বেলেম সম্মেলন কেন গুরুত্বপূর্ণ
[আপডেট : কালবেলা, ২৩ নভেম্বর ২০২৫]

আমাজনের মোহনায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্রাজিলের বেলেম শহরে জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু সম্মেলন ঘিরে বিপুল প্রত্যাশা ছিল। তবে ১২ দিনের সম্মেলন শেষে আশার চেয়ে হতাশার ছবিই বেশি দৃশ্যমান হলো। জলবায়ু অর্থায়ন, ন্যায্য রূপান্তর আর প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন—এমন তিনটি জরুরি ইস্যুতেও কার্যত বড় কোনো সুখবর আসেনি। কৌশলগত কিছু বিষয়ে সামান্য এগোনো গেছে ঠিকই, তবে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো এখনো অপরিবর্তিত পড়ে আছে। এরপরও এ ধরিণী রক্ষায় এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
বেলেম শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক চুক্তির (ইউএনএফসিসিসি) আওতায় আয়োজিত ৩০তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ৩০) একত্র হয় বিশ্ব। ১০ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আমাজন অঞ্চলের বেলেম শহরে আয়োজিত এ শীর্ষ সম্মেলনটি প্রতীকীভাবে ব্রাজিলেই ফিরেছে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলেই ইউএনএফসিসিসির সূচনা হয়েছিল। বহু বছর পর আবারও ব্রাজিলেই ফিরল কপ সম্মেলন।
কপ সম্মেলন কী: কপের পূর্ণ রূপ হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস। এর সদস্য দেশগুলো ১৯৯২ সালে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। চুক্তিটি হলো দ্য ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)। বিশ্ব জলবায়ু ব্যবস্থাকে মানুষের বিপজ্জনক তৎপরতা থেকে রক্ষা করাই এর লক্ষ্য। ১৯৯৫ সালে কপের প্রথম সম্মেলন হয় জার্মানির বার্লিনে। এটি কিয়োটো প্রটোকলের সময় থেকে বিকশিত হয়ে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে পৌঁছায়। এর লক্ষ্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করা দেশ হিসেবে ব্রাজিলেরও আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এখন থেকে ঠিক ৩৩ বছর আগে দেশটির রিও ডি জেনিরো শহরে একটি সম্মেলনে ইউএনএফসিসিসি চুক্তি সই হয়েছিল।
কপ-৩০ কেন গুরুত্বপূর্ণ: কপের ৩০তম সম্মেলনে ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আদিবাসী নেতারা যোগ দেন। এর লক্ষ্য নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, বরং পুরোনো অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন আয়োজক দেশ এবার বিশেষ গুরুত্ব দেয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোয়। সম্মেলনের আরেকটি লক্ষ্য হলো, খনন, কাঠ সংগ্রহ ও কৃষি সম্প্রসারণজনিত বননিধন প্রতিরোধ। আমাজন বনের আদিবাসীরা ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সম্মেলনে অংশ নেন। মূলত আমাজন বন রক্ষার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে বেলেম শহরে এবারের আয়োজনটি করা হয়েছে। কারণ এ বনই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কার্বন শোষক।
ব্রাজিলীয় কূটনীতিক আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো বলেন, ‘চীন এখন এমন সমাধান দিচ্ছে, যা সবার জন্য উপকারী। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি ভালো সংকেত।’ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—এ সম্মেলন ব্যর্থ হলে মানবজাতির প্রয়োজনীয় ঐক্য ভেঙে পড়তে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান