কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নে যা করণীয়

ড. মনজুর আলম [প্রকাশ : যুগান্তর, ২৩ অক্টোবর ২০২৫]

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নে যা করণীয়

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে শুল্ক বিরোধের কারণে দুদেশের সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কারোপ ভারতের মতে, ‘unfair, unjustified and unreasonable’, অর্থাৎ ‘অন্যায়, অহেতুক এবং অযৌক্তিক’; তাই বিরোধ দুদেশের সম্পর্কে কঠিন আঘাত করছে। ভারত জোর দিয়ে বলেছে, নয়াদিল্লি ‘তার জাতীয় স্বার্থরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেবে।

 
 
 

ভারতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে একটা দিকনির্দেশনা দেয়! ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারত যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সেই আলোকে বিবেচনা করলে (not to make unfair, unjustified and unreasonable) আমাদের দুদেশের (বাংলাদেশ-ভারত) সম্পর্ক কোনোভাবেই খারাপ হতে পারে না। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘অনুকূল’ পরিবেশে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে কোনো পরিসর মোকাবিলা করতে পারে।

 

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল, ইতিবাচক, গঠনমূলক, ভবিষ্যৎমুখী এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ; যা পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে, যেখানে দুই দেশের জনগণই হবে এ অংশীদারত্বের মূল অংশীদার। হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশকে তাদের ভৌগোলিক নৈকট্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিকভাবে লাভজনক নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তঃনির্ভরতা আরও জোরদার করতে হবে।

 

 

সত্যিই যদি তাই হয়, তাহলে তো কোনো সমস্যাই নেই। তবে স্থিতিশীল, ইতিবাচক, গঠনমূলক, ভবিষ্যৎমুখী এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে বা সম্পর্ক গড়তে হলে বেশকিছু বিষয় পরিষ্কার এবং খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন, যাতে unfair, unjustified and unreasonable কর্মকাণ্ড দু-দেশের সম্পর্ককে কলুষিত না করে। তাই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এখনই বাংলাদেশকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে দেশের বর্তমান অবস্থান!

 

 

যেমন ধরা যাক : ১. বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার রেমিট্যান্সের (করবিহীন) বিপুল অর্থ গমন! ২০১৭ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ায় বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশ ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম রেমিট্যান্সের উৎস হয়ে উঠেছে। বেসরকারি পরিসংখ্যানে অর্থ পাচার ও করবিহীন রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি বলে অনুমান। এটা কেমন করে হচ্ছে? ২. বিপুলসংখ্যক ভারতীয়র অবৈধভাবে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুসারে, ২০০৯ সালে প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।

 

নিবন্ধ মতে, তারা বিভিন্ন এনজিও, গার্মেন্ট, টেক্সটাইল ও আইটি কাজের সঙ্গে জড়িত এবং হুন্ডি ট্রান্সফার সিস্টেমের মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠিয়েছে। ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির মতে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ১০ লাখ ভারতীয় থাকতে পারে। এ তথ্য কি আদৌ সত্য? ৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত জাতিসংঘের কমট্রেড ডেটাবেজ অনুসারে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ছিল ১১.২৫ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ডেটা, ঐতিহাসিক চার্ট এবং পরিসংখ্যান অনুসারে)।

 

পাশাপাশি ২০২২ সালে বাংলাদেশ ভারতে ২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থের পণ্য রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি করা প্রধান পণ্যগুলো ছিল নন-নিট মেনস স্যুট (১৯৫ মিলিয়ন), অন্যান্য বিশুদ্ধ উদ্ভিজ্জ তেল (১৬৩ মিলিয়ন) এবং টেক্সটাইল স্ক্র্যাপস (১৩৩ মিলিয়ন)। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৫১৭.৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য (জাতিসংঘের কমট্রেডের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডেটাবেজ অনুসারে)। এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা পূরণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? বাংলাদেশ-ভারত পণ্য বিনিময়ের এ অসম অঙ্ক কি reasonable, fair or justified?

 

 এটি পারস্পরিক সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে, এটাই কি স্বাভাবিক নয়? ৪. বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয়দের অবস্থান! পোশাকশিল্পের বায়িং হাউজগুলো ভারতে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে তাদের ইন্ধন কি সত্যি? তবে এটা সত্যি, বাংলাদেশে ভারতীয় টেক্সটাইল এবং পোশাক সংস্থাগুলো ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ৩৫টি বা ততোধিক কারখানায় প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। শাহী এক্সপোর্ট, হাউজ অব পার্ল ফ্যাশনস, জে জে মিলস, টিসিএনএস, গোকালদাস ইমেজ এবং আমবাত্তুর ক্লোথিংয়ের মতো রপ্তানিকারকদের ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে এবং চেন্নাইভিত্তিক কারখানা রয়েছে। মালিকানা পরিবর্তনের ধারা, বিনিয়োগ এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে কিনা, তার অনুসন্ধান কি জরুরি নয়?

