কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

আটটির মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ এত কম কেন

মোছাব্বের হোসেনআমেরিকা [সূত্র : প্রথম আলো, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

আটটির মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ এত কম কেন

৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থী। গত আটটি বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখলাম, সাধারণ বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে কম এবার উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর কারণ জানার চেষ্টা করছি।

 

 

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে এ বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন বলেছেন, এক বছরে একটি বিসিএস শেষ করার চাপ নিয়ে কাজ করছে পিএসসি। বিগত সরকারের পতনের পরে পিএসসি নতুন করে গঠিত হলে এ দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। কিন্তু গত এক বছরে নতুন গঠিত পিএসসি এক বছরে বিসিএস শেষ করার কোনো চমক দেখাতে পারেনি; বরং নানা জটিলতা আর আন্দোলনে আরও পিছিয়ে পড়েছে। নতুন করে পিএসসি গঠিত হওয়ার পরপরই ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ফলাফল আবার নতুন করে প্রকাশ করে। এতে আগের ১০ হাজার ৬৩৮ প্রার্থীর সঙ্গে নতুন করে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ পান আরও ১০ হাজার ৭৫৯ প্রার্থী। মোট উত্তীর্ণ হন ২১ হাজার ৩৯৭ জন। যা ছিল গত ১০ বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

 

 


কেন এবার কম প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন

 


৪৬তম বিসিএস নিয়ে অনেক সময় চলে যাচ্ছে পিএসসির। এই ধারণা থেকেই এবারের ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে পিএসসি বলছে, অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কম প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার কাজটি শুরু করে বিগত সোহরাব হোসাইন কমিশন। ওই কমিশনের একজন সচিব আমাকে তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, বেশি প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করলে পিএসসি হিমশিম খায়। সবচেয়ে বেশি সময় লাগে লিখিত পরীক্ষা নিতে ও খাতা দেখতে। তিনি বলছিলেন, এতে পিএসসি বা প্রার্থী কেউ লাভবান হয় না। প্রার্থীর ফল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, আবার পিএসসির এসব কাজে অনেক সময় লেগে যায়। প্রথম পরীক্ষক খাতা দেখেন, দ্বিতীয় পরীক্ষক দেখেন; আবার কোনো কোনো সময় এই খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে যায়। তাতে আরও সময় লাগে। এই পরীক্ষকেরা অনেকে খাতা ঠিক সময়ে জমা দেন না, আবার ফোনও ধরেন না। এ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। বারবার খাতার জন্য পিএসসিকে বেগ পোহাতে হয়। আবার লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের ভাইভাতেও অনেক সময় চলে যায়। বোর্ড থাকে কম। লোকবল কম। অথচ সবার ভাইভা নিতে হয়। আবার প্রার্থীদের অনেকে পাস করেও চাকরি পান না। হতাশ হয়ে পড়েন। আবার অনেক সময় ধরে ফল প্রকাশ করা, কোনো কোনো সময় চার বছরের বেশি সময় লেগে যায়। পিএসসি গালি খায়। সেই প্রার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এখানেই এক চাকরির পেছনে চলে যায়।

 

 

তাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এবার অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে পিএসসি। কম প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখতে তুলনামূলক কম সময় লাগা, ভাইভায় কম মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়। ফল দিতেও কম সময় লাগবে। আর কোনো প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যোগ্য না হলে আরেক বিসিএসের জন্য বা অন্য চাকরির জন্য চেষ্টা করতে পারবেন। তিনি শুরুতেই জেনে গেলেন তাঁকে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে। ভাইভা দিয়ে পাস করেও চাকরি না পেলে যে হতাশা কাজ করবে, শুরুতে প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যোগ্য না হলে সেই হতাশা কিছুটা হলেও কম হবে। এসব মাথায় রেখে এবারের ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশে পিএসসি ইতিহাসও গড়েছে। এটিই সবচেয়ে কম সময়ের ফল। এ পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র ১০ দিন পরই এবার ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ল প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ৪৬তম বিসিএসে ১৩ দিনে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়। এই মডেলে এখন থেকে কাজ করবে পিএসসি। এক বছরে বিসিএস শেষ করার অন্যতম এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পিএসসি।

 

 


পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, তাঁদের চালু করা ‘সার্কুলার সিস্টেম’ নামে নতুন ব্যবস্থায় প্রতি এক বছরেই একটি বিসিএস শেষ করা সম্ভব। তবে এতে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো কমিশনের প্রশাসনিক এবং আর্থিক স্বাধীনতা না থাকা। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পিএসসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের রূপান্তর: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সামনে এগোনোর পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অধ্যাপক মোবাশ্বের এ কথাগুলো বলেন। পরীক্ষাপদ্ধতির কালক্ষেপণ কমানোর লক্ষ্যে একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে কমিশন। যেটিকে তাঁরা বলছেন ‘সার্কুলার সিস্টেম অব ইভ্যালুয়েশন’। প্রতি এক বছরে একটি বিসিএস পরীক্ষা শেষ করতে চাইলে এই ‘সার্কুলার সিস্টেমে’ যেতে হবে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে এটি করে দেখেছেন এবং এখন পুরোদমে এই ব্যবস্থায় খাতা দেখা হচ্ছে।

 

 

আট বিসিএসের প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ চিত্র

 


৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থী।  ৪৬তম বিসিএস ২১ হাজার ৩৯৭ জন। ৪৫তম বিসিএসে ১২ হাজার ৭৮৯ জন। ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৭০৮ পরীক্ষার্থী। ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ ১৫ হাজার ২২৯ প্রার্থী। ৪১তম বিসিএসের ২১ হাজার ৫৬ জন উত্তীর্ণ হন। ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়  উত্তীর্ণ হন ২০ হাজার ২৭৭ জন প্রার্থী। ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১৬ হাজার ২৮৬ জন প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন। ৩৯তম, ৪২তম ও ৪৮তম বিসিএস বিশেষ বিসিএস ছিল।