বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্য উত্তেজনার কী প্রভাব পড়ছে
বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর অবনতি এক গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহযোগিতার জায়গা ক্রমে প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্য উত্তেজনার অর্থনৈতিক, কূটনীতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব কী, তা নিয়ে লিখেছেন গোলাম রসুল গোলাম রসুল [প্রকাশ: প্রথম আলো, ২২ আগস্ট ২০২৫]

ভারত বাংলাদেশের পাটপণ্য স্থলপথে রপ্তানির ওপর সম্প্রতি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ভারতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য কোনো স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এসব পণ্য এখন শুধু মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে।
গত কয়েক মাসে ভারত কয়েক দফায় বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন নতুন অশুল্ক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ৯ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। ১৭ মে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফল, কোমল পানীয়সহ কয়েকটি পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
২৭ জুন ৯টি পণ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার মধ্যে বোনা কাপড়, কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতা এবং বিশেষ ধরনের কাপড় অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশও স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারত থেকে সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বাংলাদেশের পাটপণ্যের জন্য ভারতের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য ভারতে রপ্তানি করে মোট আয় করেছে ৮৫৫ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের পাট খাতের মোট রপ্তানির একটি বড় অংশ।
ভারতের বাজারে পাটপণ্যের রপ্তানির একটি বড় অংশই স্থলবন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়, বিশেষ করে বেনাপোল, বুড়িমারী, হিলি ও সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে। ভারতের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা, যেখানে এসব পণ্য শুধু নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে, তা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশও স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সেই সব না-বলা কথা
০১ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সেই সব না-বলা কথা
২.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত, যা শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভাষাগত যোগসূত্রে গভীরভাবে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত শুধু রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
গত দুই দশকে এই সম্পর্ক রাজনৈতিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ অবকাঠামো এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক যদিও সব সময় মসৃণ ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর অবনতি এক গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহযোগিতার জায়গা ক্রমে প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষে পরিণত হচ্ছে।
বাণিজ্য কেবল অর্থনৈতিক বিনিময় নয়; এটি কূটনৈতিক আস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন। ফলে বাণিজ্যে টানাপোড়েন দেখা দিলে তা দুই দেশের আস্থা, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ট্রাম্পের রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ নীতির কারণে অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের একতরফা অশুল্ক বাধা বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা জরুরি—কারণ উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংযোগের ভবিষ্যৎও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৩.
বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্য উত্তেজনা ভবিষ্যতে সম্ভাব্যভাবে বহুমাত্রিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাট, যাকে একসময় ‘সোনালি আঁশ’ বলা হতো, বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশ পাট উৎপাদনে ভারতের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রপ্তানিকারক। হাজার হাজার কৃষক ও শ্রমিক পাট উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে যুক্ত।
’
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশের পাট খাত ছিল এককভাবে সর্ববৃহৎ রপ্তানি আয়কারী খাত। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে এর অংশ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে (১৯৭০-এর দশকের শুরুতে প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে আজ প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে) এবং এর স্থান দখল করেছে প্রধানত তৈরি পোশাক খাত। তবু পাট তৈরি পোশাকের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে রয়ে গেছে, যা মোট রপ্তানি মূল্যের প্রায় ৩ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশ প্রদান করে।
প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছু টানাপোড়েন থাকবেই। কিন্তু টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে কেবল কঠিন বাণিজ্যনীতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কূটনীতি, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা। যদি বাংলাদেশ ও ভারত আস্থাভিত্তিক ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার পথ বেছে নেয়, তবে এই সম্পর্ক সমগ্র অঞ্চলের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল মডেল হয়ে উঠতে পারে।
ভারত বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের সর্ববৃহৎ রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি করা পাটজাত পণ্যের ৯৯ শতাংশ স্থলবন্দর দিয়ে যেত। ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পাটজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা পরিবহন খরচ ও সময় বৃদ্ধি করবে।
পরিবহন সময় দুই–তিন দিনের পরিবর্তে ছয়–আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে, যা ভারতে রপ্তানিকে আরও কঠিন করে তুলবে। স্থলবন্দর বন্ধ হওয়ায় রপ্তানিকারকদের নতুন রুট ও লজিস্টিকস খুঁজে বের করতে হবে, যা ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়াবে।
তাই ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের পাট রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এবং এই খাতের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের জন্য তা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। অধিকন্তু ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের মধ্যে পণ্যপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা গত কয়েক দশকে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪.
