বেনাপোল স্থলবন্দর ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত
[সূত্র : খবরের কাগজ, ১০ এপ্রিল ২০২৬]

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য আমদানির চেষ্টা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। একই সময়ে বন্দরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত রবিবার বিকেলে বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে একটি বড় চালান জব্দ করা হয়। সিন্থেটিক ফেব্রিক্স হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও তল্লাশিতে ২৬৮ প্যাকেজ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস পাওয়া যায়, যা ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
এর আগে ১৪ মার্চ বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। ৯ মার্চ ঘাসের বীজ ঘোষণায় আনা চালান থেকে উদ্ধার করা হয় পাটের বীজ। এ ছাড়া ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে প্রায় ৩ টন অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লিংক ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল বলেন, নজরদারি জোরদার করায় এসব অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্দেহজনক প্রতিটি চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন কাস্টমসের সক্রিয় ভূমিকা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয় এবং রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ এখান থেকেই আসে।