 

 

To be fair, justified and reasonable? ৫. টুথপেস্ট থেকে মোটরগাড়ি, আলু-পেঁয়াজ থেকে তেজপাতা, সব ভারতীয় ভোগ্যপণ্যের অবাধ বাজারের পাশাপাশি সব ভারতীয় টিভি চ্যানেলে ভারতীয় পণ্যের ফ্রি প্রচারণায় বাংলাদেশের যে বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তার যথাযথ বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নে কি প্রয়োজনীয় নয়? ৬. অনেকটা বিনা ফিতে বাংলাদেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত দিয়ে ভারতের পণ্য পাঠানোর বন্দোবস্ত এবং মোংলা বন্দর থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহণ সম্পর্কিত কোনো সমঝোতা হয়ে থাকলে (পাশাপাশি অন্যান্য চুক্তি ও সমঝোতাপত্র) জনগণকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন যাতে জনগণের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে, সেটা কি fair, reasonable, and justifiable সম্পর্কোন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না? ৭. মহাকাশে বাংলাদেশের অবস্থান এবং স্যাটেলাইট কক্ষপথ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিষয়, যেমন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বঙ্গবন্ধু-১), প্রথম বাংলাদেশি জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশনস এবং ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট, যা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস দ্বারা নির্মিত এবং কেনেডি স্পেস সেন্টার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ মে ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

 

স্যাটেলাইটটি ছিল স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ লঞ্চ ভেহিকেলের প্রথম পে-লোড। উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মহাকাশে একটি স্যাটেলাইট পরিচালনার ৫৭তম দেশ। অথচ বাংলাদেশ স্যাটেলাইটটি দেশের কক্ষপথে বা কাছাকাছি প্রতিস্থাপন করতে পারেনি, করেছে ইন্দোনেশিয়ান অরবোটরিতে। এটাও কি তবে সত্যি যে, বাংলাদেশের কক্ষপথে ঘুরছে ভারতের একটি স্যাটেলাইট GSAT-17, যা কিনা একটি ভারতীয় যোগাযোগ উপগ্রহ। ISRO দ্বারা নির্মিত এবং INSAT দ্বারা পরিচালিত। এটি ২৪টি সি-ব্যান্ড, ২টি নিম্ন সি-ব্যান্ড, ১২টি ওপরের সি-ব্যান্ড, ২টি সিএক্সএস (সি-ব্যান্ড আপ/এস-ব্যান্ড ডাউন) এবং একটি এসএক্সসি বহন করে। বাংলাদেশের কক্ষপথ ঘুরছে ভারতের স্যাটেলাইট অথচ বাংলাদেশের স্যাটেলাইট দেশের কক্ষপথে প্রতিস্থাপন না করে ইন্দোনেশিয়ার কক্ষপথে প্রতিস্থাপন করার কারণ কী? এটা কি তবে ধরে নিতে হবে যে, ভারত বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী ছোট্ট দেশের ওপর খবরদারি করতেই বাংলাদেশের কক্ষপথে তাদের স্যাটেলাইট বসিয়েছে আর আমাদের স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে/পাঠিয়েছি ইন্দোনেশিয়ার কক্ষপথে! আসল রহস্য জানা fair, reasonable and Justified সম্পর্কোন্নয়নের জন্য জরুরি নয় কি? ৮. বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল সুবিধা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা (বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে) কি সত্যি? এটাও কি সত্যি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় ব্যান্ডউইথ সরবরাহের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার করার জন্য সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড আবেদন করার পরে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সরকারের কাছে সম্মতি চেয়েছে? ২০২৩ সালের মার্চে (?) ভারতের বৃহত্তম ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কোম্পানি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে অনুমতি চেয়েছে। কমিশন টেলিকম মন্ত্রকের অনুমোদন চাইছে, কারণ বিদ্যমান আইনগুলো বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরের অপারেটরদের কাছে টেলিযোগাযোগ পরিষেবা ট্রানজিট করার অনুমতি দেয় না।

 

 

 এটাও কি সত্যি সামিট কমিউনিকেশনস, একটি আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (ITC) অপারেটর, ভারতীয় এয়ারটেলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে? যে সার্ভিসটির মূল উদ্দেশ্য আখাউড়া হয়ে আগরতলাকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা থেকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছানো। পরিষেবাটি একটি আন্তর্জাতিক প্রাইভেট লিজড সার্কিট হিসাবে পরিচিত, যা ট্রানজিট রুট হিসাবে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করবে, যাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা সক্ষম করবে।

 

 

কমিশনের নথিতে লিপিবদ্ধ সামিট কমিউনিকেশনস বিটিআরসির কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়টি উপস্থাপনা করেছে, এ তথ্য কি মিথ্যা? এখানে উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে চেন্নাইয়ের ল্যান্ডিং স্টেশন প্রায় ৫,৫০০ কিলোমিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়ি প্রকৃতির কারণে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপন তুলনামূলকভাবে কঠিন। প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্তিরকরণ! এতে যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট পরিষেবার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং দেশের পরিষেবার মান হ্রাস পাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

পরিশেষে এটা ভাবা বা লেখা কি অনুচিত যে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কোন্নয়ন ও বিকাশের জন্য খোলামেলা সব বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন? প্রতিটি বিষয় যথাযথ উত্থাপন, বিশ্লেষণ ও পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না রেখে অগ্রসর হওয়াই কি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে fair, justified and reasonable সম্পর্ক সৃষ্টির মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়?

 

 

 

ড. মনজুর আলম : সহযোগী অধ্যাপক, হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়, ফিনল্যান্ড; শাসনতান্ত্রিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ, ইইউ উন্নয়ন প্রকল্প