বাংলাদেশ–ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয় ১৯৭২ সালে একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে। এর পর থেকে এই সম্পর্ক ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।
২০১৫ সালের বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত হাট, ট্রানজিট সুবিধা এবং বন্দর ব্যবহারের নতুন সুবিধা যুক্ত হয়। ২০১৭ সালে সীমান্ত হাট স্থাপনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি নৌপথ, রেলপথ এবং সড়কপথে সংযোগ বৃদ্ধির জন্য একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, যা আঞ্চলিক সংযোগ ও যোগাযোগ এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়ক।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর বাণিজ্যিক সংযোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত একাধিক আঞ্চলিক ট্রানজিট ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বাণিজ্য সহযোগিতার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তি এবং ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের পথ সুগম করেছে। ২০০০ সালের পর ভারত একতরফাভাবে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি আসে।
২০১১–২০১৫ সালের মধ্যে ভারত ৬১টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়, যার মধ্যে ৪৬টি তৈরি পোশাক পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের ডিউটি ফ্রি ট্যারিফ প্রেফারেন্স (ডিএফটিপি) স্কিম উপভোগ করছে। এই ইতিবাচক অগ্রগতিই পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করে।
এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০১৩ সালে দুই দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড সংযুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে, যার মধ্যে রয়েছে আদানি গ্রুপের ঝাড়খন্ড প্ল্যান্ট (১,৪৯৬ মেগাওয়াট), বহরমপুর (১,০০০ মেগাওয়াট) এবং ত্রিপুরা (১৬০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ছাড়া খুলনায় নির্মিত ১,৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবহার করে। এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের প্রথম সফল উদাহরণ, যা আঞ্চলিক সংযোগ ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ যদিও চলমান, এই ধরনের উদ্যোগগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক আন্তনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন
ভারত ‘তুমি রিয়েলিটি মাইন্যে ন্যাও’
০৪ ডিসেম্বর ২০২৪
ভারত ‘তুমি রিয়েলিটি মাইন্যে ন্যাও’
৫.
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। গত দুই দশকে বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও লজিস্টিক জটিলতা সম্পর্কে সংকট তৈরি করেছে। অথচ এই সম্পর্কের ভিত্তি কেবল অর্থনীতি নয়—নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, পর্যটন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যখন ট্রাম্পের রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ নীতির কারণে অনিশ্চয়তা ও চাপ বাড়ছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। ঠিক সেই সময়ে ভারতের একতরফা অশুল্ক বাধা আরোপ কেবল কূটনৈতিকভাবে অযৌক্তিক নয়, বরং আঞ্চলিক ঐক্যের পরিপন্থী।
এতে সংকট প্রশমিত না হয়ে আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব জন্ম নিচ্ছে। ফলে ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ভারতের দায়িত্ব অনেক বেশি।
কারণ, বাংলাদেশ যেমন ভারতের বাজার, কাঁচামাল ও আঞ্চলিক সংযোগে নির্ভরশীল, তেমনি ভারতও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল—বাজার সম্প্রসারণ, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক শান্তি–স্থিতিশীলতার জন্য।
প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছু টানাপোড়েন থাকবেই। কিন্তু টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে কেবল কঠিন বাণিজ্যনীতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কূটনীতি, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা। যদি বাংলাদেশ ও ভারত আস্থাভিত্তিক ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার পথ বেছে নেয়, তবে এই সম্পর্ক সমগ্র অঞ্চলের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল মডেল হয়ে উঠতে পারে।
গোলাম রসুল অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা।