১১ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে- মোট প্রতিশ্রুতি প্রায় ৩,১০০ কোটি টাকা। এর বাইরে নাসার সঙ্গে মহাকাশ গবেষণায় চুক্তি, চীনের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি, আইএলওর সঙ্গে শ্রম খাতে সমঝোতা এবং স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট চালু হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় মাইলফলক। ডিপি ওয়ার্ল্ড, লাফার্জ, গ্রামীণফোন, জিওর্ডানো ও এক্সিলারেট এনার্জির মতো শীর্ষ কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
 


ভবিষ্যতের দৃশ্যকল্পে বাংলাদেশকে দেখা যেতে পারে- কারখানা, প্রযুক্তি পার্ক এবং উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের বিশাল চাহিদা পূরণ করছে। দেশে গড়ে ওঠা দক্ষ ও আধুনিক কর্মশক্তি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রযুক্তি স্থানান্তর সহজ করছে, এবং তরুণ উদ্যোক্তারা নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করছে। এই প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময়, প্রতিযোগিতামূলক ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।